শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

তনু হত্যা পরিকল্পিত, জড়িত ৩ থেকে ৪ জন : সিআইডি

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

তনু হত্যা পরিকল্পিত, জড়িত ৩ থেকে ৪ জন : সিআইডি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন সিআইডি। আর এ পর্যন্ত তদন্তে এ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে ৩ থেকে ৪ জন জড়িত ধারণা করা হচ্ছে। তনু হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে হত্যার এক মাসে অন্তত ৫২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিআইডি সূত্র জানায়, সিআইডির তদন্ত দলের প্রধান বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ, কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিভাগের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান, সিআইডি ঢাকার সিনিয়র এএসপি এহসান উদ্দিন, ইন্সপেক্টর সৈয়দ গোলাম মওলা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজি মো. ইব্রাহিমসহ আরো একাধিক কর্মকর্তা আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কুমিল্লা সেনানিবাসে যান।

এ সময় তারা নিহত তনুর মা আনোয়ারা বেগম, ছোটভাই আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলেন। পরে তারা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কার্যালয়ে যান। সেখানে অতিথিশালায় চার সেনা কর্মকর্তার সাথে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেন। এই কথাবার্তা যাদের সাথে হয়েছে তাদের পরিচয় জানাতে রাজি হন নি সিআইডির কোন কর্মকর্তা। সিআইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঐ কর্মকর্তাদের সাথে কথাবার্তা হয়েছে। অনেকগুলো বিষয় আমাদের জানার ছিল।

কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিভাগের সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান আজ মঙ্গলবার রাতে জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ৫২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।  তদন্তের এ পর্যায়ে এসে আমাদের মনে হয়েছে এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত হত্যা। একাধিক লোক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ সংখ্যা ৩ থেকে ৪ জন হতে পারে।

তিনি আরও জানান, আমরা সিডিআর, ডিএনএ ও মোবাইলের ফরেনসিক পরীক্ষা করছি। ঘটনাস্থলের আশেপাশে যাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। যেহেতু সেনানিবাসের ভিতরে এ ঘটনা তাই এটি খুব স্পর্শকাতর। তার আমরা সেনানিবাসের সকল এজেন্সির সহযোগিতা চাইছি। তারা সহযোগিতা করছেও।

তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, তদন্তে ভালো অগ্রগতি আছে। শীঘ্রই আমরা ভাল কিছু জানাতে পারবো। সেই সাথে হতাশার ব্যক্ত করে ড. নাজমুল করিম খান জানান, প্রথম ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ বা হত্যা সম্পর্কে একটি দিক নির্দেশনা থাকে। প্রথমটিতে এই দিকনির্দেশনা আমরা পাই নি। তার মানে এই নয় আমরা এটির উপর নির্ভর করেছি। দ্বিতীয় ময়না তদন্ত প্রতিবেদন দেখে বুঝা যাবে তদন্ত কোন দিকে যাচ্ছে।

এদিকে সিআইডির তদন্ত দল মনে করছে তনুকে অন্যত্র হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় থেকে অন্তত আড়াই ঘণ্টা আগে তাকে হত্যা করা হয়। আর লাশ ঘটনাস্থলের ফেলা হয় লাশ পাওয়ার সময়ের দেড় ঘণ্টা আগে। কেননা তনুর মা আনোয়ারা বেগম তনুকে খুঁজে না পেয়ে পাহাড় হাউস এলাকার যে স্থানে তনুর লাশ পাওয়া গেছে সে স্থানের কালভার্টটিতে বসে ছিলেন। রাত সোয়া নয়টা পর্যন্ত তিনি সেখানে বসে ছিলেন। তনুর বাবা এয়ার হোসেন যখন তনুকে খুঁজতে যায় তখনও কালভার্টের কাছে কোনো জুতা বা কিছু পড়ে থাকতে দেখে নি। এই সোয়া নয়টা থেকে লাশ পাওয়ার সময় পর্যন্ত সময়ের মধ্যের কোন সময়ে তনুর লাশ জঙ্গলে এনে ফেলা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছেন তনুর লাশ যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য থেকে। চিকিৎসক তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তনুকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর ঠাণ্ডা ছিল। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার শরীর ঠাণ্ডা হতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/মে

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩