রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

কোচিং ও সহায়ক বই বন্ধে শাস্তি ও জরিমানার বাড়ানোর উ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

কোচিং ও সহায়ক বই বন্ধে শাস্তি ও জরিমানার বাড়ানোর উ

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

দেশে বিদ্যমান শিক্ষা আইনে কোচিং বাণিজ্য ও নোটবই নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও অব্যাহতভাবে ব্রে হচ্ছে নোট-গাইডের আদলে সহায়ক বা প্রস্তুতিমূলক বই। কারণ এই ধরনের বই প্রকাশে এনসিটিবির কোনো অনুমতি নিতে হয় না।

২০০৯ সাল থেকে দেশের শিক্ষা খাতে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু করলেও সহায়ক বইয়ের দাপটে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। কারণ শিক্ষার্থীরাও মূল বই না পড়ে সহায়ক বই পড়ে।

এমনকি পাবলিক পরীক্ষায়ও শিক্ষকরা সহায়ক বই থেকেই প্রশ্ন করছেন। আর দেশজুড়েই সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে অব্যাহত রয়েছে কোচিং বাণিজ্যও। কিন্তু শিক্ষা আইনের খসড়ার বিষয়ে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক সংগঠন, শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে অর্ধশতাধিক মতামত পাওয়া গেছে।

তাতে শিক্ষাবিদরা কোচিং সেন্টার বন্ধ করা এবং সহায়ক, প্রস্তুতিমূলক বা নোট-গাইড বই প্রকাশ নিষেদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুততার সাথে শিক্ষা আইন পাসের পক্ষেও মত দিয়েছেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষা আইনের খসড়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পাঠানো মতামতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলোই হলো কোচিং বাণিজ্য বন্ধের শিক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর জেল ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান নির্ধারণ করা। 

পাশাপাশি গাইড বই ও নোট বইসংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে সহায়ক পুস্তিকা প্রকাশকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তা না হলে সহায়ক পুস্তিকার নামে নোট বই বা গাইড বইয়ের প্রকাশ আরো সম্প্রসারিত হবে। সেক্ষেত্রে আইন অমান্য করলে ৫ বছরের জেল ও ২৫ লাখ টাকার জরিমানার বিধান করতে হবে।

পাশাপাশি আইনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির বদলে সরকার কর্তৃক টিউশন ফি নির্ধারণ করার বিধান রাখতে হবে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদেও শারীরিক শাস্তি বন্ধের বিধানে ৩ মাসের জায়গায় এক বছরের জেল নির্ধারণ করার পক্ষেও সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, খসড়া শিক্ষা আইন-২০১৬ অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত বই ছাড়া অন্য কোনো বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে না। আর এই বিধান লঙ্ঘন করলে প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা ৬ মাসের কারাদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

তাছাড়া আইনের খসড়ায় শিক্ষকদের এমপিও (বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ) স্থগিত, কর্তন বা বাতিলের কথাও বলা হয়েছে। তবে এনসিটিবি কর্তৃক পান্ডুলিপির অনুমোদন নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বা প্রকাশক কেবল সহায়ক শিক্ষা উপকরণ বা সহায়ক পুস্তক বা ডিজিটাল শিখন-শেখানো সামগ্রী প্রকাশ করতে পারবে।

কিন্তু কোনো নোট-গাইড প্রকাশ করতে পারবে না। পাশাপাশি আইনের খসড়ায় প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং সেন্টার বন্ধে আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কেউ তা না মানলে ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড ও ৬ মাসের কারাদন্ড অথবা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, শিক্ষাবিদরা কোচিং সেন্টার বন্ধে সরকারকে জোরালো অভিমত জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোরও দাবি জানানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেউ বলল ভালোভাবে সহায়ক বা প্রস্তুতিমূলক বই বের করা হয়েছে তা হবে না।

শুধু এনসিটিবিই নয়, একটি প্যানেল করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তা আদৌ লাগবে কিনা। কারণ নতুন প্রজন্মকে নোট-গাইড দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষকরাও নোট-গাইডের সাহায্য নিচ্ছেন। যা শিক্ষা খাতের জন্য অমঙ্গলই বয়ে আনছে।

এদিকে খসড়া শিক্ষা আইনে সহায়ক বই প্রকাশে এনসিটিবির অনুমতি নেয়ার বিধান রাখায় প্রতিবাদ বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি কর্মসূচি পালন করছে। তারা আইনের সংশ্লিষ্ট উপধারা সংশোধন করে নিজেদের মতোই অনুমোদনহীন নোট-গাইড বা সহায়ক বই বের করতে চায়।

এই ব্যাপারে তারা ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, লাইব্রেরি বন্ধ রাখার মতো কর্মসূচিও পালন করেছে। বেসরকারি প্রকাশকরা যাতে স্বাধীনভাবে প্রাথমিক, মাধ্যমিকসহ সব স্তরের সহায়ক গ্রন্থ প্রকাশ ও বাজারজাত করতে পারে সেজন্য একটি মানসম্মত শিক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে- প্রস্তাবিত আইনে নোট-গাইডের যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। সেই প্রেক্ষিতে শাস্তির যে ধারা আছে তাও বাতিল করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন) আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, শিক্ষা আইনের খসড়ায় মতামত প্রদানের সময় আর বাড়ানো হবে না। কারণ এবার অনেক মতামত পাওয়া গেছে। এখন শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে গ্রহণযোগ্য মতগুলো পর্যালোচনা করা হবে। আর সেই আলোকেই আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হবে। তারপর তা মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে জাতীয় সংসদে যাবে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩