শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার হু

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার হু

কুমিল্লা প্রতিনিধি  

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এ- ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে (ছাত্রী) শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও হত্যার হুমকি দিয়েছে একই বিভাগের অপর এক শিক্ষার্থী (ছাত্র)। এতে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে এবং নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন হুমকির শিকার হওয়া ঐ শিক্ষার্থী। হুমকির শিকার হওয়া ফারজানা আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। পড়া-লেখার পাশাপাশি সে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে শিক্ষানবিশ সংবাদকর্মী হিসেবে নিয়োজিত।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেয়া লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ২৭ এপ্রিল, ২০১৬ একাডেমিক ভবন (উত্তর) নিজ বিভাগের শ্রেণি কক্ষে (৪০১) বন্ধুদের সাথে অধ্যায়ন করছিলাম। এ সময় একাউন্টিং এ- ইনফরমেশন সিস্টেমস  বিভাগের ২০১৫-১৬ ছাত্র রাফিউল আলম দীপ্ত এবং জুনায়েদ আহমদ এসে আমাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে এতই অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে যে, তা শুনে আমি স্থবির হয়ে যাই। তারা আমাকে সম্প্রতি হত্যার শিকার হওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মতো অবস্থা করবে বলে শাসায়। আমাকে তনুর মতো অবস্থা করে আমার লাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ঝুলিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। আমি কিভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তারা তাও দেখে নেবে বলে হুমকি প্রদান করে। রাফিউল আলম দীপ্ত বলে, ‘আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দশটা লাশ ফেললেও আমাকে কিছু বলবে এমন কেউ নেই।’ এ সময় একই বিভাগের এবং একই শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মনজুরুল ইসলাম মিঠুন এদের সাথে ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এর আগে আমার সাথে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে বাকবিতণ্ডা করে। আমি তখন প্রতিবাদ করেছিলাম। এরই জের ধরে তারা আমার সাথে এই রকম ব্যবহার করে। এই বিষয়টি নিয়ে আমি খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষদ ভবনে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দ্বারা এরূপ ব্যবহার খুবই লজ্জাজনক। আমি দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ  প্রদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে তাদের বিচারের দাবি জানাই।’

অভিযোগ পত্রের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এবং বিভাগীয় প্রধানের কাছেও প্রদান করা হয়।

বিষয়টি জানতে রাফিউল আলম দীপ্তর মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বন্ধু জুনায়েদ আহমেদ এবং মনজুরুল ইসলাম মিঠুন বলেন, ফারহানা বিভিন্ন সময় আমাদের বিষয়ে খারাপ বলেছে তাই তাকে জিজ্ঞাসা করতে গিয়েছিলাম। তখন মাথা গরম ছিল তাই তার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে দু’ একটা খারাপ কথা বলে ফেলেছি তবে তনুর মতো কোনও পরিস্থিতির করার কথা বলিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। বিষযটি খতিয়ে দেখে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভাগীয় প্রধান ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধান (মিলিয়ে দেয়ার) করার চেষ্টা করছিলেন। ২০১৪তে একই বিভাগের এক ছাত্র অপর এক ছাত্রীকে চপেটাঘাত করার পর কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উভয় পক্ষকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/মে

 

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩