বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

আত্বীয়তা রক্ষার ফজিলত

মাওলানা সাদেক আহমদ সিদ্দিকী | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

আত্বীয়তা রক্ষার ফজিলত

মানুষ মাত্রই তার কিছু আত্মীয়স্বজন রয়েছে, যাদের সাথে ধীরে ধীরে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে স্বাভাবিকভাবে। অবশ্য কখনো কখনো স্বার্থের কারণে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ-কলহও লেগে যায়। এমনকি শয়তানের প্রবঞ্চনায় অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়তার বন্ধনও ছিন্ন করা হয়। অথচ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ইসলামের দৃষ্টিতে মহাপাপ ও মারাত্মক অপরাধ। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীদের নিন্দা করেন এবং তাদের অভিসম্পাত করেন।

পবিত্র কুরআনে আছে ‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ তায়ালা এদের করেন অভিশপ্ত, বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন।’ (মুহাম্মাদ : ২২-২৩)

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন : ‘যারা আল্লাহ তায়ালাকে দেয়া দৃঢ় অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ রাখতে আল্লাহ তায়ালা আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে তাদের জন্য রয়েছে লা’নত ও অভিসম্পাত এবং তাদের জন্যই রয়েছে মন্দ আবাস।’ (রা’দ : ২৫) হাদিস শরিফে আছে ‘আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না।’ (বুখারি মুসলিম)।

হজরত আবু হুরায়রাহ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন ‘আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকুল সৃজন শেষে আত্মীয়তার বন্ধন বলল : এটিই হচ্ছে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। আল্লাহ তায়ালা বললেন : হ্যাঁ, ঠিকই। তুমি কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, আমি ওর সাথেই সম্পর্ক স্থাপন করব, যে তোমার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে এবং আমি ওর সাথেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করব যে তোমার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করবে। তখন সে বলল : আমি এ কথায় অবশ্যই রাজি আছি হে আমার প্রভু! তখন আল্লাহ তায়ালা বললেন : ‘তা হলে তোমার জন্য তাই হোক।’ কেউ কেউ মনে করেন, আত্মীয়স্বজন তার সাথে দুর্ব্যবহার করলে তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা জায়েজ। মূলত ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং আত্মীয়স্বজন আপনার সাথে দুর্ব্যবহার করার পরও আপনি যদি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার দেখান তখনই আপনি তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেছেন বলে প্রমাণিত হবে।

রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন : ‘সে ব্যক্তি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী হিসেবে গণ্য হবে না যে কেউ তার সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলেই সেও তার সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। বরং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী সে ব্যক্তি, যে কেউ তার সাথে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলেও সে তার সাথে আত্মীয়তারবন্ধন রক্ষা করে।’

আত্মীয়স্বজনের সাথে সম্পর্ক রাখা, তাদের চেনা-জানা এবং তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা একজন মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন : ‘তোমরা নিজ বংশ সম্পর্কে ততটুকুই জানবে যাতে তোমরা আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারো। কারণ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করলে আত্মীয়স্বজনের ভালোবাসা পাওয়া যায় এবং ধনসম্পদ ও বয়স বেড়ে যায়।’ (তিরমিজি)

হজরত আবু হুরায়রাহ রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একদা এক ব্যক্তি রাসূল সা:-কে উদ্দেশ করে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এমন কিছু আত্মীয়স্বজন রয়েছে যাদের সাথে আমি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করি, অথচ তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করি; অথচ তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। আমি তাদের সাথে ধৈর্যের পরিচয় দিই; অথচ তারা আমার সাথে কঠোরতা দেখায়।

তাই তাদের সাথে এখন আমার করণীয় কী? তখন রাসূল সা: বললেন : ‘তুমি যদি সত্যি কথাই বলে থাকো তা হলো তুমি যেন তাদের উত্তপ্ত ছাই খাইয়ে দিচ্ছো। আর তুমি যত দিন পর্যন্ত তাদের সাথে এমন ব্যবহার করতে থাকবে তত দিন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাদের ওপর তোমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত থাকবে।’ (মুসলিম)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার তৌফিক দান করুন।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩