সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ছোট ভাই জিএম কাদেরকে এরশাদ দলের কো-চেয়ারম্যান ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় স্ত্রী রওশন এরশাদ গ্রুপ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে রওশন এরশাদকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গুলশানে রওশনের বাসায় দ্বিতীয় দফায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু।
বাবলু বলেন, ‘এরশাদ দলীয় গঠনতন্ত্র না মেনেই তার ছোট ভাইকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। এ নিয়ে কোনো ফোরামেই তিনি আলোচনা করেননি। গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা বলে তিনি একাই কাউকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা দিতে পারেন না। আর গঠনতন্ত্রের এমন কোনো পদও নেই। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গঠনতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে আজকের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে রওশন এরশাদকে দলের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এর আগে দুপুরে রওশন এরশাদের গুলশানের বাসভবনে পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া এক মন্ত্রী রওশনকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান করে আরেকটি জাতীয় পার্টি করার প্রস্তাব দেন। উপস্থিত অন্য মন্ত্রীরা তাতে সমর্থন দিলেও রওশন আরো অপেক্ষা করতে বলেন। রওশন বলেন, দলের চেয়াম্যানের কাছে আমরা জানতে চাইবো কেন তিনি আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে এ সিদ্ধান্ত নিলেন।
বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে- পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ কোন এখতিয়ারে জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করেছেন? বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন পার্টির প্রসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, জিএম কাদেরের বিষয়টি নিয়েই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় আপনাদের জানানো হবে।
এরপর সন্ধ্যার বৈঠকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমাম এমপি, কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতী, লিলি চৌধুরী, রওশন আরা মান্নান, এটিএম তাজ রহমান, গোলাম কিবরিয়া টিপু, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ওমর ফারুক এমপি, সেলিম উদ্দিন এমপি, মোহাম্মদ নোমান এমপি, আমির হোসেন এমপি, এহিয়া চৌধুরী এমপি, নুরুল ইসলাম মিলন এমপিসহ অন্তত ২০ জন প্রসিডিয়াম সদস্য এবং এমপি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এই বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা আসেননি।

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩