বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

গরমে অন্ধকারে গ্রাম, ভোগান্তিতে মানুষ

সোনালীনিউজ রিপোর্ট | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

গরমে অন্ধকারে গ্রাম, ভোগান্তিতে মানুষ

ঘাটতির কারণে অধিকাংশ সময়ই অন্ধকারে থাকছে দেশের গ্রামাঞ্চল। যদিও সেখানে বিদ্যুতের নতুন নতুন লাইন দেয়া হচ্ছে। এমনকি প্রতি মাসে কয়েক লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের ওসব গ্রাহকরা খুবই কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। গত ৬-৭ বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হলেও গ্রামে তার প্রতিফলন নেই।

বিশেষ করে গ্রীষ্ম, সেচ, অনাবৃষ্টির মতো পরিস্থিতিতে গ্রামাঞ্চল এখনো দীর্ঘসময় বিদ্যুৎহীন থাকছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে,আরইবির গত এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়─গত ২৬ এপ্রিল আরইবির আওতাধীন এলাকায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ২ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

আর ওই দিন আরইবির এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৮০৭ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া গেছে ২ হাজার ৭৬১ মেগাওয়াট। ওই মাসে আরো বেশ কয়েকদিনই চাহিদার তুলনায় দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৯শ’ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। অথচ গ্রামাঞ্চলভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরইবির এলাকায়।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) আরইবি নতুন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মোট ৩০ লাখ। অথচ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই সংযোগ দেয়া হয়েছে ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭৯টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে ৩ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি সংযোগ দেয়া হয়েছে।

তার মধ্যে গত মার্চ মাসেই নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ৭৩৪টি। তাছাড়া চলতি মে ও আগামী জুন মাসে আরো প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক নতুন সংযোগের আওতায় আসবে। ওই প্রায় ৩৮ লাখ গ্রাহকের জন্য আরইবির বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে প্রায় ১ হাজার ২শ’ মেগাওয়াট। এখনোও প্রতি মাসেই গ্রামাঞ্চলে চাহিদা বাড়ছে।

আরইবির ক্ষেত্রে শুরুতে প্রতি এক লাখ গ্রাহকের জন্য ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন ধরা হলেও তার প্রতিফলন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে পাওয়া যায় না। এমনকি গত এপ্রিলে আরইবির এলাকায় যখন ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি লোডশেডিং হয়েছে তখনো দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের তেমন ঘাটতি ছিল না বলে তথ্য প্রকাশ করা হয় পিডিবির দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে আরইবির সর্বোচ্চ দৈনিক চাহিদা প্রায় ৪ হাজার ৮শ’ মেগাওয়াট। ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম বিতরণব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত আরইবির ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭শ’। ১১ কেভি বিতরণ লাইনের (ফিডার) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই হাজার।

চলতি অর্থবছর শেষে আরইবির বিতরণব্যবস্থা প্রায় ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সক্ষম হবে। আর বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি না থাকলে গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ পাবে। তবে ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। লাইনের ওপর গাছপালা পড়ে প্রায়ই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়। তার প্রতিকার পাওয়ার মতো কোনো উপায় আপাতত নেই।

তাছাড়া নতুন নতুন সংযোগ দেয়া অব্যাহত থাকায় সব সময়ই কিছু কিছু ট্রান্সফরমার, উপকেন্দ্র ও বিতরণ লাইন ভারাক্রান্ত (ওভারলোডেড) হয়ে পড়ে। সেগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও সব সময়ই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন জানান, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কর্মসূচি নিয়েছে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আরইবি নতুন নতুন লাইন করছে। সংযোগ দিচ্ছে। বিতরণব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন করছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরইবির ওই কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। 

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩