রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

আইএস শিবিরে শিশুদের জীবন!

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৪৩ পিএম

আইএস শিবিরে শিশুদের জীবন!


সোনালীনিউজ ডেস্ক

আইএস শিবিরের কিভাবে কাটে শিশুদের জীবন একথা হয়ত আমরা অনেকেই অনুমান করতে পারি মোটই ভাল নয়। বাস্তবেও তাই। এমনকি অনেক সময় তা মানুষের কল্পনাকে হার মানায়।

১২ বছরের শিশু নাসির। আইএস জঙ্গিরা তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল একজন আত্মঘাতি যোদ্ধা হিসেবে। কিন্তু তার ভাগ্য ভালো এজন্য সে আইএসের থাবা থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছে। বর্তমানে নাসির তার পরিবারের সাথে কুর্দিস্তানের একটি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।

একমাএ নাসির নয়, এমন আরো অনেক শিশুকেই আইএস আত্মঘাতি যোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আইএস শিবিরে কেমন কাটে শিশুদের জীবন  সিএনএনকে দেয় এক সাক্ষাৎকারে সে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নাসির।এটা তার আসল নাম নয়,ছদ্দনাম।

নাসির জানায়, তার মতো আরও ৬০ জন শিশুকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে আইএস। প্রতিনিয়ত অনেক প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করতে হয় এসব শিশুকে। নাসিরের ভাষায়, ‘সবচেয়ে ভয়াবহ সময় ছিল, যখন বিমান থেকে বোমা হামলা করা হতো। তখন ওরা আমাদের মাটির নিচে বিভিন্ন সুরঙ্গে নিয়ে যেত। ওরা আমাদের বলত, আমেরিকানরা আমাদের হত্যা করতে চায়। আর ওরা আমাদের ভালোবাসে।

নাসিরদের দলে সবচেয়ে ছোট ছিল পাঁচ বছরের একটি শিশু। তাদের সবাইকেই প্রশিক্ষণ দিত আইএসের যোদ্ধারা। এমনকি কাঁদতেও পারত না এসব শিশু। আইএসের স্বঘোষিত রাজধানী রাক্কাতে তারা স্থাপন করেছে একটি প্রশিক্ষণ শিবির। আল-ফারুক নামের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে শিশুদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয় আইএস।

আইএসের কবল থেকে পালিয়ে আসা আরেক শিশু ১১ বছরের নুরি। উত্তর ইরাকে আইএসের তেল আফার ক্যাম্পে ছিল সে। অন্যদের সাথে প্রশিক্ষণে যেতে সে প্রথমে অস্বীকার করেছিল। আর এ কারণে আইএস তাকে নির্মমভাবে প্রহার করেছে। তার পা ভেঙে দিয়েছে। তবু তার ভাগ্য ভালো, সে পালিয়ে তার পরিবারের কাছে আসতে পেরেছে।  

এভাবে নিজেদের রাজ্যে বাস করা শিশুদের ওপর আইএস তাদের কঠোর সব বিধিবিধান চাপিয়ে দেয় । না মানলেই করা হয় নির্যাতন। নিজের পরিবারের ফিরে আসাকে ‘জীবনে ফিরে আসা’ বলে আখ্যায়িত করেছে নাসির। তার মতে, এটা যেন নরক থেকে মুক্তি। 

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩