রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

চার দেশের সাথে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চালুর উদ্যোগ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

চার দেশের সাথে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চালুর উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
সরকার প্রতিবেশী ভারতসহ চারটি দেশের সাথে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চালুর করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেশী ভারত ছাড়া ওই দেশগুলো হচ্ছে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা। চলতি বছরের মধ্যেই এ ব্যাপারে থাইল্যান্ডে ও মিয়ানমারের সাথে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওসব দেশের সাথে বাংলাদেশ সমুদ্রপথে যুক্ত হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও কন্টেইনার প্রতি খরচ কমে আসবে এক-তৃতীয়াংশে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, থাইল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলে জাহাজ চলাচল শুরু হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে থাইল্যান্ডে পণ্য পরিবহনের সময় এবং ব্যয় তিন ভাগের একভাগে নেমে আসবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী মিয়ানমার ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথেও যোগাযোগ সম্পর্ক গড়ে তুলতে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড থেকে পণ্য আমদানি বা রফতানি করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। আর খরচও হয় অনেক বেশি। কারণ বর্তমানে ওসব দেশ থেকে পণ্যবাহী জাহাজকে সিঙ্গাপুর গিয়ে সেখান থেকে অন্য জাহাজে পণ্য তুলে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে, তারপর ঢাকায় আনা হয়। কিন্তু সরাসরি উপকূলীয় জাহাজ চালু হলে পণ্য আমদানিতে সময় লাগবে মাত্র ৫ থেকে ৬ দিন। আর বর্তমানে প্রতি কন্টেইনার পণ্যে খরচ হয় ২৪০০ ডলার (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে) ১ লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকা। যা উপকূলীয় জাহাজ চলাচলে খরচ হবে মাত্র ৮শ’ ডলার বা ৬২ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কন্টেইনারে খরচ বাঁচবে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮শ টাকা।
সূত্র জানায়, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ- এই দু’দেশের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবেন। একই সাথে এ ধরনের যোগাযোগ সম্পর্ক দুই জাতির মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্কও গড়ে তুলবে। তাছাড়া সার্কভুক্ত ভুটান ও নেপাল এদেশের বন্দর ব্যবহার করতে চাচ্ছে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার এ বছরের মধ্যেই থাইল্যান্ড ও মায়ানমারের সাথে জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারবে। আর শ্রীলঙ্কার সাথে এ বছর উপকূলীয় জাহাজ চলাচল শুরু না হলেও আগামী বছরের শুরুতেই তা চালু করা সম্ভব হবে।
সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা চুড়ান্ত হওয়ার পর সরকার ব্লু-ইকোনমির দিকে জোর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমে ভারতের সাথে উপকূলীয় পণ্যবাহী জাহাজ চালু করা হয়। এখন মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সাথে উপকূলীয় যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করার কাজ চলছে। সাগরবেষ্টিত ওসব দেশের সাথে চলতি বছরের মধ্যেই উপকূলীয় জাহাজ চালু করতে কাজ করছে পররাষ্ট্র ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সাথে চুক্তির জন্য এসওপিসহ সার্বিক কাজ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। তবে সেদেশের নির্বাচনের জন্য বিষয়টি আটকে আছে। এখন নির্বাচন শেষ হওয়ায় আশা করা যাচ্ছে খুব শিগগিরই মিয়ানমারে সাথে এবছরের মাঝামাঝিতে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর শ্রীলঙ্কার সাথে আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে এবং থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে দ্রুত চুক্তি করার বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ওসব দেশের সাথে উপকূলীয় জাহাজ চালুর জন্য দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে চুক্তি করতে সম্মতি দিয়েছেন।
এদিকে মালদ্বীপের সাথেও সরাসরি সমুদ্রগামী জাহাজ চালুর আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই মালদ্বীপের সাথে সরাসরি সমুদ্রগামী জাহাজ চালু হবে। বাংলাদেশের সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচলে দেশটি খুবই আগ্রহী। গতবছরের আগষ্টে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু মালদ্বীপ সফরে গেলে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনায় এই আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর দেশটির পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে চুক্তি করার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তবে মালদ্বীপের সঙ্গে উপকূলীয় নয়, সরাসরি সমুদ্রগামী জাহাজ চালু হবে। মালদ্বীপের সাথে এ বিষয়ে চুক্তি করতে সরকার একটি কমিটিও গঠন করেছে। ওই কমিটি বেশকিছু কাজ এগিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে উপকূলীয় জাহাজ চালু সংক্রান্ত কমিটির বেসরকারি প্রতিনিধি এসকে মাহফুজ হামিদ জানান, উপকূলীয় জাহাজ চলাচলে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবসায় নতুন অধ্যায় শুরু হবে। ভারতের সাথে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ এর সুফল পাবে। বাংলাদেশ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা থেকে আমদানি বা রপ্তানি করার জন্য বিদেশি জাহাজকে ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু উপকূলীয় জাহাজ চালু হলে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবসায়ীরা ওই টাকা পাবেন। তাতে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। তাছাড়া আগে মুম্বাই থেকে একটি পণ্যবাহী জাহাজ সিঙ্গাপুর হয়ে ঢাকায় আসতে প্রায় এক মাস সময় লেগে যেতো। এখন সেই পণ্য আসতে সময় লাগে মাত্র ৪ দিন। ঠিক একইভাবে শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ঢাকায় আসতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। তাতে সময়ও বেশি লাগে এবং কন্টেইনার ভাড়াও বেশি লাগে। কিন্তু চুক্তির ফলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ সময় ও ব্যয় কমে যাবে।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় বলেন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার সাথে উপকূলীয় জাহাজ চলাচলের জন্য ওসব দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় এক সভায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত আমাদের একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করতে বলেছেন। আশা করা যাচ্ছে এবছরের মধ্যেই থাইল্যান্ডের সঙ্গে উপকূলীয় জাহাজ চালু করতে পারবো। তাছাড়া বাংলাদেশের সাথে থাইল্যান্ডের সংযুক্তি ঘটলে আন্দামান সমুদ্রের উপকূলে অবস্থিত দেশটির র‌্যানং পোর্ট থেকে বঙ্গোপসাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে কোস্টাল জাহাজ চলাচল করবে। এ লক্ষ্যে আরো কয়েকটি বন্দরের সাথে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩