রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৫

খালেদা ছাড়াও নির্বাচনে যাওয়ার ভাবনা বিএনপিতে! 

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৮, সোমবার ০২:২২ পিএম

খালেদা ছাড়াও নির্বাচনে যাওয়ার ভাবনা বিএনপিতে! 

ঢাকা: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনকে ছাড়াই বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না- এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে আবর্তিত হওয়াই স্বাভাবিক। এর সূত্রপাত গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর সাজা এবং কারাবাস। 

অতীতে একাধিকবার শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা এমন প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তারা খালেদা জিয়াকে নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবেন। তবে কোনো কোনো শীর্ষ নেতার এ প্রশ্নে দ্বিমত বা বিকল্প ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দ্বিমত পোষণকারীরা বলছেন, কোনো কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হলে সেক্ষেত্রে দলীয় চেয়ারপারসনকে ছাড়াই তার নির্দেশনা নিয়ে বিএনপি নির্বাচনে যাবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ‘৫ জানুয়ারি মার্কা’ আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চাইছে। তারই অংশ হিসেবে ‘একটি মিথ্যা মামলায় জাল নথি তৈরি করে’ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে নিয়েছেন। সরকারের সে পরিকল্পনার নীলনকশা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে ফেলবে।’ 

আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কারো ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ড হলে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। সেক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসনের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হওয়ায় তিনিও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে আদালত থেকে জামিন লাভ ও একই সঙ্গে দণ্ডাদেশ স্থগিত হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না বিএনপি দলনেত্রীর। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সম্পাদক বলেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসন নির্বাচনে যেতে না পারলে সমস্যা নেই। প্রয়োজনে বেগম জিয়াকে ছাড়াই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তার ধারণা, ইতোমধ্যে বেগম জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন। তখন তার নির্দেশনা নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে বিএনপি। 

আগামী নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না সে সম্পর্কে ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি নির্ভর করছে আদালতের ওপর। আদালত যে নির্দেশ দেবেন তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। 

এ বিষয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার এম জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলে এবং নির্বাচনের আগে হাইকোর্টে মামলাটির নিষ্পত্তি না হলে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। 

সরকার যে পথে এগিয়ে যাচ্ছে তা মোকাবেলা বিএনপি করতে পারবে কি না, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিবেশ নিজেদের অনুকূলে নিতে পারবে কি না- এমন জোড়া প্রশ্নের জবাবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার তার নিজের মতো করে পরিকল্পনা করবে। আর বিএনপি তাদের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়ে পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নিয়ে আসবে। তার মতে, বিএনপি সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। 

সরকারি দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি অতীতের মতো আন্দোলনে ব্যর্থ হবে। সরকারি দলের নেতাদের এমন বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান দাবি করেন, বিএনপি অতীতে ব্যর্থ হয়নি। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সরকার দেশে-বিদেশে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটাই তো বিএনপির সফলতা। আগামীতেও বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের ‘একতরফা’ নির্বাচনের আকাঙ্খা ভণ্ডুল করে দেবে।

সোনালীনিউজ/জেএ