বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

আলুর বাম্পার ফলন, কোটি টন উৎপাদন সম্ভাবনা

সোনালীনিউজ রিপোর্ট | সোনালীনিউজ অনলাইন
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

আলুর বাম্পার ফলন, কোটি টন উৎপাদন সম্ভাবনা

দেশে প্রতিবছরই আলুর উৎপাদন বেড়ে চলেছে। ধারণা করা হচ্ছে চলতি মৌসুমেই দেশে আলুর উৎপাদন কোটি টন ছাড়িয়ে যাবে। আলুর ফলন চলতি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি হয়েছে ২০ মেট্রিক টন। আর বর্তমানে দেশের পাইকারি বাজারগুলোতে মণপ্রতি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকায়। এ বছর আলুর ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরাও খুশি। পাশাপাশি বর্তমানে দেশে উৎপাদিত আলু চাহিদা মিটিয়ে বিদেশও রফতানি হচ্ছে।

ফলে প্রতিবছরই বাড়ছে দেশের রফতানি আয়। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরেই নীরবে আলুর বিপ্লব ঘটে গেছে। বর্তমানে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে বাংলাদেশ। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে দেশে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু এবছর আলুর ফলন হয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৬ হাজার হেক্টর বেশি। আর বছরটিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৪ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছরের উৎপাদনের চেয়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন বেশি।

কিন্তু চলতি মৌসুমেও দেশে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশের কোথাও থেকে কোনো নেতিবাচক খবর পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ জমির আলু কর্তন ও উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। এবারর হেক্টরপ্রতি আলুর ফলন হয়েছে প্রায় ২০ মেট্রিক টন এবং চলতি  বছর আলুর উৎপাদন কোটি টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা হবে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।

সূত্র জানায়, বিগত টানা কয়েক বছর ধরেই দেশে আলুর উৎপাদন ৮২ থেকে ৮৯ লাখ টনের ঘরে ওঠানামা করছিল। গতবছরই প্রথমবারের মতো তা ৯০ লাখ টন ছাড়িয়ে ৯২ লাখ ৫৪ হাজার টনে পৌঁছে। যা ওই যাবতকালে আলু উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। তাছাড়া ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে আলু উৎপাদন ৮৩ লাখ টন ছাড়িয়ে যায়। যদিও পরের অর্থবছর তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৮২ লাখ ৫ হাজার টনে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৮৬ লাখ ৩ হাজার টনে পৌঁছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টন। আর সর্বশেষ গত অর্থবছরে দেশে আলু উৎপাদন হয় ৯২ লাখ ৫৪ হাজার টন। তবে চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জ জেলায় আলুর ফলন কিছুটা কম হলেও গতবছরের তুলনায় দাম বেশি। পাইকারি বাজারে মণপ্রতি ৫২০ টাকায় আলু বিক্রি হচ্ছে। আর ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখেও হাসি।

সূত্র আরো জানায়, ১৯৮০ সালে মুন্সীগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলায় আলুর চাষাবাদ শুরু হয়। আর বর্তমানে দেশের সর্বত্রই আলুর চাষ হচ্ছে। তবে মুন্সীগঞ্জ, রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী অঞ্চলেই আলুর ফলন বেশি। তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশে দিন দিন আলুর উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণে রয়েছে অপ্রতুলতা। প্রচলিত প্রাকৃতিক পদ্ধতি ছাড়াও কোল্ড স্টোরেজ পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষিত হলেও দেশে কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা নেহায়েত কম। বৃহৎ আকারে আলুর সংরক্ষণের জন্য দেশে কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা বাড়ানো উচিত।

এদিকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এদেশের আলু রফতানি হচ্ছে বিদেশেও। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধিও পাশাপাশি বাড়ছে দেশের রফতানি আয়ও। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র ৩২ কোটি ২২ লাখ টাকার আলু রফতানি হলেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। আলু উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আলুর উৎপাদন বিষয়ক সর্বশেষ এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় আলু উৎপাদনে বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে রয়েছে। আর তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে চীন। ক্রমানুসারে তার পরেই আছে ভারত, রাশিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।

অন্যদিকে খাবার তালিকায় ভাতের পরেই আলুর অবস্থান। আলু বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য। যার আগে রয়েছ ভুট্টা, গম ও চাল। ফলে আলুর চাহিদাও বাড়ছে। গত এক যুগে দেশীয় বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন প্রজাতির ৬০টি জাত থেকেই দেশের ৭৫ শতাংশ আলুর উৎপাদন হয়েছে। চাহিদা ও উৎপাদন উভয়ই বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেই ১৫টি আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপিত হয়েছে আর তা থেকেই উৎপাদিত চিপস ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও উদ্বৃত্তের সবটাই বিদেশে রফতানি হচ্ছে না। সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মৌসুমেই কৃষকরা আলুর ন্যায্য দাম পায় না। তাছাড়া সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবেও উৎপাদিত আলুর একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষককে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়।

এ প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন ইউংয়ের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুহু বলেন, দেশে প্রতিবছরই আলুর উৎপাদন বাড়ছে। এই বছরও আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।  চলতি বছরটিতে হেক্টরপ্রতি ২০ মেট্রিক টন আলুর ফলনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে ধারণা করা যাচ্ছে চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন কোটি টন স্পর্শ করবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩