শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

অননুমোদিত ক্যাম্পাসে ভর্তির দায় নেবে না মন্ত্রণালয়

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

অননুমোদিত ক্যাম্পাসে ভর্তির দায় নেবে না মন্ত্রণালয়

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে কর্মরত বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ওসব ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দায় নিতে রাজি নয়। এজন্য দেশের ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভালো করে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরামর্শ দিয়েছে সরকার। সারাদেশে ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬৫টি অবৈধ ক্যাম্পাস রয়েছে। কেউ কেউ আদালতের স্থগিতাদেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ওসব ক্যাম্পাস চালাচ্ছে। আবার কেউ সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনেই পরিচালনা করছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। ইউজিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবৈধ ক্যাম্পাস এবং এ ধরনের ক্যাম্পাস পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে আরো বেশি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অবৈধ ক্যাম্পাস আছে। আর সারাদেশে  অবৈধ শাখা ক্যাম্পাস আছে ১৮৯টি। অবৈধ ক্যাম্পাস পরিচালনাকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, বিজিসি ট্রাস্ট, আন্তর্জাতিক ইসলামী ইউনিভার্সিটি অব চিটাগাং (আইআইইউসি), সাউদার্ন, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস), সোনারগাঁও এবং নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি।  তাছাড়াও আছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, দারুল ইহসান এবং ইবাইস ইউনিভার্সিটি। এগুলোর মধ্যে শেষের তিনটি আদালতের স্থিতাদেশ নিয়ে চলছে। তাছাড়া বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির অবৈধ দুটি ক্যাম্পাসের মধ্যে একটির স্থিতাদেশ আছে। ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৬৫টি অবৈধ ক্যাম্পাস আছে। এর মধ্যে বিজিসি ট্রাস্টের ২টি ছাড়াও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি, সাউদার্নের ৭টি, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের ২টি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ১টি, নর্দান ইউনিভার্সিটির ১টি, আমেরিকা-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ১৬টি, দারুল ইহসানের ২৯টি এবং ইবাইস ইউনিভার্সিটির ২টি।

সূত্র জানায়, ইউজিসির পক্ষ থেকে মোট ৫ ধরনের ইউনিভার্সিটির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ওসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্যাদি যাচাই-বাছাইপূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেয়া হলো। অনুমতিবিহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাসে ভর্তি হলে তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ইউজিসি নেবে না। ওই ৫ ধরনের ইউনিভার্সিটি হচ্ছে, আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে ক্যাম্পাস পরিচালনাকারী, অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনাকারী, সরকার কর্তৃক বন্ধ ঘোষিত তবে আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে পরিচালনাকারী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম তদন্ত চলছে। সমস্যা সংবলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা পরবর্তীকালে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র আরো জানায়, বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র আর্থিক লাভের জন্য অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। প্রায় এক দশক ধরে সরকারের সিদ্ধান্তে বন্ধ থাকা কুইন্স ইউনিভার্সিটির নামে সম্প্রতি একটি পক্ষ ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমোদন নেয়। মিরপুরের শেওড়াপাড়ার ঠিকানায় ওই অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু ইউজিসি পরে জানতে পারে, মূল মালিক ওই অনুমোদন পাননি। এ নিয়ে নানা টানাপোড়েনের পর অনুমোদন আদেশ স্থগিত করা হয়। এমনকি ইউজিসির ওয়েবসাইটে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা প্রকাশের পর তা প্রত্যাহার করা হয়। তাছাড়া অতীশ দীপঙ্কর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন প্রিমিয়ারসহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও জটিলতা চলছে। তা নিয়ে ইউজিসিতে কাজ চলছে। তাছাড়া মিরপুরের প্রাইম ইউনিভার্সিটির নামে একসময়ে উত্তরায় একটি অবৈধ ক্যাম্পাস ছিল। আদালতের রায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুলিশ দিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ওই গ্রুপটি এখনো সেখানে অবৈধ ক্যাম্পাস চালাচ্ছে এবং সেখানে এখনো ওই ইউনিভার্সিটির সাইনবোর্ড ঝুলছে।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে অনেক টাকা খরচ হয়। তাই অভিভাবকরা যাতে প্রতারিত না হন সেজন্য ইউজিসির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অনেকেই তথ্য জানেন না। এটা অনেকটাই ইউজিসির নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। ইউজিসি এ কাজ অব্যাহত রাখবে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩