মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৭, ১১ বৈশাখ ১৪২৪

তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় হুমকিতে সেচ প্রক

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম

তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় হুমকিতে সেচ প্রক

বিশেষ প্রতিনিধি

আশঙ্কাজনক পরিমাণ কমে গেছে তিস্তার পানি। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলতি বছরের বোরো মৌসুমে তিস্তা প্রকল্পের আওতাধীন সব জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হবে না। এ জন্য চলতি বছর সেচ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয়েছে মাত্র ১০ হাজার হেক্টর।

ফলে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, রংপুর ও নীলফামারী জেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমি এবারো সেচের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাছাড়া নদীতে পানিশূন্যতার কারণে অববাহিকা অঞ্চলে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভারতের সাথে বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি করা সম্ভব না হওয়ায় ওই নদীর অববাহিকা অঞ্চলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে বালিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে ওই নদীর অববাহিকা অঞ্চলের কৃষিজমি। আর চরাঞ্চলের জমিতেও পানির অভাবে ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পানিস্বল্পতার কারণে প্রতি বছর তিস্তা প্রকল্পের আওতাধীন জমিতে প্রয়োজনীয় সেচও দেয়া যাচ্ছে না। পামাপাশি সেচ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণও প্রতি বছরই কমিয়ে আনা হচ্ছে। চলতি বছরও সেচ সরবরাহের পরিমাণ কমানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পানির অভাবে চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ফলে নীলফামারীর ডিমলায় ৩ হাজার ৫০০, জলঢাকায় ৬ হাজার ও নীলফামারী সদরে ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আর নীলফামারীর ১৮ হাজার ৫০০, দিনাজপুরের ২০ হাজার এবং রংপুর জেলার ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হবে না।

সূত্র জানায়, বর্তমানে তিস্তার পানিপ্রবাহ মাত্র ১ হাজার কিউসেক বা তারও কম।। ফলে গতবছরের চেয়ে এবার চলতি রবি ও খরিফ-১ মৌসুমে সেচ প্রদানের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর কমিয়ে আনা হয়েছে। এবার শুধুমাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের ক্যানেলের মাধ্যমে শুধুমাত্র নীলফামারীর জেলার ডিমলা, জলঢাকা, নীলফামারী সদরের কিছু অংশে পানি সরবরাহ করা হবে। এ পরিস্থিতিতে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় চলতি বোরো মৌসুম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বিগত ২০১৫ সালে ২৮ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু পানিস্বল্পতার কারণে মাত্র ৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে সেচ সররবাহ করা সম্ভব হয়। ফলে সেচ প্রকল্পের আওতাধীন অনেক জমির ফসলই পানি সঙ্কটের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। তখন অনেক চাষীকেই বিকল্প পদ্ধতিতে জমিতে সেচ প্রদান করতে। তাদের তাদের সেচ খরচ দ্বিগুণ দাঁড়ায়। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন চাষীরা। তাছাড়া ২০১৩ সালেও ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও প্রদান করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ২৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। আর ২০১৪ সালে ৩৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি কমিয়ে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টরে। কিন্তু পানিপ্রবাহ মাত্র ২০০ কিউসেকে নেমে আসায় ৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়।

এ প্রসঙ্গে তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিফ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজ থেকে গত ৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সেচ প্রদান শুরু হয়েছে। তবে উজানের পানিপ্রবাহের মাত্রা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাতে তিস্তার বাংলাদেশ অংশ পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তা ব্যারেজের কমান্ড এলাকায় সম্পূরক সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়বে।

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue
মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৭, ১১ বৈশাখ ১৪২৪