বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫

আশ্বাসের বৃত্তে সীমাবদ্ধ বাংলাদেশের শ্রমবাজার

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

আশ্বাসের বৃত্তে সীমাবদ্ধ বাংলাদেশের শ্রমবাজার

বিশেষ প্রতিনিধি

আশ্বাসের বৃত্তে সীমাবদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশের দুটি বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া।এদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব এ বিষয়ে কেবল আশ্বাসই দিয়ে চলেছে কিন্তু কর্মী নিচ্ছে না। আর অপর বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়া সম্পাদিত চুক্তি স্থগিত করেছে।  গতবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণলয়ের সাথে চুক্তি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই চুক্তি স্থগিত করেনি। তবে কর্মীও নিচ্ছে না। চুক্তিতে বলা হয়েছিল প্রতি মাসে ১০ হাজার করে কর্মী নিয়োগ করবে দেশটি। কিন্তু ওই চুক্তির এক বছর কেটে গেলেও চুক্তির আওতায় দেশটিতে কিন্তু একজন কর্মীও যেতে পারেননি। তবে এ দুটি বড় শ্রবাজার খোলার কোনো চেষ্টাই সফল হচ্ছে না। প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে চুক্তির পর উভয় দেশের প্রতিনিধি দলই একাধিকবার সফর বিনিময় করেছেন। আর প্রতিটি বৈঠকেই বলা হয় আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে সৌদি বাজার খুলে যাবে। কিন্তু এখনো দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকা সবচেয়ে বড় শ্রমবাজারটি বাজারটি খোলেনি। যদিও এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর করে এসে বলেছেন, সৌদি শ্রমবাজার অনেকটা তৈরিই আছে। কোথাও একটু সমস্যার কারণে বাজারটি চালু করা যাচ্ছে না। আশা করি বাজারটি কিছু দিনের মধ্যে চালু হবে। মন্ত্রী গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে সৗদি সফর করে আসার পরও সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু এখনো বিষয়টি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কার্যকর কোনো কিছু হয়নি। যদিও ইতিমধ্যে দীর্ঘ ৬ বছর বন্ধ থাকা শ্রমবাজারটির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আবারো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আলোচনা করা হয় কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ হবে। এই বিষয়টি চূড়ান্ত করতে জানুয়ারি মাসে ১৯ সদস্যেও সৌদি প্রতিনিধি দল আবারো ঢাকা সফর কওে গেছে। তারা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ কর্মকর্তাদের সাথে দুদফা বৈঠক করে। বৈঠকে বাংলাদেশের কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে জানান। দারা ব্যয় কমিয়ে প্রতিমাসে ১০ হাজার করে কর্মী নেয়ার ঘোষণা দেয়। দু’দেশের মধ্যে এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হয়েছে বলে জানানো হয়। আলোচনায় ঠিক হয়েছিল রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো হবে। তবে যে কোন অনিয়ম ধরতে সরকারের কড়া নজরদারি রাখার কথা বলেছেন বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী। একজন কর্মী কত বেতন-ভাতা পাবেন তা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়। সব শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছেÑ ন্যূনতম বেতন ১২শ’ থেকে ১৫শ’ রিয়াল (১ রিয়াল সমান ২১ টাকা)। বৈঠকের একপর্যায়ে বলা হয় এর নিচে হলে কর্মী পাঠানো হবে না। তখন সৌদি প্রতিনিধি দল প্রস্তাবটি মেনে নেয়।

সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ থেকে সরকারী নিয়ন্ত্রণে কর্মী যাবে সৌদি আরবে। বেসরকারী জনশক্তি রফতানিকারকরাই শতভাগ লোক পাঠাবেন। তবে এখানে কোন প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী থাকতে পারবেন না। রেজিস্ট্রেশনকৃত কর্মীদের তালিকা অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ করতে হবে। কোন দালালের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা যাবে না। যদি কোন জনশক্তি রফতানিকারকদের বিরুদ্ধে সৌদিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সৌদি আরব যেতে একজন কর্মীর ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হবে না। এ খরচের বাইরে কোন খরচ কেউ নিতে পারবেন না। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অনুযায়ী এ বছর থেকে তারা কর্মী নিয়োগ করবে। তারা দক্ষ ও আদা দক্ষ কর্মী নিয়োগ করবে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতার মাধ্যমেই দেশটিতে কর্মী নিয়োগ করা হবে। তবে নিয়োগের বেলায় কিছু শর্ত মানতে হবে। শর্ত মেনে কর্মী পাঠাতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না। আমাদের দেশে তো আর আইএস নেই। তাহলে কেন সৌদি কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে কর্মী নেবে না। অবশ্যই বাংলাদেশ থেকে তাদের কর্মী নিতে হবে। কারণ বাংলাদেশী কর্মীরা পরিশ্রমী। তাদের অল্প বেতন দেয়া হয়। অন্য যে কোন দেশ থেকে কর্মী নিতে হলে অনেক বেশি টাকা বেতন দিতে হবে। তাই আমি মনে করি সৌদি আরব আমাদের কাছ থেকেই কর্মী নেবে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর আরও এক দফা সৌদি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করে। তারা বায়রার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করে। সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল তখন পর্যন্ত। গত ৪ মাসে সৌদি আরব কর্মী নিয়োগের বেলায় কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। হঠাৎ করে তারা এ বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আমাদের তরফ থেকে বার বার তাগিদ দেয়া হলেও তারা এ বিষয়ে কোন কথা বলছে না। মালয়েশিয়া তবু চুক্তি করে চুক্তি স্থগিত করেছে। উলে¬খ্য, সৌদি সরকার ২০১৩ সালের ১০ মে থেকে ৩ নবেম্বর পর্যন্ত সেখানে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বৈধতা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইকামা ও পেশা পরিবর্তনের সুযোগও দেয়া হয়। সেই সময় সাত লাখ ৯৯ হাজার ১৮৬ জন বাংলাদেশী কর্মী সাধারণ ক্ষমার সুবিধা পেয়েছিলেন।

সোনালীনিউজ/এমএইউ