সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫

ঈদে ঘরমুখো মানুষের পথে পথে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার ১২:৪৫ এএম

ঈদে ঘরমুখো মানুষের পথে পথে দুর্ভোগ

ঢাকা : দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে তাই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে কর্মসূত্রে রাজধানীতে থাকা বাসিন্দারা। বৃষ্টি, অতিরিক্ত ভাড়া এবং পথের নানা দুর্ভোগ নিয়েই বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে ফিরছে তারা।

মঙ্গলবার (১২ জুন) ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন ভোর থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে বিপুল যাত্রী সমাগম দেখা গেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ বেড়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে।

এদিন সকাল থেকেই মহাসড়কে শুরু হয় যানবাহনের চাপ। বৃষ্টির কারণে কোনো কোনো সড়কে কাদা ও পানি জমায় যানবাহনের গতি কমে যায়। তড়িঘড়ি সংস্কারের কারণেই এ অবস্থা বলে অভিযোগ যাত্রী ও চালকদের। এ ছাড়া চার লেন সড়কের অনেক স্থানে চলাচলের রাস্তা দুই লেন হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। চালকদের আশঙ্কা, আগামী দুই-তিন দিনে এই যানজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে গতকাল ভোর থেকেই কম-বেশি যানজট ছিল। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা থেকে করটিয়া পর্যন্ত থেমে থেমে এ যানজট লক্ষ করা যায়। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশেও ছিল একই অবস্থা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুনিয়াউট থেকে বিয়ালি­শ শহর পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া দাতিয়ারা ওয়াপদা গেট এলাকায় সড়কটি যানচলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ফলে সকাল ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত যানবাহন চলে ধীরগতিতে। এতে দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। এদিকে গত ৩ জুন ট্রেনের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহকারীরা গতকাল কমলাপুর স্টেশন থেকে ঢাকা ছেড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিগত দিনগুলোর তুলনায় এদিন কমলাপুরে যাত্রীদের ভিড় ছিল বেশি। কমলাপুর স্টেশন থেকে মোট ৬৬টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অগ্রিম টিকেট ছাড়াও স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকেট কিনতে পেরেছে যাত্রীরা। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যায় উত্তরবঙ্গগামী রংপুর এক্সপ্রেস। ট্রেনের জন্যই আগে থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অগ্রিম টিকেট পেয়েছিলাম। আবার হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে উঠতে হবে, মানুষের ভিড়ে আসনের কাছে পৌঁছানোই কঠিন।’

এই ভোগান্তি ছাপিয়ে বাড়ি ফেরার আনন্দই মুখ্য মনিরুলের কাছে। অপর যাত্রীদের অবস্থাও একই। ভোগান্তির পরও বাড়ি ফেরা ও প্রিয়জনের সান্নিধ্যেই শান্তি। অন্যান্য দিনের মতো এদিনও ট্রেন ছাড়ায় কিছুটা বিলম্ব লক্ষ করা গেছে।

যাত্রীরা জানান, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ও দিনাজপুর এক্সপ্রেস কিছুটা দেরি করে ছেড়েছে। জামালপুরগামী অগ্নিবীণা ট্রেনের যাত্রী আমানুর রহমান বলেন, ঈদে যাতায়াতে এমনিতেই বিড়ম্বনা থাকে। ট্রেনের শিডিউল ঠিক না থাকায় তা আরো বাড়ে।

যাত্রীদের চাপ নিয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন কমলাপুর থেকে প্রায় ৬০-৭০ হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রান্তে যাবে। যাত্রীচাপ সামলাতে প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত বগি লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা আছে।’

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কোনো অবস্থাতেই যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানান তিনি।

অন্যদিকে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস শুরু হলেও নৌপথে এখনো উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি। আজ থেকে বাসের বিশেষ সার্ভিস শুরু হবে। ইতোমধ্যে সড়কপথে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই