বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

আব্দুল্লাহকে ধরায় স্বস্তি ফিরবে

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

আব্দুল্লাহকে ধরায় স্বস্তি ফিরবে

অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায় জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে আব্দুল্লাহ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এ হত্যাকান্ডের সাথে যুক্তদের আটক ও বিচারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এঘটনা নিয়ে অস্থির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। হত্যার পর জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। তবে সরকার বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করে আসছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী মাসকাওয়াত হাসান সাকিব ওরফে আবদুল্লাহকে ১৫ মে রাতে গাইবাদ্ধা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ১৬ মে সোমবার আদালতে এ খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। আবদুল্লাহর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ খুনে জড়িত আরো তিনজনকে আটক করা হয়। খুনের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আটককৃতদের বাড়ি থেকে ১টি চাপাতি ও ১টি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলকায় নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অধ্যাপক রেজাউলকে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

এদিকে, অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলায় আটক তিনজনকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আটক ব্যক্তিরা হলেন- রাবি ছাত্র রহমত উল্লাহ ওরফে শাহীন (২৪), আবদুস সাত্তার (৬৫) ও তার ছেলে রিপন আলী (৩৮)। গ্রেফতার জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াথ হাসান ওরফে সাকিব ওরফে আবদুল্লাহ (২৩) তার জবানবন্দিতে জানান, কিলিং মিশনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো চারজন। এর মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়। আরেকজন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। ড. রেজাউল করিমকে হত্যার পর দু’জন মোটরসাইকেলে ও অপর দু’জন অন্যভাবে পালিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের পর তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খরখড়ি এলাকায় একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনায় তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পুলিশ আশ্রয়দাতা এ তিনজনকে আটক করে।

এদিকে, অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার বিচারে চার মন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সুধী সমাবেশে যোগ দেন। এর আগে তারা প্রয়াত অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর বাসভবনে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পরদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি। চলমান আন্দোলন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে শিক্ষক সমিতি। দোষীদের শনাক্তকরণ এবং শাস্তিবিধানে সরকারি দপ্তরসমূহের আন্তরিকতার অভাব দেখা গেলে শিক্ষক সমিতি কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে । গত ২৩ এপ্রিল থেকে তারাহত্যাকারীদের বিচার দাবিতে মৌন মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি করে আসছিল।

অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায়জড়িতদের আটক ও বিচারের ব্যবস্থা করা গেলে দেশে জঙ্গিগোষ্ঠী ধরা ছোঁয়ার বাইরে নয়, এটা প্রমাণিত হবে। সাধারন মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩