বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

ক্ষমতাসীনদের চাপে ফেলতে ব্যর্থ বিএনপি

জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

ক্ষমতাসীনদের চাপে ফেলতে ব্যর্থ বিএনপি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা, ভারতে বিএনপি নেতার ইহুদিযোগ, গুপ্তহত্যা এবং নতুন করে বিদেশিদের মধ্যস্থতার উদ্যোগেও বিএনপির জন্য ‘কল্যাণ বয়ে আনেনি। এত কিছুর পরও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলতে পারছে না বিএনপি। চাপ তো নয়-ই, উল্টো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে ফেঁসে যাচ্ছে দলটি।

সর্বশেষ মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপে এক পা-ও পিছু হটেনি সরকার। বিশেষ করে নিজামীর রায় কার্যকরের আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর, পাকিস্তানের কড়া প্রতিবাদ ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে সে দেশে ফিরিয়ে নেয়াসহ, এর কোনো কিছুই আমলে নেয়নি ক্ষমতাসীনেরা। পরবর্তীতে বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অজ্ঞাতদের হাতে ধাম্মা ওয়াসা মং শৈ উ চাক নামে এক ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে জাতিসংঘ।

পরিস্থিতি উত্তরণে জাতিসংঘে নিযুক্ত সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো বাংলাদেশে ফের কাজ শুরু করতে পারেন বলে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে সে সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানাননি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

সম্প্রতি ভারতে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর বৈঠকের বিষয়টিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছে ক্ষমতাসীনেরা। ছবিসহ গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর প্রচারে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক কমে আসবে বলেও তাদের ধারণা। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে প্রতিনিয়তই কথা বলছেন আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা। 

তারা বলছেন, বিএনপি যে ষড়যন্ত্রের দল তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে মিলে মুখে ইসলামের পক্ষের শক্তি দাবি করলেও তারা (বিএনপি) ক্ষমতার জন্য মুসলিমবিরোধী দেশ ইসরাইলের সঙ্গে আঁতাত করছে। মোসাদের সঙ্গে বিএনপির নেতা আসলামের বৈঠক হয়েছে। এতে মুসলিম বিশ্ব বিএনপি-জামায়াত জোট থেকে বিমুখ হয়ে যাবে বলেও মনে করছে আওয়ামী লীগ। মধ্যপাচ্যে এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষত সৌদি ব্লক প্রায় সর্বাংশে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ইরান সৌদি বিরোধী হলেও ইসরাইল প্রশ্নে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারকে সমর্থন দেবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা।

আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলছেন, ষড়যন্ত্র বা বিদেশি জুজুর ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলা যাবে না। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দিয়েই এগুতে চায় দলটি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের প্রতিনিধি বা বিদেশিদের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশের কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। নিজেদের সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করতে হবে। একই বিষয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে কেউ নাক গলাবেন না। বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ কারো কাছে মাথানত করে না। বঙ্গবন্ধু কারো কাছে মাথানত করেননি, শেখ হাসিনাও করবেন না।

গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে রাজনৈতিক ভুল বিএনপি করেছিল- তা একপর্যায়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বয়ং স্বীকারও করেছেন। এরপর আন্দোলনের নামে বাস-ট্রাকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে নিরীহ মানুষ হত্যা আরও পিছিয়ে দেয় বিএনপিকে। সাংগঠনিক পর্যায়ে বিএনপির সম্যসা বাড়ছেই। এর সুযোগ প্রতিপক্ষ ভালোভাবেই নিয়েছে।

তবে বিএনপির এসব রাজনৈতিক ভুল, সজীব ওয়াজেদ জয় অপহরণ ষড়যন্ত্র, বিএনপির ইসরাইল মুখিতা ইত্যাদি সত্তে¡ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু পশ্চিমা দেশ এবং পাকিস্তান ও তুরস্ক দুই তিনটি কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ আপোসহীন। তারা সন্ত্রাসবিরোধী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ তুলছে এবং কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে তা খুবই রহস্যজনক। সরকার এসব বিষয়কে তুচ্ছ ভাবছে, তেমনটাও নয়। তাহলে হচ্ছেটা কি?

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি ফিলিস্তিন ও মুসলিম জাহানের শত্রু। তাদের থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে। বিএনপি বৈঠকের কথা অস্বীকার করলেও আসলাম চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে তাকে পাঠানো হয়েছিল এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন ঘটানোর জন্য ইসরাইলি গোয়েন্দা বাহিনীর সহায়তায় ষড়যন্ত্র হচ্ছিল। তিনি বলেন, বেগম জিয়া মুখে ইসলামের কথা বলেন আর দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য মুসলমানদের এক নম্বর শত্রু  ইসরাইলকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন।

সরকার ও আওয়ামী লীগ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে ব্যবসায়িক সম্পর্কের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির মতে, আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ কিংবা আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদের মতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তিও বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত দিয়েই সম্ভব বলেই মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/জেডআরসি/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩