বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫

ঐক্যে আসন নিয়ে দরকষাকষি

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার ০৬:৫৯ পিএম

ঐক্যে আসন নিয়ে দরকষাকষি

ঢাকা : নির্বাচন সামনে রেখে পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের রূপরেখা প্রস্তুত করে ফেলেছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এখন চলছে সংসদীয় আসন ভাগভাগি নিয়ে দরকষাকষি। কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়টিও ফায়সালা হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

 সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র শুরুতে যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী) বিএনপির কাছে ১৫০ আসন দাবি করলেও এখন তাদের দাবি মাত্র ৬০টা। এরমধ্যে যুক্তফ্রন্টের ৪৫টা। আর ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ১৫টা।

কিন্তু এই ৬০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারেও বিএনপি দরকষাকষি অব্যাহত রেখেছে। নতুন মিত্রদের জন্য এতগুলো আসন ছেড়ে দিলে জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে আসন সমন্বয় বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

সূত্রমতে, বিএনপির সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে রবিবার (৭ অক্টোবর) রাতে গুলশানে ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনের বাসায় আন্দোলনের রূপরেখার খসড়া তৈরি করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। পরের দিন সোমবার (৮ আগস্ট) আ স ম আব্দুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে রূপরেখা চূড়ান্ত হয়।

আন্দোলনের ওই রূপরেখায় প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিতে না গিয়ে আপাতত দেশব্যাপী গণসংযোগ, ৫ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ, প্রতীকী অনশন, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা, গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও বিভাগে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে জনসভা, রাজধানীতে সমাবেশের মতো কর্মসূচি রয়েছে আন্দোলনের প্রাথমিক রূপরেখায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব কর্মসূচি একটা প্ল্যাটফর্ম থেকে ঘোষণা হবে। সেখানে বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করা হবে। ওইসব কর্মসূচিতে জামায়াতের প্রকাশ্য অংশগ্রহণ থাকবে না। কেবল নেপথ্য থেকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে পারবে বিএনপির এই পুরোনো মিত্র। তবে তফসিল ঘোষণার পর সরকারের আচরণ বুঝে কর্মসূচির ধরন ঠিক করবে নতুন এ বিরোধী জোট। সভা-সমাবেশের পরিবর্তে হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও কর্মসূচি আসতে পারে।

এদিকে, বিএনপির সঙ্গে প্রথম বৈঠকে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা না হলেও সোমবার রাতে আ স ম আব্দুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা ছিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি।

ওই বৈঠকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট নেতারা পরিষ্কার করে বলেছেন, কেবল আন্দোলন করে সরকার পতন তাদের লক্ষ্য না। আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়াটাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং আসন ভাগাভাগির বিষয়টি এখনই ফায়সালা করা দরকার।

সূত্রমতে, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার চারটি দলের জন্য সর্বসাকুল্যে ৩০টি আসন ছাড়তে চায় বিএনপি। সেটাও আবার ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় সাপেক্ষে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘গণবিরোধী’ সরকারের পতনের লক্ষ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। সে কাজে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। আরও আলোচনা হবে। দেখা যাক কী হয়।

এছাড়া জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আসন ভাগাভাগির বিষয়টি প্রাসঙ্গিকভাবেই আসছে। আশা করছি খুব দ্রুতই বিষয়টি ফায়সালা হয়ে যাবে।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই