রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

জালেমদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

জালেমদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই

মাওলানা মুহম্মাদ জিয়াউদ্দিন
আল্লাহ প্রদত্ত জীবনবিধানে ইসলামে বুদ্ধিজীবীদের বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে বলা হয়েছে, শহীদের রক্তের চেয়ে বিদ্বানের কালি পবিত্রতর। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর সহযোগীরা দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করে এ দেশেরই কিছু আৎদবিকৃত মানুষ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে এ ধরনের নির্যাতনকারীদের ধিক্কার দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যে ইসলামের সম্পর্ক নেই তা স্পষ্ট করা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : 'অচিরেই এমন অনেক (অত্যাচারী) শাসকের আবির্ভাব ঘটবে, তোষামোদকারীরা যাদের পাশে পাশে থাকবে। তারাও মানুষের ওপর নির্যাতন ও মিথ্যাচার চালাবে। যে ব্যক্তি জালেমদের সঙ্গে চলাফেরা করবে, তাদের অত্যাচারে সহায়তা করবে এবং তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে, সে আমার দলের নয়, আমিও তার সঙ্গে নেই। আর যে লোক অত্যাচারী থেকে দূরে সরে থাকবে, অত্যাচারের সহযোগী হবে না, সে আমার প্রিয়জন, আমিও তার দলের।' -আহমদ ইবনে হেব্বান।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, 'যে লোক কোনো জালেমকে সহায়তা করবে, অপর কোনো না কোনো জালেমকে তার ওপরও চাপানো হবে।' হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়ার (র.) বলেন : 'জালেম ও জালেমের সহযোগীদের দিকে অন্তরের ঘৃণা ও বিদ্বেষের দৃষ্টি ছাড়া অন্য কোনো দৃষ্টিতে তাকিও না, অন্যথায় তোমাদের নেক আমলগুলো বরবাদ হয়ে যেতে পারে।' মাকহুল দামেশকী (র.) বলেন, 'কেয়ামতের দিন যখন এই বলে ডাকা হবে, জালেম ও তার সহযোগীরা কোথায়? তখন জালেমের কলমে যে ব্যক্তি কালি ভরে দিত, এমনকি আরও ছোটখাটো বিষয়ে যে সাহায্য করত, সে-ও পরিত্রাণ পাবে না, তাকেও জালেমের সঙ্গে একত্রে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে। হজরত সুফিয়ান সাওরীর কাছে এক দর্জি এসে বলল : আমি (জালেম) বাদশার পোশাক তৈরি করি, আমিও কি তার জুলুমের অংশীদার? সাওরী (র.) বললেন : তুমি নিজে তো জালেমই, এমনকি তারাও জালেম যাঁরা তোমাদের মতো মানুষের কাছে সুঁই সুতো বিক্রি করে।
অপর এক হাদিসে নবি পাক রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : 'কেয়ামতের দিন তারাই প্রথম জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে, জালেমের পক্ষে যাঁরা অস্ত্র বহন করত এবং অকারণে মানুষকে তা দিয়ে আঘাত করত। হজরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন : 'কেয়ামতের দিন জালেমের সহযোগীরা জাহান্নামের কুকুরে পরিণত হবে।' আর এক হাদিসে নবি করীম রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : 'যে স্থানে মজলুমের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বা তাকে হত্যা করা হয়, তোমরা কেউ সে স্থানে অবস্থান কর না। কেননা, সে স্থানে থেকেও যাঁরা তা প্রতিহত করে না, তাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। লেখক : ইসলামি গবেষক
সোনালীনিউজ/ঢাকা

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩