রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

এটিএম বুথ হচ্ছে স্বচ্ছ কাচের

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

এটিএম বুথ হচ্ছে স্বচ্ছ কাচের

সোনালীনিউজ ডেস্ক

চুরি ঠেকাতে দেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথ তৈরি করা হবে স্বচ্ছ গ্লাস দিয়ে। আর নারীদের লেনদেনের সময় প্রয়োজনে হিজাব খুলতে হবে। সব বাণিজ্যক ব্যাংককের বুথে নিরাপত্তা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া গ্রহককে গোপন নম্বর চাপার সময় নম্বর বোর্ডের উপর অন্য হাত দিয়ে ডেকে রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় দেশের ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড ডিভিশনের প্রধানদের সঙ্গে বুধবার বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এতে সভাপতিত্ব করেন।  

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চুরি যাওয়া টাকার পরিমাণ ২০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের মোট ২৪ বারে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার; সিটি ব্যাংকের ৪ বারে ১ লাখ ৪০ হাজার; ইউসিবিএলের ৭ বারে ১ লাখ ২৬ হাজার এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১ বার ট্রানজেকশন করে ৪০ হাজার টাকা উত্তলন করা হয়েছে।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রহকদের এসব টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। বেসরকারি চারটি ব্যাংকের রাজধানীর চারটি এটিএম বুথ থেকে এ টাকা উত্তোলন হয়েছে। এসময় ওইসব এটিএম বুথে প্রায় ১২০০ এটিএম কার্ড লেনদেন করেছে। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা বন্ধ করে নতুন কার্ড ইস্যু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে সব বাণিজ্যক ব্যাংককে অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস বসাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে এটিএম কার্ডধারী ৯০ লাখ গ্রহক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও গার্ডদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

বৈঠকের বিষয়ে তিনি জানান, এটিএম বিষয়ে সার্বিক আলোচনার জন্য এ বৈঠক ডাকা হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পালনে জোর দেয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মতামত নেয়া হয়েছে। তারা কি চায় বা আরো কি কি করা দরকার সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিটি ট্রানজেকশনের সঙ্গে সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রহককে তার তথ্য দিতে হবে। যা অনেক ব্যাংকেরই চালু নেই। তবে এ জন্য গ্রহকের কাছ থেকে চার্জ (চাঁদা) আদায় করার প্রস্তাবও এসেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে অনুরোধ করেছে, যাতে এ সার্ভিসে কোনো টাকা না নেয়। তারা একমতও হয়েছেন।

এ ঘটনায় তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং এ প্রতিবেদন কবে প্রকাশ করা হবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে। তাদের কাছে হয়তো কিছুটা চিহ্নিত হতে পারে। তবে এ ধরনের লিখিত কোনো প্রতিবেদন আমাদের (কেন্দ্রীয় ব্যাংকে) কাছে আসেনি। তবে তদন্ত কাজটি অত্যান্ত গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে।’  

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩