বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

আসন্ন রমজানে সক্রিয় সিন্ডিকেট, পণ্যের কৃত্রিম সঙ্ক

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

আসন্ন রমজানে সক্রিয় সিন্ডিকেট, পণ্যের কৃত্রিম সঙ্ক

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

আসন্ন রমজানের বেশ আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশে রমজাননির্ভর পণ্যের চাহিদার চেয়ে আমদানি অনেক বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইতিমধ্যে নিত্যপণ্যের দাম সিন্ডিকেটের কারসাজিতে অযৌক্তিকভাবে অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে। 

সামনের দিনগুলোতে আরো বাড়তি মুনাফার লোভে ওই সিন্ডিকেট নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিরও পাঁয়তারা চালাচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয পণ্যেও সরবরাহ ভালো থাকার পরও ওই চক্র দাম আরো বাড়াতে নানা কৌশল খুঁজছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যে ৮ দফা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও স্বরাষ্ট্রসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের বাজার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আসন্ন রমজানে বাজার সিন্ডিকেট তৎপরতা রোধ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিনি ও ভোজ্যতেলের উৎপাদন প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। একই সাথে রোজার আগ পর্যন্ত পণ্যের এলসি খোলা সহজ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কেও ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারের একাধিক এজেন্সিকে যে কোনো ধরনের পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি ঠেকানোসহ বাজার মনিটরিংয়ে নজরদারি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীও অসৎ ব্যবসায়ীদের প্রতি কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। একই সাথে ওই অসাধু সিন্ডিকেট চক্র ভেঙে দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কেও নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, দেশে বার্ষিক চিনির চাহিদা ১৫ লাখ টন। চলতি অর্থবছরের ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত চিনির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৩ লাখ ৭৬ হাজার টন। তার বাইরে বাংলাদেশ সুগার কর্পোরেশনের উৎপাদিত চিনি থেকে শুধুমাত্র রমজানের জন্যই মজুদ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টন।

মসুর ডালের চাহিদা পৌন ৪ লাখ টন। তারমধ্যে দেশের উৎপাদন ছাড়াই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার টন। আর দেশে উৎপাদন হয় ২ লাখ ৬০ হাজার টন। ছোলার চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার টন। তারমধ্যে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ৭ হাজার টন। ঘাটতি ৫৩ হাজার টন। তবে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতির প্রায় তিন গুণ ২ লাখ ৪৭ হাজার টন ছোলা দেশে প্রবেশ করেছে।

পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। আর দেশে প্রতিমাসে গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ লাগে। কিন্তু রমজানে এই চাহিদা বেড়ে প্রায় দেড়গুণে ঠেকে। ওই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশে উৎপাদন হচ্ছে ১৭ লাখ ৪ হাজার টন পেঁয়াজ। তার বাইরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমদানি করা পেঁয়াজের নিষ্পত্তি হয়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার টন।এর বাইরে আদা, রসুন, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মশলাজাতীয় পণ্যেরও মজুদ চাহিদার তুলনায় দেশে বেশি রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অসাধু সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপ আগাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায় স্থিতিশীল, সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক, বেশি চাহিদার পণ্যের উল্লম্ফন ঠেকানোই মূলত গৃহীত ওসব পদক্ষেপের মুখ্য উদ্দেশ্য।

তাছাড়া রমজানে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যেও নিজস্ব কৌশল হিসেবে রমজানে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে টিসিবি কর্তৃক বিক্রি করা পণ্য চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা ও খেজুরের ক্রয় ও মজুদ পরিস্থিতি শক্তিশালী করার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। 

রাজধানীর বাইওে জেলা, থানা ও গ্রামপর্যায়েও বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের মৌখিক ও চিঠির মাধ্যমে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিটি বাজারে নিত্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা মূল্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতেও বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জানান, বাজার-সংশ্লিষ্টদেও কেউ সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণের বাইরে নেই। রমজানসহ সারাবছরই যাতে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে সেজন্য মন্ত্রণালয় একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাতে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখে দাম নিয়ন্ত্রণের ওপর।

আর তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চিহ্নিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যাতে বাজারে দৃষ্টান্ত তৈরি হয় এবং অন্যরাও অসৎ ব্যবস্থা থেকে বিরত থাকবে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ রমজানের বাজারে ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা টেনে ধরবে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩