শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫

গম আমদানিতে রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, সোমবার ১২:৩৭ পিএম

গম আমদানিতে রেকর্ড

ঢাকা : চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথম সাত মাসে গম আমদানির হার রেকর্ড ভাঙতে চলেছে। এ সময় পণ্যটি আমদানি হয়েছে ৪১ লাখ ৯১ হাজার টন। তবে গত অর্থবছরে মোট ৫৭ লাখ টন আমদানি হয়েছিল, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের শেষের দিকে চালের দাম বাড়ায় গমের চাহিদা বাড়ে। এ ছাড়া পণ্যটির আমদানি বাড়ার অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকেই গম আমদানি বেড়েছে। ওই সময় ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টন আমদানি হয়। এরপর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার টন এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি খাতে আমদানি করা হয় ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার টন।

বিশ্ববাজারে গমের দরপতনই পণ্যটির আমদানি বাড়ার প্রধান কারণ। আর চালের দাম বৃদ্ধি এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনেও পণ্যটির চাহিদা  বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ভালো মানের (হার্ড রেড উইন্টার) গম প্রতি টন ৩০০ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হতো। তবে ২০১৬ সালে গড় দাম কমে টনপ্রতি ১৬৬ ডলারে নামে। গত বছরও দাম ২০১১ সালের পর ছিল সর্বনিম্ন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর দাম কিছুটা বাড়লেও এখনো টনপ্রতি ২০০ ডলারের নিচে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের গমের দাম ১৯২ থেকে ২০০ ডলারের মধ্যে।

অন্যতম শীর্ষ গম আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর  চৌধুরী বলেন, ‘চালের দাম বেশি বলে আটার চাহিদা বেড়েছে। চালের দাম বাড়ায় গত বছর নিম্ন আয়ের মানুষ আটার প্রতি ঝুঁকেছে। আর বিশ্ববাজারে দাম বহু দিন স্থিতিশীল থাকায় অনেকে আমদানি বাড়িয়েছে।’  

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য প্রতিবেদন বলছে, গত সাড়ে সাত মাসে সরকারি খাতে ৪ লাখ ১ হাজার টন গম এসেছে। বাকি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার টন গম এনেছে বেসরকারি খাত অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা। অন্য কোনো বছরে এত আমদানি হয়নি। আর বন্দরে সাড়ে তিন লাখ টন গম খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব গম মজুত করছে ব্যবসায়ীরা।

এ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে গমের এলসি খোলা হয়েছে ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টন এবং এলসি নিষ্পন্ন হয়েছে ৩১ লাখ ৪৬ হাজার টন। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের গমের আমদানি ব্যয় হবে কেজিপ্রতি ২১ থেকে ২২ টাকা।

রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি গম আমদানি করে থাকে। অন্যদিকে ময়দা তৈরির জন্য ভালোমানের গম আমদানি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা  থেকে। প্রতিবছর মোট গম আমদানির মধ্যে সামান্য পরিমাণ আনে সরকার। তবে আমদানির ৯০-৯৫ শতাংশ আসে ব্যবসায়ীদের হাত ধরে।

বর্তমানে বেসরকারি খাতে সিটি, মেঘনা, টিকে, এস আলম ও বিএসএম গ্রুপ গম আমদানিতে শীর্ষে। আমদানির পাশাপাশি এসব শিল্প গ্রুপ আটা-ময়দা তৈরি করে বাজারেও সরবরাহ করছে। এ কারণে আমদানি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue