রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

আউশ উৎপাদনে ১২ হাজার টাকারও বেশি সহায়তা পাচ্ছে কৃষ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

আউশ উৎপাদনে ১২ হাজার টাকারও বেশি সহায়তা পাচ্ছে কৃষ

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

আউশ ধান উৎপাদনে প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দেয়া শুরু করেছে সরকার। কৃষকদের সরকরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেয়া হচ্ছে। আর বিঘাপ্রতি সেচ খরচ বাবদ দেয়া হচ্ছে ৪শ’ টাকা।

ইতিমধ্যে সরকারি এই প্রণোদনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলাসহ ৫৪ জেলার ২ লাখ ৩২ হাজার ৩৬৩ জন প্রান্তিক কৃষকের তালিকাও করা হয়েছে। এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি এমপি সার ও সেচ বাবদ ৪শ’ টাকা দেয়া হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারের পক্ষ থেকে গত মাসেই ৩৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার এই প্রণোদনা ঘোষণা করে। তবে কৃষকের জমির সেচ খরচের টাকা সরাসরি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। মূলত আউশ উৎপাদনে বোরো ধানের চাষের চেয়েও বেশি পানি, সার ও বীজ লাগে। এজন্য কৃষকদের আউশ ধানের চাষে বেশি উৎসাহিত করতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আগে পাহাড়ি এলাকার চাষীরা এজন্য কোনো সহায়তা পেতো না।

এবার তিন পার্বত্য জেলার জুমচাষিদেরও আউশ-প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। জুমচাষিরা বিনা মূল্যে নেরিকা প্রজাতির ধানবীজ ও সার পাবে। এই জাতের ধান চাষ পরীক্ষামূলক। সফল হলে এর চাষ অব্যাহত রাখা হবে।

সূত্র জানায়, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে পার্বত্য জেলাগুলো ছাড়াও অন্যান্য অঞ্চলেও নেরিকা জাতের আউশ ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে বগুড়ার নন্দীগ্রামে আউশ এলাকা সম্প্রসারণ ও নেরিকা জাতের ধান চাষের জন্য ২ হাজার ১১৫ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার প্রায় দুই লাখ কৃষককে প্রণোদনার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষকরা যাতে বঞ্চিত না হয় সেজন্য ইউনিয়ন কৃষি পুনর্বাসন কমিটি পুনর্গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা দায়িত্ব নেয়ার আগ পর্যন্ত ওই কমিটি সহায়তা দেয়ার সব কাজ করবে। ওই কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা। সরকারের এই প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ৭০ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন উফশী এবং ১০ হাজার ৩৩ মেট্রিক টন নেরিকা ধান উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে আউশ চাষে সরকারি প্রণোদনা প্রদান প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন জানান, অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রণোদনার টাকা ছাড় করেছে এবং সার, বীজ ও সেচের টাকার বিতরণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব জেলায় উপকরণ ও টাকা পৌঁছে গেছে। তবে প্রণোদনা নীতিমালা অনুযায়ী সার ও বীজ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিতে হবে। প্রতি পাঁচজন কৃষকের একটি গ্রুপকে সার-বীজ দেয়া হবে, যাতে বস্তা ভাঙতে না হয়।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) চৈতন্য কুমার দাস বলেন, আউশ ধান চাষে পানি খরচ কম হয় বিধায় সরকার এর চাষে কৃষকদের উৎসাহ জোগাচ্ছে। এর ফলে একদিকে নেরিকা জাতের ধানের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশের সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩