বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

কী হয়েছে সাকিব, মুশফিকের?

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম

কী হয়েছে সাকিব, মুশফিকের?

স্পোর্টস ডেস্ক

একজন মাঝে হয়ে উঠেছিলেন ‘মি. ডিপেন্ডেবল’। আরেকজন গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ দলের আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল। বাংলাদেশের সেরা দুই ব্যাটসম্যান, অথচ সাম্প্রতিক ফর্মে যেন চেনাই যাচ্ছে না দুজনকে। এশিয়া কাপের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও ব্যাট হাতে মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসানকে খুঁজে পাওয়া গেল না তাদের চেনা চেহারায়।

নিজের পছন্দের জায়গা চারে নেমেও সাকিব বল খেলতে পারলেন মাত্র সাতটি। পাঁচ রান করে পিটার বোরেনের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বাজে একটা বলে চালাতে গিয়ে শুধু ব্যাটের কানাতেই লাগাতে পারলেন। পরিণতি শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ। ছয় নম্বরে নেমে মুশফিকুর রহিম তো খেলতে পারলেন মাত্র দুটি বল! কোনো রান না করেই ফনডার গুগটেনের নিচু হয়ে আসা বলে বোল্ড।

তামিম ইকবালের অপরাজিত ৮৩ শেষ পর্যন্ত দলের রান ১৫৩-তে পৌঁছে দিলেও অচেনা ধর্মশালার উইকেটে অন্য ব্যাটসম্যানদের বেশ সংগ্রামই করতে হয়েছে। বল দেরিতে আসছিল, নিচুও হচ্ছিল অনেক। প্রথম ম্যাচে টসে হারটাও দুর্ভাগ্য হয়ে এসেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য। খেলার আগে ধর্মশালার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মাত্র একটা দিনই পেয়েছে বাংলাদেশ। উইকেট তো আরও অচেনা!

টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সুযোগ পেলে হয়তো ব্যাটিংয়ের আগেই উইকেটের আচরণ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেতে পারতেন ব্যাটসম্যানরা। তারপরও ১৫৩ এই উইকেটে জেতার মতো রানই। বোলিংটা তাই স্বস্তি নিয়েই শুরু করতে পেরেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। উইকেটের আচরণে একই থাকলে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ব্যাট করা সহজ হবে না ডাচ ব্যাটসম্যানদেরও।

তবে সাকিব আর মুশফিকের ফর্ম নিয়ে চিন্তাটা থাকছেই। তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই অনেক দিন ধরে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারছেন না দুজনের কেউই। গত নভেম্বর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। ওই সিরিজেই পরের দুই ম্যাচে করেছেন ২১ ও ২৮। এরপর কালকেরটিসহ টানা সাত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁর রান: ২, ২৬, ২৪*, ৪, ৪, ১২ ও ০।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই সেঞ্চুরি পর্যন্ত কী দারুণ ফর্মেই না ছিলেন মুশফিক! অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে দুর্দান্ত একটা বিশ্বকাপ খেলে আসার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। পরের দুই ম্যাচে ৬৫ ও অপরাজিত ৪৯।

ব্যাট হাতে সাকিবের ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না আরও আগে থেকে। গত জুনে ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজে পরপর দুই ফিফটি। এরপর এখন পর্যন্ত তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ১৮টি ইনিংস খেলে সাকিবের সর্বোচ্চ ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে করা ৪৮। কাল হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের টানা দশম ইনিংস। এই দশ ইনিংস মিলিয়ে তাঁর মোট রান ১৩৬। এর মধ্যে এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ৩২-ই সর্বোচ্চ ইনিংস।

মুশফিক, সাকিবের খারাপ সময়ের আলোচনায় অবশ্য আসবে ব্যাটিং অর্ডারে তাঁদের জায়গার বিষয়টিও। দুজনকেই এই সময়ে অনেক ম্যাচে ব্যাট করতে হয়েছে অভ্যস্ত জায়গার বাইরে। তবে সমস্যা যা-ই হোক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো কিছু পেতে হলে দলের দুই ব্যাটিং ভরসাকে অবশ্যই ফিরতে হবে নিজেদের চেহারায়। মুশফিক-সাকিবের কাছ থেকে রান না পেয়ে হল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ১৫৩ করা সম্ভব হতে পারে, বাংলাদেশ দ্বিতীয় পর্বে গেলে সেটা একটু কঠিনই হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩