রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

ঘোষণার ৭ বছরেও সিসিসির পুনরুৎপাদন শুরু হচ্ছে না

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

ঘোষণার ৭ বছরেও সিসিসির পুনরুৎপাদন শুরু হচ্ছে না

বিশেষ প্রতিনিধি
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) লাভজনক থাকা অবস্থাতেই লোকসানের অজুহাতে ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে সরকার ২০০৯ সালে সেটি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছিল এবং তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী একই বছর কারখানাটি পুনরায় উদ্বোধনও করেন। কিন্তু তারপর ৭ বছর কেলেও গেলেও চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স উৎপাদনে যেতে পারেনি। বরং সব প্রস্তুতি শেষ করে এখন গ্যাস সংযোগ নিয়ে জটিলতায় উৎপাদন শুরু করা যায়নি বলে দাবি করছে সিসিসি কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ কেমিক্যাল করপোরেশন (বিসিআইসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৬৫ সালে চিটাগং কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু উৎপাদনক্ষমতা বাড়াতে ১৯৯৬ সালে তা আধুনিকায়ন করা হয়। ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাপানি একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন করে। তারপর উৎপাদনও বাড়তে থাকে। অথচ লাভজনক থাকা অবস্থাতেই লোকসানের কারণ দেখিয়ে ২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর কারখানাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে কারখানার ৫ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু সিসিসি বন্ধের নয় বছর পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া ২০০৯ সালের ২৪ এপ্রিল ওই প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন। আর উদ্বোধনের পর বিভিন্ন পদে ৩৯ জনকে নিয়োগও দেয়া হয়। পাশাপাশি কারখানা চালুর জন্য ওই বছরই চার দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। তাতে সাড়া না পাওয়ায় দরপত্র আহ্বান করা হয় পঞ্চম দফায়। ভারত ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয় এবং সরকার ১১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় চীনের ওয়াং এনিয়ং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সাথে ২০১৩ সালের এপ্রিলে চুক্তি করে। একই বছরের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে পরবর্তী ১৪ মাসের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদন উপযোগী করার কথা ছিল। কিন্তু যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিলম্বের কারণে সিসিসি পুনরায় চালুকরণ প্রকল্পটি দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের শেষ দিকে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কারখানাটি চালুর উপযোগী করে। কিন্তু এখন গ্যাস সংযোগ-সংক্রান্ত জটিলতায় সিসিসির উৎপাদ ঝুলে গেছে।
সূত্র জানায়, ২০০২ সালে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স বন্ধ হওয়ার পর দেশে বেসরকারি মালিকানায় বড় ৪টি কেমিক্যাল কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ওসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনক্ষমতা দৈনিক ৩শ’ টন। কিন্তু তার বিপরীতে দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪শ’ টন। ওই হিসাবে দেশে দৈনিক ১শ’ টন কেমিক্যালের ঘাটতি রয়েছে। ফলে আমদানির মাধ্যমে তা পূরণ করতে হচ্ছে। অথচ চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স চালু হলে দৈনিক সাড়ে ৭৮ টন রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন করা যাবে। যা দিয়ে চাহিদার অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। পাশাপাশি রাসায়নিক পণ্যের দামও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কম দামে বিশ্বমানের রাসায়নিক পণ্য সরবরাহের সুযোগ থাকলেও অজানা কারণে কারখানাটি চালু করা হচ্ছে না। অথচ চাইলেই চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে লাভজনক শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
এদিকে চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার বাড়বকু- ইউনিয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ৯১ দশমিক ১৯ একর জায়গাজুড়ে ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয় ডিডিটি ফ্যাক্টরি ও দ্য কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ অব পাকিস্তান লিমিটেড। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দুটি কারখানাই জাতীয়করণ করা হয়। রাসায়নিক পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও পরিচালনার সুবিধার্থে দুটি প্রতিষ্ঠানকে একত্র করে নামকরণ করা হয় চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স। ওই কারখানায় উৎপাদিত কস্টিক সোডা, তরল ক্লোরিন ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড ব্যবহার হতো স্টিল মিল, স্টিল রি-রোলিং মিল, পেপার মিল, সার কারখানা ও পোশাক শিল্পে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে লাভজনকভাবে চলার পর ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয়া হয় কারখানাটি।
অন্যদিকে বন্ধকালীন সময়ে কারখানায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল করপোরেশনের (বিসিআইসি) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সিসিসির পাওনা ছিল ৩৫ কোটি টাকা। ২ কোটি টাকা জমা ছিল নিজস্ব তহবিলে। কয়েক কোটি টাকার প্রস্তুত কেমিক্যাল ও দু’বছরের কাঁচামালও মজুদ ছিল। কিন্তু পরিবেশবান্ধব আয়ন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন সেল প্রযুক্তিসম্পন্ন কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়ে বিসিআইসি।
এ প্রসঙ্গে সিসিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ২০১৫ সালেই কারখানাটি চালুর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যায়। তবে গ্যাস সংযোগ না থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা চালু করা যায়নি। গতবছরের শেষ দিকে গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে রাসায়নিক তৈরির কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা যায় ফেব্রুয়ারিতে কমিশনিং শেষে মার্চ থেকে পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩