শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

তীব্র শীতে এতিমদের পাশে নেই কেউ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

তীব্র শীতে এতিমদের পাশে নেই কেউ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘায় ১৬৯ এতিম ঠান্ডায় কাতর হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে এতিমদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি কেউ। ফলে এমতিম খানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার তাদের নিয়ে পড়েছে বেকায়দায়।

সরকারি ও বে-সরকারিভাবে কোন কোন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও এতিমদের জন্য বরাদ্দ হয়নি। এতিমদের জন্য শীতে গরম কাপড় কিনে দিতে পারছে না। তিনবেলা খাবার জটানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শীতের পোশাক দিবো কিভাবে এই দুশ্চিন্তায় রয়েছে। এতমিদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছে। গতবার শীতে এতমিদের জন্য কিছু সুয়েটার দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার তাও পায়নি। পেলে কিছুটা শীত নিবারন হতো। এতো শীত যাচ্ছে এখন পর্যন্ত শীতের গরম কাপড় সাহায্য হিসেবে পায়নি। এদিকে কেউ খেয়াল করেনা। অনেকবার নেতাদের বলা হয়েছে, কিন্তু লাভ হচ্ছে না। এমননি কথা বলেন এমতিম খানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার।
 
রাজশাহী শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের সরেরহাট গ্রাম। এ গ্রামে গড়ে উঠেছে ছোট্ট একটি এতিম খানা। নাম দেয়া হয়েছে সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন। বর্তমানে এতিমের সংখ্যা ১৬৯ জন। এর মধ্যে ছেলে ১১৮ জন ও মেয়ে ৫১ জন। এসব এতিম সন্তানরা কেউই তার নিজের নয়। ৩১ বছরে পৈতৃক ১৭ বিঘা জমি বিক্রয় করে এতিমদের রক্ষা করে চলেছে। এতে দেশের মানুষের ভালবাসা ছাড়া কি-ই-বা পেয়েছে। পেয়েছে কেবল একটি খেতাব “সাদা মনের মানুষ” তাতে তো আর এতিমদের পেট ভরেনা। কিন্তু চলমান ঠান্ডায় বেকায়দার রয়েছে এতিমদের নিয়ে। এতো ঠান্ডা যাচ্ছে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউ শীতবস্ত্র দেয়নি। তিনি দেশবাসির কাছে শীতবস্ত্রের আবেদন করেন ঠান্ডায় এতিমদের হাত থেকে বাচানোর জন্য।  

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার প্রথমে স্ত্রী মেহেরুন্নেসার মোহরানা বাবদ অর্থে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে চালু করেন এতিম খানা। আয় বলতে মেহেরুন্নেসার সেলায় ফোঁড়া ও শমেস ডাক্তারের চিকিৎসা থেকে আসা কিছু অর্থ।

এতিমদের রক্ষার্থে আশ্রয়হীনদের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ির ভিটা বিক্রি করে নিজেই পরিবার নিয়ে হয়ে পড়েন গৃহহীন। তিনি পল্লী চিকিৎসক পরিবার নিয়ে পড়েন বিপাকে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে উঠে আসেন এতিমখানায়। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা শিশুদের দেখা শুনা ও তাদের জন্য রান্না করেন তিন সন্ধ্যা। এখন মেহেরুন্নেসা সেখানকার একজন সেবিকা। বিনিময়ে দুটো খেতে পান মাত্র।

বর্তমানে ১৬৯ জন এতিমসহ তারা স্বামী-স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সবাই এক সাথে দিন রাত কাটান।
নিজের স্ত্রীর, ছেলে-মেয়ের, সরকাররি, বেসরকারি ও ব্যাক্তিগতভাবে যে, সহযোগিতা পায়, তা দিয়ে ছয় মাস চলে। আর ছয় মাস বিভিন্ন দোকানে বাঁকি রাখতে হয়। বছর শেষে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা ঋনের মধ্যে থাকতে হয়। সরকার ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা পেলে অন্তত এই ঋণ থেকে মুক্তি পেত ও শীতে এতিমদের কিছু গরম কাপড় কিনে দেওয়া যেত বলে জানান তিনি। বর্তমানে ৫২ শতাংশ জমির উপর এতিম খানাটি উপজেলা সদর থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পূর্বে সরেরহাট গ্রামে অবস্থিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে উপজেলায় এক হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সরকারিভাবে শীতস্ত্র বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। এগুলো আসলে এতিমদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩