শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

কেরানীগঞ্জে মন্ত্রী-এমপিদের ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে র

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

কেরানীগঞ্জে মন্ত্রী-এমপিদের ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে র

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সরকারের যেসব মন্ত্রী-এমপি এবং বিচারপতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রাজধানীতে প্লট পায়নি তাদেরকে ফ্ল্যাট দেয়ার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকার কেরানিগঞ্জে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ লক্ষ্যে বর্তমানে জায়গা দেখার কার্যক্রম চলছে। তবে ওই প্রকল্পে মন্ত্রী-এমপি ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্যও কিছু ফ্ল্যাট সংরক্ষিত থাকবে। আর সেগুলো আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীর আশপাশে মন্ত্রী-এমপি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের জায়গার সন্ধানে ইতিমধ্যে রাজউকের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুটি প্লট প্রকল্পের জমির জন্য কেরানিগঞ্জ, উত্তরা, পূর্বাচলসহ আশপাশ এলাকা চষে বেরিয়েছেন। সুবিধামতো আবাসন প্রকল্প করতে প্রয়োজন অন্তত এক হাজার একর জমি। কিন্তু রাজধানীর আশপাশের কোথাও অধিগ্রহণ করার মতো ওই পরিমাণ জমি নেই। তবে জমি পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে দুটি আবাসন প্রকল্প নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুকে ঘিরে কেরানীগঞ্জ এলাকায় ঢাকা শহরের বিস্তৃতি ঘটছে। এজন্য কেরানীগঞ্জ এলাকাই এমপি-মন্ত্রীদের ফ্ল্যাট প্রকল্পের জন্য পছন্দের শীর্ষে রাখা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে ঢাকা-মাওয়া সড়কের পাশে বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠান জমি কিনে সেগুলো দখলে নিয়ে ভরাট করে ফেলেছে। এজন্য রাস্তার পাশে সুবিধাজনক স্থানে চাহিদা অনুযায়ী জমিও একসাথে পাওয়া যাচ্ছে না।

ইতিমধ্যে ঢাকা-মাওয়া সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে রাজউকের ঝিলমিল প্রকল্প। তার পাশেই রয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের দখিনা প্রকল্প। রয়েছে প্রিয় প্রাঙ্গণ প্রকল্পও। পাশাপাশি রয়েছে কেন্দ্রিয় কারাগার, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের আবাসন প্রকল্প, স্বপ্নধরাসহ অনেক আবাসন প্রকল্প। বলতে গেলে ঢাকা থেকে ধলেশ্বরী সেতু পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশে কোনো জমিই নেই। আবাসন কোম্পানিগুলো সব জমিই আগেভাগে দখল করে ফেলেছে। এখন কেরানীগঞ্জেই একটা জায়গা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তাছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র আরো জানায়, কেরানীগঞ্জে মন্ত্রী-এমপিদের ফ্ল্যাট প্রকল্প হলে ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। কারণ ইতিমধ্যে ঢাকা-মাওয়া সড়কের চার লেনের কাজ শুরু হয়েছে। তাছাড়া চুক্তি হয়ে গেছে আরামবাগ থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণেরও। এ অবস্থায় কেরানীগঞ্জে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হলে সহজেই ফ্লাইওভার দিয়ে ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছানো সহজ হবে। প্রকল্পে এমপি-মন্ত্রী বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফ্ল্যাটগুলো আকারে বড় ও আধুনিক সুবিধা সংবলিত হবে। তবে প্রকল্পটিতে কেবল মন্ত্রী-এমপিদের জন্যই নেয়া হচ্ছে তা নয়, এখানে অন্যদের জন্যও ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা থাকবে।

ফ্ল্যাট প্রকল্পের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন ভুঁইয়া বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের প্লট দেয়ার ব্যাপারে রাজউকের ওপর চাপ আছে। তাছাড়া পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত অনেককেই এখনো প্লট দেয়া সম্ভব হয়নি। তাদেরও পুনর্বাসনের প্রয়োজন। সব দিক বিবেচনা করে অন্তত একটি প্লটের প্রকল্প নেয়া খুবই দরকার। কিন্তু জমির অভাবে রাজউক তা করতে পারছে না।

অন্যদিকে এই প্রকল্প প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, যেসব মন্ত্রী-এমপির রাজধানীতে প্লট নেই, তারা সরকারের কাছে প্লটের দাবি করতেই পারেন। কিন্তু নতুন করে প্লটের প্রকল্প নেয়ার মতো জমি ঢাকার আশপাশে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এখন ফ্ল্যাট ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এমপি-মন্ত্রীদের এখন ফ্ল্যাটই দেয়া হবে। ১০তলা একটা ভবনের একেকটি তলা একেকজনকে দিয়ে দেয়া হবে। তাতে করে অল্প জায়গায় অনেকের আবাসনেরও ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩