মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩

আল কুরআনে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রসঙ্গ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

আল কুরআনে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রসঙ্গ

ইসমাইল হোসেন মুফিজী, সোনালীনিউজ
ঢাকা: চার দফা কর্মসূচি পালন সরকারের প্রথম দাযড়ত্ব ও কর্তব্য।
প্রথম দফা : নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, দ্বিতীয় দফা : জাকাত আদায় করা, তৃতীয় দফা : সৎ কাজের আদেশ দান করা এবং চতুর্থ দফা : অসৎ কাজ থেকে নাগরিকদের বিরত রাখা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা এমন লোক যাদেরকে আমি শক্তি-সামর্থ্য দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত।’ (সূরা আল হজ : ৪১)।

তা ছাড়া মহান আল্লাহর প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপরিচালনার মাধ্যমে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা বিধান করা ইসলামি রাষ্ট্রের মহান দাযড়ত্ব। শরিয়ত নির্ধারিত পন্থায় পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থির হবে। ইসলামি রাষ্ট্রে পবিত্র কুরআন ও হাদিস কর্তৃক নির্ধারিত রীতি অনুসারে পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রা করা আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘আসলে তোমাদের বন্ধু হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং সেই ঈমানদাররা যারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহর সামনে বিনত হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে, তাঁর রাসূলকে ও মুমিনদেরকে নিজের বন্ধু রূপে গ্রহণ করে তার জেনে রাখা দরকার, আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে। ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যেসব লোক তোমাদের দীনকে বিদ্রূপ ও হাসি-তামাশার বস্তুতে পরিণত করেছে তাদের এবং অন্যান্য কাফিরদের নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কোরো না।

আল্লাহকে ভয় করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’ (সূরা আল মাযড়দাহ : ৫৫-৫৭)। তিনি আরো বলেন, ‘হে মানবসমাজ! তোমাদের রবের প থেকে তোমাদের ওপর যা কিছু নাজিল করা হয়েছে তার অনুসরণ করো এবং নিজেদের রবকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ কোরো না। কিন্তু তোমরা খুব কমই উপদেশ মেনে থাকো।’ (সূরা  আল আরাফ : ৩)।

কুরআনভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ইসলামি রাষ্ট্রে কায়েম করা ফরজ। কেননা কুরআনিক বিচারের মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব। এর মাধ্যমে অমুসলিম অধিবাসীও অন্য মুসলমানদের মতো অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করতে পারবে। আল্লাহর দেয়া আইন মতো বিচার-ফায়সালা না করা কুফুরি। যারা আল্লাহর দেয়া আইন মতো বিচার ফায়সালা করে না তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, ‘আল্লাহর নাজিল করা আইন অনুযায়ী যারা বিচার-ফায়সালা করে না তারাই কাফির। আল্লাহর নাজিল করা আইন অনুযায়ী যারা বিচার-ফায়সালা করে না তারাই জালিম।’ (সূরা আল মায়েদা : ৪৪-৪৫)।

তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহর নাজিল করা আইন অনুযায়ী যারা বিচার-ফায়সালা করে না তারাই ফাসিক।’ (সূরা আল মায়েদা : ৪৭)। ‘হে মুহাম্মাদ, তুমি আল্লাহর নাজিল করা আইন অনুযায়ী তাদের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালা করো এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ কোরো না।’ (সূরা আল মায়েদা : ৪৯)। ‘যখন তাদেরকে ডাকা হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে, যাতে রাসূল তাদের পরস্পরে বিচার-ফায়সালা করে দেন তখন তাদের মধ্যকার একটি দল পাশ কাটিয়ে যায়।’ (সূরা আন নূর : ৪৮)। ‘যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফায়সালা দিয়ে দেন তখন কোনো মুমিন নর বা নারী সেই ব্যাপারে নিজের ফায়সালা করার কোনো অধিকার নেই। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নাফরমানী করে সে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত হয়।’ (সূরা আল আহজাব : ৩৬)। সরকার পরিবর্তন আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তিনি চাইলে তোমাদের সরিয়ে দিয়ে তোমাদের জায়গায় অন্যান্যের নিয়ে আসবেন এবং তিনি এ ব্যাপারে পূর্ণ মতা রাখেন।’ (সূরা নিসা : ১৩৩)। তিনি আরো বলেন, ‘আমি সংকল্প করেছি, যাদের পৃথিবীতে লাঞ্ছিত করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করব, তাদের নেতৃত্ব দান করব এবং তাদের পৃথিবীর উত্তরাধিকার দান করব।’ (সূরা আল কাসাস: ৫)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর স্মরণ করো যখন তোমরা ছিলে অল্প। পরাজিত অবস্থায় পড়েছিলে দেশে। ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলে যে, তোমাদের না অন্যেরা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি তোমাদের আশ্রয়ের ঠিকানা দিয়েছেন। স্বীয় সাহায্যের দ্বারা তোমাদের শক্তি দান করেছেন। এবং পরিচ্ছন্ন জীবিকা দান করেছেন যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় করো।’ (সূরা আল-আনফাল : ২৬)। ‘বলুন, হে আল্লাহ, তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান করো আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করো আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত করো। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে মতাশীল।’ (সূরা আলে-ইমরান : ২৬)।

পরিশেষে বলতে পারি যে, আল-কুরআনে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নেই বলে বর্তমান সময়ে যে মতামত পাওয়া যাচ্ছে তা প্রকৃতপে অমূলক এবং কুরআনুল কারিমে বর্ণিত রাজনৈতিক আয়াতগুলোকে অস্বীকার করার নামান্তর। তাই আমাদের পূর্ণ আস্তা রাখতে হবে যে, আল-কুরআনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মানবজাতির প্রয়োজনীয় সব বিষয়। এমনকি উপরিওই বিষয়াবলি ছাড়াও জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখ-, সমঅধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক মতার বিকেন্দ্রীকরণ, সংবিধান, অর্থনৈতিক কাঠামো, মানবিক আদর্শ, অমুসলিমদের অধিকার, সামাজিক সাম্য, নারীর অধিকার, ভোটাধিকার ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পবিত্র আল কুরআনে বর্ণিত রয়েছে। (সংকলিত)

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
add-sm
Sonali Tissue
মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭, ১৪ চৈত্র ১৪২৩