বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

এতিমের প্রতি সদয় ব্যবহার রসুলের সুন্নাত

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

এতিমের প্রতি সদয় ব্যবহার রসুলের সুন্নাত

মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী, সোনালীনিউজ
পবিত্র কোরআন ও রসুল (সা.)-এর হাদিসে এতিমদের প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতিমদের লালন ও সদয় ব্যবহারকে আল্লাহর রহমত অর্জনের পথ হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে।

ইমাম আয্যাহারী (রহ)-এর কিতাবুল কাবায়েত গ্রন্থে বলা হয়েছে, সালফে সালেহীনের কোনো এক বুজুর্গ বলেন, প্রথম জীবনে আমি অত্যধিক মদপান করতাম ও নানা প্রকার পাপ কাজে লিপ্ত ছিলাম। এ সময় একদিন সৌভাগ্যবশত পথের পাশে এক অসহায় এতিম বালকের সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে এলাম। তাকে আপন ছেলের চেয়েও বেশি আপন করে আদর-যত্নের সঙ্গে গোসল করিয়ে, ভালো পোশাক পরিয়ে, পানাহার করালাম। এভাবে কিছু দিন চলার পর এক রাতে আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম : কেয়ামত হয়ে গেছে। হিসাব-নিকাশের পর অসংখ্য পাপের প্রতিফলস্বরূপ আমাকে দোজখে নিক্ষেপের হুকুম হয়েছে। দোজখের ফেরেশতারা যখন আমাকে চরম অপদস্থ ও লাঞ্ছনা সহকারে অসহায় অবস্থায় টানাহেঁচড়া করে দোজখে নিক্ষেপের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় দেখি, সহসা সেই এতিম ছেলেটি সামনে এসে পথ আগলে দাঁড়িয়ে পড়েছে।

সে বলল : ওহে রবের ফেরেশতামন্ডলী! একে ছেড়ে দাও, আমি তার জন্য আল্লাহর সমীপে সুপারিশ জানাব, কারণ পৃথিবীতে সে আমার সঙ্গে সদয় ব্যবহার করেছে, আমার অনেক উপকার করেছে।

ফেরেশতাগণ বললেন : আমাদেরকে এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এ সময় সহসা একটি অদৃশ্য আওয়াজ এলো- 'ওহে ফেরেশতাগণ! একে তোমরা ছেড়ে দাও। ওই এতিমের প্রতি সদ্ব্যবহার করার কারণে ওই এতিমকে আমি তার পক্ষে সুপারিশ করার অধিকার দিয়েছি এবং সুপারিশের ভিত্তিতে তার যাবতীয় পাপ ক্ষমা করে দিয়েছি।' এ সময় আমি ঘুম থেকে জেগে উঠলাম, অতঃপর আমার সমুদয় পাপকার্য ও অভ্যাস থেকে মহান আল্লাহপাকের দরবারে তওবা করলাম এবং এতিমদের সেবায় সাধ্যমতো আমার সর্বাৎদক প্রচেষ্টা নিয়োজিত করলাম।

এ জন্যই রসুল (সা.)-এর খাদেম, বিশিষ্ট সাহাবি হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন : 'যে ঘরে এতিমের যত্ন নেওয়া (ভালো ব্যবহার করা) হয়, তা সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ঘর। আর যে ঘরে এতিমের ওপর নিপীড়ন করা হয়, তা সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ঘর। যে লোক কোনো এতিম অথবা অসহায় বিধবার ওপর সাধন করে, সে আল্লাহ পাকের প্রিয়তম বান্দা।

বর্ণিত আছে, আল্লাহপাক হযরত দাউদ (আ.)-কে ওহির মাধ্যমে বলেছিলেন : 'হে দাউদ! তুমি এতিমের জন্য দয়ালু পিতা এবং অসহায় বিধবার জন্য হৃদয়বান স্বামীর মতো হয়ে যাও। আর ভালো করে জেনে রাখ, তুমি যেমন বীজ রোপণ করবে তেমনিই ফসল পাবে; অর্থাৎ অপরের সঙ্গে তুমি যেমন আচরণ করবে, তোমার মৃত্যুর পর তোমার রেখে যাওয়া এতিম সন্তান ও বিধবা স্ত্রীর সঙ্গেও তেমনি ব্যবহার করা হবে।

হযরত দাউদ (আ.) মোনাজাত করে বলেছিলেন: 'হে পরওয়ারদেগার! যে লোক তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় এতিম ও বিধবাকে আশ্রয় দেয়, সাহায্য করে, তার পুরস্কার কিরূপ?' আল্লাহ পাক ঘোষণা করলেন : 'হাশরের দিন যখন আমার আরশের ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আমি তাকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেব।'

লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী, খতিব, আল আমিন জামে মসজিদ, খুলনা।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩