শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

লুটপাট প্রকল্পের টাকা

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিন

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিন

সরকারের নানা প্রকল্পের নামে টাকা লুটপাটের ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই নতুন নতুন প্রকল্প আসে। বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ করা অর্থের যথেচ্ছা ব্যবহার হয়। নামমাত্র কাজ করে, এমনকি কাজ না করেও অর্থ লুটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কোনোভাবেই এই লুটপাট বন্ধ করা যাচ্ছে না। সরকারের প্রকল্পে নির্মিত ভবন ধসে যাচ্ছে বছর না যেতেই। রাস্তায় দেখা দিচ্ছে ফাটল।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিবেদনে উন্নয়ন প্রকল্পের নানা অনিয়মের খবর উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে হয়েছে প্রতিবেদনে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, শুরুতে তার অর্থ ছাড় করাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আগ্রহের কমতি থাকে না। তবে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ নয়, সরকারের অর্থের দিকেই সংশ্লিষ্টদের নজর। এর কারণও আছে।

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ খরচের পর সন্তোষজনকভাবে হিসাব দিতে হয়। প্রকল্প চলাকালে তাদের নজরদারিতে থাকতে হয়। কিন্তু সরকারি অর্থের কোনো জবাবদিহি নেই। উন্নয়নের নামে নয়ছয় করলেও কারো কাছে হিসাব দিতে হয় না। কোথাও কোনো নজরদারি নেই। ফলে এডিপিতে বরাদ্দ করা সরকারি অর্থের দিকেই সবার দৃষ্টি থাকে। অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগীদের টাকা খরচ না করে ফেরত দিতে চায় সবাই। ঋণের টাকার জবাবদিহিতে যেতে কারো আগ্রহ নেই। সবাই সরকারি অনুদানের টাকায় উন্নয়নে আগ্রহী।

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে নিয়ম মেনে চলতে হয়। খরচের হিসাব ও কাগজপত্রে স্বচ্ছতা থাকতে হয়। যেকোনো অস্বচ্ছতায় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে সরকারের প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় করার পরও শাস্তির কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়নি। এমন নয় যে প্রকল্পে অনিয়ম দেখা যাওয়ার পরও কোনো তদন্ত হয়নি। প্রতিবারই তদন্ত হয়, প্রতিবেদন হয়, প্রতিবেদনে সুপারিশও থাকে; কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। বাস্তবায়িত হয় না তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সুপারিশ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না। পার পেয়ে যায় অভিযুক্তরা। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নতুন করে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ পান। সাধারণ মানুষ প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে কোনো প্রকল্পের সুফল সাধারণের জন্য দৃশ্যমান হবে না। শুধু বছরের পর বছর, একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের নামে অর্থ ব্যয় হবে। সে অর্থের বেশির ভাগ চলে যাবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পকেটে। ঠিকাদার থেকে কর্মকর্তা- সবাই লাভবান হলেও যাদের জন্য প্রকল্প, তাদের কোনো কাজে আসবে না। সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রকল্পের টাকা লুটপাট বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে।

অতীতে যেসব তদন্ত হয়েছে, সেগুলোর আলোকে ব্যবস্থা নিতে পারলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের টাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানী হবে। অন্যদিকে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই প্রকল্পের নামে লুটপাট বন্ধ করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

সোনালীনিউজ/ঢাকা