শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

অনিশ্চয়তায় কমিউনিটি ক্লিনিক বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাকরি

সোনালীনিউজ রিপোর্ট | সোনালীনিউজ অনলাইন
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

অনিশ্চয়তায় কমিউনিটি ক্লিনিক বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাকরি

অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য খাতের কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প এবং তাতে কর্মরত হাজার হাজার কর্মীর চাকরি। কারণ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের কর্মীদের চাকরি মেয়াদ আগামী জুনেই শেষ হয়ে যাবে। ফলে জুনের পরই কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কর্মীর চাকরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এ অবস্থায় কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কর্মীরা তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। আর দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ওই কর্মীরা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ওই আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও অনেক কমিউনিটি ক্লিনিকেই সেবা দিতে তারা আর ফেরেননি।
ফলে স্বাস্থ্য খাতে বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে মডেল হয়ে ওঠা বাংলাদেশ এই প্রকল্প নিয়ে এখন সমস্যায় পড়েছে। কারণ আইনি জটিলতার কারণেই হেলথ প্রোভাইডার কর্মীদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সারাদেশে সাড়ে ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা উদ্বোধন করেন। আর ২০০১ সাল পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার ৭২৩টি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর ওই প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে আবারো প্রকল্পটি চালু করে। ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত।
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত উন্নয়ন (এইচপিএনএসডিপি) কর্মসূচির আওতায় ২০১৬ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত কর্মীদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু রাজস্ব খাতে জনবল স্থানান্তরের বিষয়েও অর্থ মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক মতামত দেয়নি।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ২০১৩ সালের হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী ২০১০ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ২ কোটি ৩৬ লাখ, ২০১১ সালে ৩ কোটি ৭২ লাখ, ২০১২ সালে ৭ কোটি ২২ লাখ এবং ২০১৩ সালে ৯ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ সেবা নিয়েছে। চলতি মাস পর্যন্ত প্রায় ৪২ কোটি মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিয়েছেন।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিনামূল্যে ৩২ ধরনের ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা ও পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ দেয়া হয়। কিছু ক্লিনিকে প্রসবকালীন সেবাও দেয়া হচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার বাংলাদেশের এই উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান বাংলাদেশ সফরকালে কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ পরিদর্শন করেছেন। তারা এই উদ্যোগকে বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সূত্র আরো জানায়, কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের ব্যাপারে আন্দোলনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে তাদের চাকরি জাতীয়করণের আশ্বাস দিয়েছিল। সেজন্য বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) লেখা ও সার্ভিস বুক খোলার নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু তারপর ৩ বছরেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। তবে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়েছে।

ফলে ওই সময়ের আগে আর কোনো সমস্যা হবে না। পাশাপাশি কমিউনিটি প্রকল্পকে অন্য প্রকল্পে নেয়ারও চেষ্টা চলছে। এদিকে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের জনবল রাজস্ব খাতে নেয়ার সুযোগ নেই। পিআইপির অসংখ্য প্রকল্প আছে যাদের জনবল নিয়োগ চুক্তিভিত্তিক। কারণ এক প্রকল্পের জনবল রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হলে অন্যরা একই সুবিধা চাইবে।
সেজন্যই সরকার সে পথে যাচ্ছে না। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পকে কমিউনিটি হেলথ বেজড নামে আরেকটি প্রকল্পে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। কিন্তু অনুমোদন না থাকায় ওই পপ্রকল্পে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। উপরন্তু রাজস্ব খাতে নেয়ার চেষ্টাও সফল হচ্ছে না। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হক জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে নানা চিন্তা-ভাবনা চলছে। বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত এই প্রকল্পটি চালু রেখে যাতে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায় সেজন্য সরকার সচেষ্ট।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রেইন চাইল্ড। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি সারাবিশ্বের কাছে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। তাই কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার বিষয়টি অবান্তর। বরং কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম কীভাবে আরো ভালো করা যায় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে একে অন্য প্রকল্পে স্থানান্তর করা হবে। কাজেই চাকরি নিয়ে কর্মীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩