রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

খনিজের সন্ধানে নামছে সরকার

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

খনিজের সন্ধানে নামছে সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের নদীর বালিতে দুর্লভ খনিজদ্রব্য অনুসন্ধান করে দেখতে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের ধারণা- বালি থেকে মূল্যবান, দুর্লভ, কৌশলগত মৌল ও খনিজ আবিষ্কার এবং এ সংক্রান্ত তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। সে লক্ষ্যেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের নদীবক্ষের বালিতে মূল্যবান খনিজের উপস্থিতি নির্ণয় ও অর্থনৈতিক মূল্যায়ন নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জেলায় বালি পরীক্ষার কাজ করবে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র- মেঘনা নদীপ্রবাহে বছরে প্রায় এক বিলিয়নেরও বেশি পলল বাংলাদেশের ভূভাগে বহন ও সঞ্চয় করে থাকে। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর বালির রাসায়নিক ও মণিক উপাদান বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাতে গুরুত্বপূর্ণ মৌলসমৃদ্ধ অর্থনৈতিকভাবে মূল্যবান খনিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। সাম্প্রতিককালে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত বিভিন্ন অনুসন্ধানেও বাংলাদেশের নদীবাহিত বালিতে মূল্যবান মণিক ও মৌল উপাদানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ওসব তথ্য বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে বালি থেকে মণিক আহরণের আগ্রহ সৃষ্টি করে। এমনকি কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের বালি আমদানির বিষয়েও আগ্রহী। এই পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় রাসায়নিক ও মণিক উপাদানে ভূবৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সমীক্ষান্তে সরকার এসব বালি রপ্তানির বিষয় অনুমোদন করবে। তারই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ অনুসন্ধান কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীবক্ষের বালিতে সম্পদ সম্ভাবনার ওপর দৃষ্টিপাতের জন্য ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করে। এ পর্যায়ে জিএসবি জরুরি ভিত্তিতে নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর বালির ওপর আঞ্চলিক ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান পরিচালনার মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাইকাজ সম্পন্ন করে। ওই সমীক্ষার বিভিন্ন এলাকা থেকে গৃহীত নির্বাচিত ৮টি বালির নমুনায় উৎসাহব্যঞ্জক মাত্রায় অতিমূল্যবান খনিজ ও মৌলের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়।

সূত্র জানায়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন নদীর বালিতে মূল্যবান মণিক ও মৌলের উপস্থিতির অমিত সম্ভাবনা উদ্রেককারী পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জিএসবি বাংলাদেশের নদীবাহিত বালি অবক্ষেপের ওপর ব্যাপকভিত্তিক ও বিস্তারিত ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ সংশ্লিষ্ট স্থানিক ও সময়ানুগ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের নদীবক্ষের বালিতে দুর্লভ, মূল্যবান এবং কৌশলগত মৌল ও খনিজের উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে। যা ওই মূল্যবান সম্পদসমূহ আহরণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ বালির দামে অতিমূল্যবান বালি বিক্রয় বা ব্যবহার রোধ করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটি গ্রহণের আগে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর নিজস্ব উদ্যোগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত নদীবক্ষের বালিতে খনিজ পদার্থের উপস্থিতি বিষয়ে জরিপকাজ পরিচালনা করে। ওই সময় আশা জাগানো ফল পাওয়ায় সেই সমীক্ষা জরিপের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, প্রকল্প এলাকার নদীবক্ষ থেকে বালির নমুনা নিয়মতান্ত্রিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে বালির নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে  তেজস্ক্রিয় মৌলের মজুদ শনাক্ত করা, চিহ্নিত খনির বালির মোড অব ডিস্ট্রিবিউশন মজুদ ও উৎস সংশ্লিষ্ট মানচিত্র প্রণয়ন এবং নদীবক্ষের বালিতে চিহ্নিত খনিজ পদার্থ বা দ্রব্যের বাজারমূল্য বিবেচনায় অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করা।

এদিকে এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ জানায়, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীনভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটির কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য এডিপিতে সরকারি অংশে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। যা জ্বালানি বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্প থেকে উপযোজনের মাধ্যমে মেটানোর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) সাথে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) জানায়, নদীবক্ষের বালিতে দুর্লভ, মূল্যবান এবং কৌশলগত মৌল ও খনিজের উপস্থিতি বিষয়ে তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। যা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩