শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

আগামী ভার্চুয়াল বছরের ফেসবুকীয় বাজেট!

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

আগামী ভার্চুয়াল বছরের ফেসবুকীয় বাজেট!

সেই সকাল হইতে হাতখানা যতটা নিসপিশ করিতেছে তাহা হইতে অধিক বেশি হুতাশ করিতেছে অকর্মণ্য মস্তিষ্কখানা! তিনি নাকি জানিয়াছেন, আজিকে রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী মান্যবার আবুল মাল সাহেব রাষ্ট্রের আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রকাশ করিয়াছেন। তাই তিনি সকাল থেকে আমাকে যাতনা করিয়া শুধুই বাজেট প্রকাশের জন্য তাড়া দিয়ে চলিতেছেন। কিন্তু এই অধম ভাবিয়া পাইতেছে না তাহার বাজেট ঘোষণা করিবার ক্ষমতা কোথায়! এমন ত্যানাপ্যাচানো কথা বলিলে তো আর বাজেট ঘোষণার কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যাইবে না, তাই আজগুবি হইলেও বাজেট ঘোষণা করিতেই হইবে। তবে বাজেটের রূপ-রেখা কেমন হইবে তাহা বলিবার পূর্বে এক পলকে রাষ্ট্রের বাজেট হইতে ঘুরিয়া আসি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটের পরিমান ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। ইহা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য মাত্রা ৭.২ নির্ধারণ করা হলেও ঘাটতি অর্থের  পরিমান প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বাজেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতির খাতায় রাখিয়া অর্থমন্ত্রী মহোদয় কিরূপে তাহার উদ্দেশ্য সাধণ করিবেন তাহা তিনিই ভালো বুঝবেন। শিক্ষা ও কৃষকের চেয়ে রাস্তাঘাটে বেশি বিনিয়োগ করিয়া রাষ্ট্র কিভাবে দৌড়াইয়া চলিবে তাহা রাষ্ট্রই ভাবুক। এখন আমার বাজেট  ঘোষণা পর্বে ফিরিয়া যাওয়া যাউক।  

বাজেটের সহিত টাকা পয়সার সংযোগটি খুব বেশি মানানসই। কিন্তু আমার তল্পিতল্পা তালাশ করিয়া দেখলাম তাহাতে ১৩ টাকা ৭৬ পয়সার বেশি পুঁজি নাই। অবশেষে মনে পড়িল, অর্থ সম্পর্কীয় ব্যাপার নিয়ে আমার বাজেট কোন কাজে আসিবে না কেননা উহা এখনো আমার বাপজান নির্ধারণ করিয়া থাকেন। এখন তালাশ করিতেছি কি দিয়া বাজেট পেশ করিবো। ভাবলাম, ডজনখানে গার্লফ্রেন্ড থাকিলেও না হয় তাদের নিয়ে আগামী প্রেম বছরের পরিকল্পনা সাজানো যাইতো কিন্তু সেখানোও তো আমার কপালে লাল ফ্লাগ পতপত করিয়া উড়িতেছে। কি আর করা,,, বাজেটের বিষয় তালাশ করিতেছি তো তালাশ করিয়া চলিতেছি। অবশেষে তাহাকে পাইলাম যাহা দ্বারা বাজেট ঘোষণা করা যাইতে পারে! ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়া উহার মালিকানা ঠিক না করিলেও উহা একান্তভাবেই আমার।

ভার্চুয়ালে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম তথা ফেসবুক ছাড়া আপাতত আমার ভিন্ন কোন সম্পত্তি নাই। তাই ফেসবুকের বন্ধুদের নিয়েই ছোটখাট একখানা বাজেট উপস্থাপন করিতে হইবে। আগামী ভার্চুয়াল বছরে ৩ সহস্র বন্ধু যোগ করিবার ক্ষমতা আমার রহিয়াছে। এখান হইতে ১০০০ আসন বরাদ্ধ রাখিতে হইবে আমার প্রাণপ্রিয় ঝালবিবির গোনাগোষ্ঠীকে ঠাঁই দেয়ার জন্য। কেননা ঝালবিবির আত্মীয় স্বজনেরা যদি আমার ফেসবুকে ঠাঁই না পায় তবে আমি যে ঝালবিবির বিছানায় ঠাঁই পাবো না সেটা নিশ্চিত। তাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য একহাজার আসন অকাজের শ্রাদ্ধে ফেলিলাম! এখন আমার ক্ষমতা থাকিলো বাকী ২ সহস্রররে পরিকল্পনা সাজাইবার। কলিগদের জন্য ৫০০ আসন না রাখিলে সম্প্রীতি বজায় রাখিয়া কাজ করা মুশকিল হইবে বলিয়া তাহাদের জন্য ওই সংখ্যক কোটা বাজেট ঘোষণার পূর্বেই আলাদা করিয়া রাখিতেছি। দলীয় খোরাক বলিয়া একটা কথা আছে না!!

আমার কাছে এখন দেড় হাজার কোটা রহিয়াছে। ভাবতেছি ইহাতে কাহাদের স্থান দিব। ইহাতে যাহারাই স্থান পাউক, তাহারা অত্যন্ত সচ্ছতার ভিত্তিতেই জায়গা পাবে! অনেক বিচার বিশ্লেষণ করিয়া দেখলাম, ১৪৯৯ আসনে নারীদেরকেই স্থান দিতে হইবে। কেননা আপাতত তাহারা খুবই নিরাপদ। বাকী এক আসনে কোন পুরুষকে স্থান দিব নাকি তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে সেটা নিয়ে ঘুমের মধ্যে আলোচনা হইবে!

অনেকে হয়ত ভাবিতেছে বাকী দ্বি-সহস্রর আসন গেলো কই? তাহারা অঘোষিতভাবে শুনিয়া রাখুন, আমাকেও তো ক্ষমতায় থাকিতে হইবে। তাই ওই সংখ্যক আসন দলীয় ক্যাডার ও এলাকার বড়ভাইদের আগেই ভাগ করিয়া দিয়াছি। ইহা নিয়া কেউ কথা বলিলে তাহাকে লটকাইয়া ট্যাগ করার অপরাধে ত্যাগ করা হইবে!

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩