শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

অল্প বৃষ্টিতেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

অল্প বৃষ্টিতেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

একটু ভারি বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা। আর রাজধানীর নিচু এলাকাগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। এতে অসহনীয় দুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী।

সূত্রমতে, নগরীতে ওয়াসার পানি নিষ্কাশনের ২৯০ কিলোমিটার ব্যবস্থা রয়েছে, তার ড্রেনেজ লাইনগুলোয় ঘণ্টায় মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি ধারণ করতে পারে। অথচ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই প্রতিদিন গড়ে ১০ মিলিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয়। আর এই একটু-আধটু বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক স্থান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। প্রত্যেক বর্ষায় জলাবদ্ধতার চিত্র নিয়মিত হয়ে দাঁড়ানোতে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। তবে, দুটি সংস্থাই দায় চাপায় এক অন্যের ওপর।

ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে রাজধানীর খাল ও নিম্নাঞ্চলগুলো ভূমিদস্যুদের থেকে দখলমুক্ত করার সাথে সাথে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা একক সংস্থার হাতে অর্পণ করতে হবে। আর ঢাকা ওয়াসার উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেন, যতটুকু পানি ব্যবস্থাপনা হচ্ছে, সেটি ঢাকা ওয়াসাই করছে, আর কেউ করছে না। যদিও এটি ঢাকা ওয়াসার কাজ নয়।

ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, এক সময় রাজধানীর ৬৫টি খালের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে পানি নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু ভূমিদস্যুদের আগ্রাসনে সেই সংখ্যা এখন ১৩ তে এসে দাঁড়িয়েছে। তাই জলাভূমি ও খালগুলোকে দখলমুক্ত করলে এবং পানির পাইপলাইনগুলোকে বর্জ্য থেকে মুক্ত রাখলে ঢাকার এই সমস্যা ৮০-৯০ শতাংশ সমাধান হয়ে যাবে। এসব খাল দখলমুক্ত করতে উত্তর সিটি করপোরেশন সরব হলেও দক্ষিণ জানাচ্ছে তার অসহায়ত্বের কথা। দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, লক্ষ লক্ষ দালানকোঠা রয়েছে। এগুলোকে ভেঙ্গে পানির প্রবাহের জায়গাটুকু করে দেয়া অলমোস্ট ইম্পসিবল। ডিসিসি উত্তরের মেয়র আনিসুল হক বলেন, খালগুলো কিছু কিছু সরকারি এবং বেসরকারি হাউজিংগুলো দখল করে ফেলেছে। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখবো, এটি হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় ওয়াসা ও ডিসিসি ছাড়াও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) বেশ কিছু সংস্থার ভূমিকা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ডিসিসি ও ওয়াসার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ডিসিসি ও ওয়াসার কাজে বরাবরই ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ওয়াসা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভালোভাবে পানি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন করেনি। কল্যাণপুর ও নারিন্দায় ওয়াসার স্থায়ী নিষ্কাশন কেন্দ্র রয়েছে। বর্ষা আসার আগে সব ধরনের নর্দমা ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং খালগুলো পুরোপুরি খনন করে পানি চলাচলের ব্যবস্থা না করা হলে আরো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর রাস্তাগুলোর দুই ধারে ডিসিসির ভূ-উপরিস্থ প্রায় আড়াই হাজার নর্দমার বেশির ভাগই দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না। এ কারণে ওয়াসার নিষ্কাশন নালা-নর্দমাও ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। বেশির ভাগ এলাকার নর্দমায় পলিথিন, জালি ও অন্যান্য বর্জ্য জমছে। ডিসিসি সময়মতো সেগুলো পরিষ্কার না করায় ওয়াসার ভূগর্ভস্থ নর্দমায় গিয়ে পড়ছে। একারণে অল্প বৃষ্টিতেই নগরীতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া না হলে আগামী বর্ষাতেও রাজধানীবাসীকে পোহাতে হবে চরম দুর্ভোগ।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩