বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

আইএস বিতর্ক : একের পর এক কুপিয়ে হত্যা

সোনালীনিউজ রিপোর্ট | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

আইএস বিতর্ক : একের পর এক কুপিয়ে হত্যা

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানে কিছুদিন আগে কুপিয়ে হত্যা করা হয় একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে। এর রেশ না কাটতেই চলতি মাসেই কুষ্টিয়ায় একই কায়দায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় হোমিও চিকিৎসক মীর সানাউর রহমানকে (৫৮)। কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে সানাউরের সঙ্গে থাকা কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামানকে (৩৮)।

চলতি বছরের গত পাঁচ মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের ১৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে হিন্দু মঠের পুরোহিত, সাধু, বৌদ্ধ ভিক্ষু, ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান, শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা, পীরের অনুসারী, দরজি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, মার্কিন সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা ও সমকামী অধিকার আদায়ের কর্মী রয়েছেন। 

এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক দুই জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ও আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার নামে দায় স্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দেশীয় দুই জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি ও আনসার আল ইসলাম (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এসব ঘটনায় জড়িত বা প্রধান সন্দেহভাজন। এর মধ্যে চলতি মাসের গত ২০ দিনেই তিনটি হামলা হয়েছে।

৬ মে রাজশাহীর পবা উপজেলায় পীর হিসেবে পরিচিত মো. শহীদুল্লাহর (৬৫) গলাকাটা লাশ পাওয়া যায় তানোরের একটি আমবাগানে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাচ্ছিলেন, পথে দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে। এরপর ১৪ মে বান্দরবানে বৌদ্ধবিহারের ভিক্ষুকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ কুষ্টিয়ার ঘটনায় জঙ্গী গোষ্ঠী আইএসের দায় স্বীকার করার কথা জানিয়েছে ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। তবে এসব কোনো ঘটনারই এখন পর্যন্ত ক‚লকিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে, দেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) আছে কি নেই এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে একের পর এক হামলা চলছেই। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো আইএস নেই। কিছু জেএমবি ধরা পড়ে, আবার ছাড়া পায় তারাই এসব করছে। 

এদিকে গতমাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম, কাশিমপুর মহিলা কারাগারের সাবেক প্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলী ও রাজধানীর কলাবাগানে নিজ বাসায় দুই বন্ধু জুলহাজ মান্নান ও তনয় মজুমদার খুন হন। এর আগে গত মার্চ মাসে রাজধানীর সুত্রাপুরে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিম উদ্দিনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ইসলামপুরের ঝব্বু খানম জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনকেও মসজিদে ঢুকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এছাড়া কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক স্কুলশিক্ষককে কুপিয়ে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। যেগুলোর কয়েকটিতে আইএসের দায় স্বীকার করার কথা জানিয়েছিলো ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’। এয়াড়াও অদূর অতীতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চককানু গ্রামে বন্দুকধারীরা শিয়া সম্প্রদায়ের একটি মসজিদে এশার নামাজের প্রস্তুতিকালে মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন নিহত এবং ইমামসহ তিনজন গুরুতর জখম হন। এই হামলার দায়ও স্বীকার করে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট।

বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ এমনটাই বলে। ওয়েবসাইটটি আইএসের এই দাবির কথা জানায়। এর আগেও দুই বিদেশি হত্যা ও পুরনো ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে হামলার ঘটনায় আইএসের দায় স্বীকার করার কথা জানিয়েছিল ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’।

এর আগে, গত বছর অক্টোবর মাসের ২৩ তারিখে পুরনো ঢাকার হোসেনি দালানে ঘটে বোমা হামলার ঘটনা। সেই হামলার প্রধান সমন্বয়কারী মাহফুজ ওরফে শাহাদাত ওরফে আলবানী পরে রাজধানীর গাবতলী এলাকায় ডিবির সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পুলিশের দাবি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একটি অংশ ওই হামলা চালায়। নিহত আলবানী জেএমবির ওই অংশটির সামরিক প্রধান।

পুলিশের দাবি, জামায়াত-শিবির থেকে আসা একদল নতুন সদস্য জেএমবির ওই অংশটির অর্থ জোগান দিয়ে আসছে। ওই অংশটিই গত বছরের ৪ নভেম্বর আশুলিয়ায় একটি তল্লাশি চৌকিতে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরাই গত গত বছরের এপ্রিল মাসে আশুলিয়ার কমার্স ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির চেষ্টা চালিয়ে সাতজনকে হত্যা করেছিল বলে তখন দাবি করেছে পুলিশ।

রংপুরে কুপিয়ে মাজারের খাদেমকে হত্যা এবং সৈয়দপুরে ইমামবাড়ার খাদেমকে জখম করার সঙ্গেও এই অংশটির সদস্যরা জড়িত বলে দাবি পুলিশের। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলাম বলেছেন, সাম্প্রতিককালে যে ঘটনাগুলো ঘটছে এর সঙ্গে শিবির থেকে আসা জেএমবির একটি অংশের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এদের বেশ কিছু সদস্য পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে। এখনো অনেক সদস্য বাইরে রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, জামায়াত শিবিরের কাছে থেকেই তারা আপাতত ফান্ড পাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩