শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫

ঈদে নতুন টাকার জমজমাট ব্যবসা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার ০৮:৪৫ পিএম

ঈদে নতুন টাকার জমজমাট ব্যবসা!

ঢাকা: ঈদ মানে আনন্দ। আর এই আনন্দে নতুন জামা-জুতার পাশাপাশি সালামি দেয়ার জন্য চাই নতুন টাকা। অনেকেই ব্যাংক থেকে নতুন টাকা সংগ্রহ করেছেন। আবার যারা পারেননি তারা এখন নতুন টাকার খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন গুলিস্তান থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস পর্যন্ত। আর এই সুযোগে জমে উঠেছে নতুন টাকার বিকিকিনি।

বুধবার (১৩ জুন) ব্যাংকসহ সরকারি সব অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় এর চাহিদা আরো বেড়ে গেছে।

সূত্র জানায়, ৫ টাকা, ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০ টাকা, ১০০ টাকা নতুন বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। তবে ৫ টাকার দাম সবচেয়ে বেশি। নতুন ৫ টাকার একটি নোটের দাম পড়ছে সাড়ে ৬ টাকা। ৫ টাকার ১০০টি নোটের একটি প্যাকেট বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা। এভাবে দুই টাকার ১০০ নোটের প্যাকেট মিলছে ২৮০ টাকায়। ১০ টাকার ১০০ নোটের প্যাকেট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকায়। ৫০ ও ১০০ টাকার নোটের প্যাকেটে ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

নতুন টাকা বিকিকিনির বড় জায়গা হলো রাজধানীর গুলিস্তান। বুধবার (১৩ জুন) দুপুরে গুলিস্তান গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অন্তত ৫০ জন ব্যক্তি ছোট ছোট টেবিলে বিক্রির জন্য থরে থরে নতুন সাজিয়ে রেখেছেন নতুন নোট। এসব ব্যবসায়ীরা বছরের অন্য সময় পুরনো বা ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলের ব্যবসা করেন। ঈদের সময় নতুন টাকা বিক্রিই তাদের প্রধান ব্যবসা।

টাকা বিক্রি আইনসিদ্ধ নয়। তবু রাস্তার পাশেই চোখে পড়ে টাকার দোকান, ছোট ছোট টুলে কড়কড়ে নতুন টাকা সাজানো। ব্যাংকে যাওয়া ঝামেলার কাজ, তাই আসা-যাওয়ার পথে পুরনো টাকা বদলে নিচ্ছে মানুষ, ঈদ সালামির জন্য কিনে নিচ্ছে নতুন নোটের তাড়া।

এসব ব্যবসায়ীর কারো কারো কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে নতুন টাকার ব্যবসায়। তবে এ বিষয়ে কোনো ব্যবসায়ীই কোনো তথ্য দিতে রাজি নয়। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভাই নাম বলা যাবে না। নতুন টাকার ব্যবসা করার অনুমতি নাই। পুলিশে ধরবো।’

গুলিস্তানে নতুন টাকা কিনতে আসা আবুল বাসার নামে এক পোশাক কর্মী বলেন, ‘আমি একটি গার্মেন্টে কাটিং ম্যানেজারের কাজ করি। বাড়ি মাদারীপুর। ৫ টাকার ৫ টাকার ১০০টি নোট কিনলাম ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে।

ব্যাংক থেকে নিলে তো বাড়তি কোনো টাকাই খরচ হতো না এমন কথার উত্তরে ওই পোশাককর্মী বলেন, ব্যাংকে যাওয়ার সময় তো পাই না, তাছাড়া কোনে ব্যাংকে গেলে পাওয়া যাবে তাও জানি না। আইজকা ছুটি পাইলাম, কাল-পরশু বাড়ি যাইতে পারি। ছোট ছেলেমেয়ে আছে ওদের হাতে এই নতুন টাকা দিতে পারলে ওরা খুব খুশি হইবো।

নতুন বের হয়েছে মনে করে কয়েকটি ২৫ টাকার নোটও কিনেছেন আবুল বাসার। কিন্তু ওই নোটগুলো যে স্মারক নোট, শুধু সংগ্রহে রাখার জন্য, বিনিময় মূল্য নেই, তা তিনি জানতেন না।

ওই পোশাক কর্মীর মতো এমন অসংখ্য নতুন টাকার নোট ক্রেতা জানালেন একই ধরণের কথা।

তবে কিছু কিছু ক্রেতা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে যদি নতুন টাকা পাওয়া যেত তাহলে আরো অনেক বেশি মানুষ ব্যাংক থেকে নতুন টাকা নিত।

আবার অনেকে অভিযোগ করেন বলেন, কিছু কিছু বেসরকারি ব্যাংক থেকে নতুন টাকা দেয়ার কথা বলা হলেও ব্যাংকে গিয়ে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়।

ঈদে সালামি হিসেবে নতুন টাকার চাহিদা মাথায় রেখে ব্যাংক থেকে নতুন টাকা সরবরাহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বছর গত ৩ জুন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব অফিসসহ রাজধানীর ২০টি ব্যাংক শাখা থেকে নতুন টাকা বিনিময় করা সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য বছর ২ ও ৫ টাকার নোট বদলে নেয়ার সুযোগ থাকলেও এবার প্রথম থেকে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট বদল করে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জুন) থেকে নতুন ২ ও ৫ টাকার নোট বদল করে দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ টাকার নোটের চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম। যে কারণে এই দুটি মূল্যমানের নোটের দামও দিতে হচ্ছে অনেক বেশি।

এ বিষয়ে বালাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক দেবাশিস চক্রবর্তীর কাছে জানতে তিনি বলেন, ‘২ ও ৫ টাকার নোটের অপব্যবহার বিষয়ে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। এ কারণে এই দুটি নোট না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।’ এ বছর ঈদ উপলক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue