সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫

ঈদবাজারে বৃষ্টি বাগড়া, হকারদের মাথায় হাত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার ১২:৩৪ এএম

ঈদবাজারে বৃষ্টি বাগড়া, হকারদের মাথায় হাত

ঢাকা : শেষ হয়ে এলো রমজান মাস। ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে ২৬ রোজা। বুধবার (১৩ জুন) ২৭ রোজা। তাই ঈদ সামনে রেখে গত কয়েক দিনই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্রাম নেওয়ার উপায় ছিল না বিক্রেতাদের। কারণ ঈদবাজারের শেষদিকের দিনগুলোর প্রতিটি ঘণ্টাই তাদের কাছে মহামূল্যবান।

তবে জমজমাট এই ঈদবাজারে মঙ্গলবার (১২ জুন) দুপুরের পরপরই হানা দেয় বজ্রবৃষ্টি। ফলে যারা ভেবেছিলেন দুপুরের পর মার্কেটে যাবেন তাদের অনেকেই বের হতে পারেননি। আর যারা বের হয়েছিলেন তাদের অনেকেই আবার কেনাকাটা না সেরে বাসায় ফিরেছেন কাকভেজা হয়ে। কারণ এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে পায়ে হাঁটতে গেলে ছিল কাদাপানি আর খানাখন্দ। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতা সঙ্কটে অনেকটা সময় একপ্রকার হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয় ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে ফুটপাথের হকারদের।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে এবং গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে।

খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়ার এই চিত্র শুক্রবার (১৫ জুন) পর্যন্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদফতর।

মঙ্গলবার (১২ জুন) রাজধানীতে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন বিরূপ আবহাওয়া আরো কয়েক দিন থাকলে রোজা শেষে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির হিসাবে হতাশাই হয়তো বাড়বে। গতকাল বিকালের বৃষ্টিতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোসহ পাড়া-মহল­ার অলিগলির রাস্তাঘাটে পানি জমে যায়। রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে ঈদ কেনাকাটায় বের হওয়া নগরবাসী। বৃষ্টির এমন হানায় বিভিন্ন মার্কেটে আটকা পড়ে অনেকে। অনেকেই আবার ভিজে ফিরে যায় বাসায়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয় ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা। দোকান গুটিয়ে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাদের।

মুঠোফোনে কথা হয় নিউ সুপার মার্কেটের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী লিটন শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুপুরের পরপরই ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় কাস্টমার কমে গেছে। মার্কেটে অনেক কাস্টমার আটকা পড়েছিল। ঈদের বাজারে এমন ঝড়বৃষ্টি আমাদের জন্য ক্ষতির। এখানে তো আর মানুষের হাত নেই। ঈদবাজারে বিকাল থেকে বেচাকেনা বেশি হয়। যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে অনেকেই হয়তো বাসা থেকে বের হবে না। আজকের দিনটা আমাদের জন্য একপ্রকার মাটি হয়ে গেল।

এলিফ্যান্ট রোডের ভিআইপি মার্কেটের মাহিন সুজের ম্যানেজার বাবুল মলি­ক বলেন, ঈদের শপিং করতে হাজার হাজার মানুষ ঘুরছে। ঝড়বৃষ্টিতে তাদের বিপদে পড়তে হয়েছে। অনেকেই ভিজেপুড়ে মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছে। ক্রেতারা যেমন বিপদে পড়েছে, আমরাও পড়েছি। বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় কেনাকাটা না করেই ফিরে গেছে। ঈদ মৌসুমে জমজমাট থাকে মতিঝিল-পল্টন এলাকার ফুটপাথ। এবারো তাই হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে তৈরি পোশাক, জুতা, স্যান্ডেলসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা (হকার)। গত কয়েক দিন এসব ফুটপাথে ছিল উপচে পড়া ভিড়। গতকাল দুপুরের চিত্রও ছিল তেমনই। কারণ নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তদের ঈদের আনন্দের ভরসা রাজধানীর এসব ফুটপাথ। কিন্তু বিকালে বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে ফুটপাথের ঈদবাজার। অধিকাংশ ব্যবসায়ীই দোকান গুটিয়ে ফুটপাথের পাশে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। বৃষ্টি কমলেও রাস্তায় জমে থাকা কাদাপানির জন্য দোকান খোলার পরিবেশই ছিল না নিম্ন আয়ের এসব মানুষের।  

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে থেকে আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভবন পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে রয়েছে প্রায় ২০টি জুতার দোকান। শামিয়ানা বা কোনো প্রকার ছাউনি না থাকায় বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়তে হয় এসব জুতা ব্যবসায়ীকে। পলিথিন দিয়ে মালামাল ঢেকে দোকান গুটিয়ে ফেলতে হয় তাদের। কথা হয় সেখানকার জুতা ব্যবসায়ী লোকমান হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদবাজারে প্রত্যেক ঘণ্টা, প্রত্যেক মিনিটই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এমন সময় আধা ঘণ্টা বৃষ্টি হলেও দোকান বন্ধ থাকে দুই ঘণ্টা। আর টানা বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। রাস্তায় পানি জমে যায়, দোকান আর খোলা যায় না। খুললেও কাস্টমার পাওয়া যায় না।

সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনের ফুটপাথের তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাই কিচ্ছু বলার নাই। গরিবের ভাগ্যই খারাপ। না হলি আল্লাহ এমন সময় বৃষ্টি দেবে ক্যান। মার্কেটে কাস্টমার না থাকলেও দোকান খোলা থাকে। কিন্তু আমাদের তো সব প্যাকেট করে ফেলতে হয়েছে। বৃষ্টি ছাড়লেও দোকান খুলতে দুই ঘণ্টা লেগে যাবে। আবার বৃষ্টি হতে পারে- এমন আতঙ্কেও অনেকে আর আজ দোকান খুলবে না; কাস্টমারও আসবে না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue