শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫

খুদে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ছে স্কুল ব্যাংকিং

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ মে ২০১৮, শুক্রবার ০৭:৫৯ পিএম

খুদে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ছে স্কুল ব্যাংকিং

ঢাকা : আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ার আওতায় স্কুলগামী দেশের প্রতিটি শিশুকে ব্যাংকিংসেবা, তথা আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচিতে আনতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি বা স্কুল ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।

এবারও ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলায় স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০১৮ শিরোনামে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পালন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শনিবার (১২ মে) ঢাকা জেলার ‘স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স-২০১৮’ অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ মাঠে এর উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং সম্পর্কে অবহিত করা, তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি এবং জীবনের শুরুতেই সঞ্চয়ের স্পৃহা ও অভ্যাস তৈরি করে এর সুফল সম্পর্কে একটি সুন্দর দর্শন নিয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এদিকে, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর পর থেকে তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের এ কার্যক্রমে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্ট খুলেছে। এসব অ্যাকাউন্টে সঞ্চয় স্থিতি ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এসব সঞ্চয় তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ার আওতায় দেশের সব আর্থিক সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিংসেবার আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর মধ্যে সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তোলা ও তাকে ব্যাংকমুখী করে তোলার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে স্কুল ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি।

এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা এবং জাতিসংঘ কর্তৃক ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’ অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।

জানা গেছে, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ইউথ ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশনালের’ (সিওয়াইএফআই) ‘কান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ার পরিধি বিস্তৃতকরণে এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের মানসিকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ২০১০ সালে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যদিও শিক্ষার্থীরা টাকা জমা রাখার সুযোগ পায় ২০১১ সাল থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলার কার্যক্রমকে জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক শিক্ষা প্রসার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সেবা গ্রহণের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা, আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও আর্থিক সেবার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং বিষয়ে অবহিত করে তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের মানসিকতা সৃষ্টি এবং তাদের ব্যাংক হিসাব খুলতে অনুপ্রাণীতকরণে ২০১৪-১৫ মেয়াদে প্রথমবার ঢাকাসহ সব বিভাগে ‘স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স’ শিরোনামে আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ বিষয়টি বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৬-১৭ সালে লিড ব্যাংক পদ্ধতির মাধ্যমে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। শুরু থেকেই লিড ব্যাংক পদ্ধতি সর্বমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার গৃহীত এসডিজির আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত এ কর্মসূচি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। এজন্য প্রতিটি জেলার প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত প্রক্রিয়ায় স্কুল ব্যাংকিং তথা আর্থিক শিক্ষা ও আর্থিক সেবা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দেন তারা।

স্কুল ব্যাংকিং চালুর পর থেকেই দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে খুদে শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল ব্যাংকিংয়ের আওতায় দেশের ৫৭টি ব্যাংকে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৬টি।

এসব হিসাবে সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে শহরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের খোলা ৮ লাখ ৮৯ হাজার ২৯টি অ্যাকাউন্টে জমা ৯৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। আর গ্রামের শিক্ষার্থীদের ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯০৭টি অ্যাকাউন্টে জমা ৪১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

সোনালীনিউজ/জেডআরসি/এমটিআই