শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

উচ্চ আদালতের রায়ের রেশ

গ্রেফতার কমেছে ৫৪ ধারায়, বেড়েছে ডিএমপি আইনে

জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

গ্রেফতার কমেছে ৫৪ ধারায়, বেড়েছে ডিএমপি আইনে

উচ্চ আদালতের রায়ের পর ৫৪ ধারায় গ্রেফতার কমেছে। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারে অভ্যস্ত পুলিশ তো আর বসে নেই। সমানতালে গ্রেফতার করে চলেছেন আগের মতো। এবার কৌশল ও আইন দুটোই পাল্টালো পুলিশ। 

আগে সন্দেহভাজন হিসেবে যে কোনো ব্যক্তিকে ৫৪ ধারার বলে গ্রেফতার করতে পারত পুলিশ। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে ৫৪ ধারা ও সাদা পোশাকে পুলিশের গ্রেফতার নিয়ে রায় দেন উচ্চ আদালত। 

বিনা পরোয়ানায় কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গ্রেফতার থেমে নেই পুলিশের। সেই প্রায় একই সন্দেহভাজনদের পুলিশ এখন গ্রেফতার করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যাক্টে। আর আগের তুলনায় গ্রেফতার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। 

আইনজ্ঞরা বলেছেন, ৫৪ ধারায় প্রথমত ‘যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ’র কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার করা হত। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ধারাটি ব্যবহৃত হত। ওই ধারা সংক্রান্ত আদালতের রায়ের পর ডিএমপি অ্যাক্টের ধারার অপব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। 

আদালত সূত্র জানায়, গত ৫ দিনে ৫৪ ধারায় কমপক্ষে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ আদালতের রায়ের আগে প্রতিদিনই ১০ থেকে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হত। মামলা হত দৈনিক গড়ে ৯টি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫৪ ধারায় ২৮২টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন কয়েশ’ মানুষ। 

৫৪ ধারার বিষয়ে আদালতের রায়ের পর গত ২৪ মে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হিমু হত্যা মামলায় জড়িত থাকতে পারে এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় রূপনগর থানা পুলিশ। রূপনগর থানার ওসি শেখ শহীদ আলম জানান, ৫৪ ধারায় যাতে হয়রানি করা না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই এই ধারায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। হিমু হত্যা মামলায় জড়িত থাকতে পারে এ ধরনের তথ্য রয়েছে বলেই চারজনকে ওই ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গত ২৪ মে একরামুল হক নামে এক ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ পাশে ফুটপাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ৫৪ ধারার ব্যবহার কমে গেলেও মেট্রো অ্যাক্টের ব্যবহার বেড়েছে। গত কয়েক দিনে কমপক্ষে ৩০টি মামলা হয়েছে মেট্রো অ্যাক্টে। 

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী সৈয়দ নাজমুল হুদা জানান, ৫৪ ধারার যত্রতত্র ব্যবহার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় সাভার থানা পুলিশ। প্রেম-ভালোবাসার কারণে প্রতিপক্ষের কাছে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও সন্দেহমূলক ঘোরাফেরার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ অভিযোগ করেছে। 

আইনজীবী সৈয়দ নাজমুল বলেন, ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ৯টি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে যে কোনো একটি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা যায়। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে, ঘনিষ্ঠদের প্ররোচনায় ৫৪ ধারার বেশি ব্যবহার হত। বিনা কারণে অনেককে ১০-১৫ দিন কারাগারে থাকতে হত। এখন ৫৪ ধারার পরিবর্তে  মেট্রো অ্যাক্ট বেশি ব্যবহার হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

বিশেষ করে মেট্রো অ্যাক্টের ৭৭ ধারায় চিৎকার করা, কারও গতিরোধ করা, ৭৮ ধারায় শান্তি ভঙ্গের উস্কানি, ৬৯ ধারায় ফুটপাতে পণ্য বিক্রি, ৭৬ ধারায় টিজ করা, ৭৪ ধারায় নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা ইত্যাদিও অপব্যবহার হতে পারে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। একইভাবে সাধারণ মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

গত ২৪ মে ৫৪ ধারায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ (১৬৭ ধারা) বিষয়ে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির এ দুই ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/ জেডআরসি/

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩