শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

জাতীয় কবিতা উত্সবের শ্লোগাণ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

জাতীয় কবিতা উত্সবের শ্লোগাণ

ফরিদুজ্জামান :

১৯৮৭ সালে প্রথম জাতীয় কবিতা উত্সবের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা গণ আন্দোলন শুরু করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দিচ্ছেন কবি সুফিয়া কামাল। ছবিটি সে সময়ের। সেই থেকে ভেতরের তাগিদে জাতীয় কবিতা উত্সব যাপন করে আসছি নিরন্তর.......
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে গতকাল শুরু হয়েছে ৩০তম জাতীয় কবিতা উত্সব। ‘কবিতা মৈত্রীর কবিতা শান্তির’ স্লোগান নিয়ে এবারের আয়োজন। সকাল ১০টায় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক দু’দিনব্যাপী উত্সবের উদ্বোধন করেছেন।
এ উপলক্ষে গতপরশু দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। সংবাদ সম্মেলনে কবি রবিউল হুসাইন বলেন, ‘কবিতাকে নিয়ে ৩০ বছর পার করেছে এদেশের কবি ও কবিতাপ্রেমী মানুষরা। এবার আমাদের ৩০তম উত্সব। যে দেশের মানুষ কবিতা নিয়ে ৩০ বছর পার করতে পারে, কবিতা নিয়ে উত্সব করতে পারে তাদের জীবনে জঙ্গিবাদের মতো কোনো জটিলতা স্পর্শ করার কথা নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে কবি মুহাম্মদ সামাদ পরিষদের পক্ষ থেকে কবি রফিক আজাদের চিকিত্সার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত কবিকে চিকিত্সার জন্য বিশেষ বিমানে বিদেশে পাঠানোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন উত্সবের আহ্বায়ক কবি রবিউল হুসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি কাজী রোজী এমপি, কবি ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি নাসির আহমেদ, কবি আসলাম সানী, কবি আমিনুর রহমান সুলতান প্রমুখ। এবারের উত্সবে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, সুইডেন, নরওয়ে, স্লোভাকিয়া, মরক্কো, তাইওয়ান ও নেপালের বিশিষ্ট কবিরা যোগ দিয়েছেন।ভারতীয় কবি বীথি চট্টোপাধ্যায়, সেবন্তী ঘোষ, আনসার উল হক, রাসবিহারী দত্ত ও মোহর চট্টোপাধ্যায়, সুইডিশ কবি লারস হেগার, বেনত বার্গ, নরওয়েজিয়ান কবি এরলিং কিতেনসেন, সোভাকিশ কবি মিলান রিচার, মরক্কোর কবি বেনাইসা বোমালা প্রমুখ। কবিতা পাঠ, প্রবন্ধ পাঠ ও কবিতা থেকে গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এই উত্সব।
১৯৮৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত প্রতিবছরই নতুন নতুন সময়োপযোগী শ্লোগানে প্রতিবাদ মুখর হয়েছে জাতীয় কবিতা পরিষদের কবিরা।
১৯৮৮ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২য় শ্লোগাণ ছিল – স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা।
১৯৮৯ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৩য় শ্লোগাণ ছিল – সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কবিতা।
১৯৯০ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৪র্থ শ্লোগাণ ছিল – কবিতা রুখবেই সন্ত্রাস।
১৯৯১ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৫ম শ্লোগাণ ছিল – গণতন্ত্রের পক্ষে কবিতা।
১৯৯২ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৬ষ্ট শ্লোগাণ ছিল – কবিতা রুখবেই মৌলবাদ।
১৯৯৩ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৭ম শ্লোগাণ ছিল – জয় বাংলার জয় কবিতার।
১৯৯৪ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৮ম শ্লোগাণ ছিল – জনতার সংগ্রাম কবিতার সংগ্রাম।
১৯৯৫ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৯ম শ্লোগাণ ছিল – মানুষের অধিকার কবিতার অঙ্গীকার।
১৯৯৬ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১০ম শ্লোগাণ ছিল – মানবিকতার প্রত্যয়ে কবিতা।
১৯৯৭ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১১ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতা মুক্তিও শ্বাশত শক্তি।
১৯৯৮ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১২ তম শ্লোগাণ ছিল – শান্তি-সম্প্রীতী আনবে কবিতা।
১৯৯৯ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১৩ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতা তিমির বিনাশী।
২০০০ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১৪ তম শ্লোগাণ ছিল – মাতৃভাষার আলোক ধারায় কবিতার হোক জয়।
২০০১ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১৫ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতা উত্সব সত্য সুন্দরের উত্সব।
২০০২ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১৬ তম শ্লোগাণ ছিল – কালের যাত্রায় কবিতার জয়ধ্বনি।
২০০৩ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১৭ তম শ্লোগাণ ছিল – জয় কবিতার জয় মানবতার।
২০০৪ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১৮ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতা আনবেই সুসময়।
২০০৫ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ১৯ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতা প্রতিরোধের হাতিয়ার।
২০০৬ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২০ তম শ্লোগাণ ছিল – জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কবিতা।
২০০৭ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২১ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতা বারবার ফিরে আসে নতুন মিছিলে।
২০০৮ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২২ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতার মন্ত্র জয় গণতন্ত্র।
২০০৯ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২৩ তম শ্লোগাণ ছিল – জয় জনতার, জয় কবিতার।
২০১০ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২৪ তম শ্লোগাণ ছিল – নতুন কবিতা নতুন সময়।
২০১১ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২৫ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতার উৎসব মুক্তির উৎসব।
২০১২ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২৬ তম শ্লোগাণ ছিল – কবিতা শোণিতে, স্বপ্নের ধ্বনিতে
২০১৩ সালে জাতীয় কবিতা পরিষদের ২৭ তম শ্লোগাণ ছিল – যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি আজ কবিতার।

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩