রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

তালেবানের নতুন প্রধান সৈনিক নন, তাত্ত্বিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

তালেবানের নতুন প্রধান সৈনিক নন, তাত্ত্বিক

আফগান তালেবানের নতুন প্রধান মোল্লা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পূর্বসূরীদের মতো ‘সৈনিক নন’, বরং তিনি একজন ‘তাত্ত্বিক নেতা’  বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। গত শনিবার পাকিস্তানে আফগান তালেবান প্রধান মোল্লা আখতার মনসুর যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর আখুন্দজাদাকে গত বুধবার গোষ্ঠীটির প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আফগানিস্তানে তালেবানের পাঁচ বছরব্যাপী শাসনকালে আখুন্দজাদা দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ বিচারক ছিলেন। ওই সময় তালেবানের দেওয়া অনেকগুলো কঠোর ফতোয়া তার তরফ থেকেই এসেছিল বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তালেবানের সাবেক প্রধানদের মতো আখুন্দজাদাও আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহার থেকেই এসেছেন। মোল্লা মনসুর ও তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরও কান্দাহারেই লোক ছিলেন। ওমর ২০১৩ সালে অসুখে ভুগে মারা যান। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আভিযানে তালেবান ক্ষমতা হারানোর পর আখুন্দজাদাকে তালেবানের ‘প্রধান বিচারক’ মনোনীত করা হয়। পঞ্চাশোর্ধ আখুন্দজাদা মনসুরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও তার দুই উপপ্রধানের একজন ছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লড়াইয়ের ময়দানে ‘বীর’ হিসেবে আখুন্দজাদার কোনো পরিচিত নেই, বরং ধর্মীয় ও আইন নিয়ে পড়াশোনা করার মতো জীবনই বেছে নিয়েছেন তিনি। তালেবানের কট্টরপন্থি ইসলামি ধারার সঙ্গে মুসলমানরা কীভাবে মানিয়ে চলবে তার অনেকগুলো ফতোয়া তিনিই জারি করেছিলেন বলে বলা হয়। তালেবান বিশেষজ্ঞ রহিমুল্লাহ ইউসুফজাইয়ের তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৯ থেকে ৮৯ পর্যন্ত আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্বের সময় আখুন্দজাদা পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। তিনি ওমর ও মনসুরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত আফগান মুজাহিদের হয়ে লড়াই করে ‘নাম’ করেননি। মনসুরের মতো তিনিও আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন কীনা তা এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ওমর বা মনসুরের চেয়ে তিনি অনেক বেশি তার শুরা কাউন্সিলের ওপর নির্ভর করবেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই তাকে চলতে হবে। বয়স ও জ্যেষ্ঠতা বিবেচনায় তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বরাদার এগিয়ে থাকলেও আখুন্দজাদাই আফগান তালেবানের প্রধানের পদ পেয়েছেন।
প্রকাশিত সংবাদে বরাদার পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের হাতে আটক আছেন এমনটি বলা হলেও তিনি আখুন্দজাদার সঙ্গে শীর্ষপদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছিলেন বলেই ধারণা কয়েকটি সূত্রের। দ্বন্দ্ব ও বিতর্ক এড়াতেই আখুন্দজাদাকে মনোনীত করা হয়েছে, বলেন ইসলামাবাদ-ভিত্তিক বিশ্লেষক আমির রানা। তারপরও আফগান তালেবানের নতুন নেতার সামনে বন্ধুর পথই অপেক্ষা করে আছে বলেই মনে করেন অপর বিশ্লেষক ইউসুফজাই

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩