শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

থোক বরাদ্দ এখন গলার কাঁটা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৪৩ পিএম

থোক বরাদ্দ এখন গলার কাঁটা

বিশেষ প্রতিনিধি
চলতি অর্থবছরের বড় অংকের থোক বরাদ্দ এখন পরিকল্পনা কমিশনের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মন্ত্রণালয়ই চাহিদা অনুযায়ী অর্থের সংস্থান না থাকায় নতুন প্রকল্প হাতে নিতে পারছে না। আবার কিছু মন্ত্রণালয়ের হাতে অনেক বেশি বরাদ্দ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না। এসব কারণে পরিকল্পনা কমিশন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে পারছে না। অননুমোদিত প্রকল্পের জন্য রাখা থোক বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে না লাগানোর কারণেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। মূলত এ বরাদ্দ খাতভিত্তিক না হয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হওয়াতেই এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে চলতি অর্থবছরে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিকল্পনা কমিশন। গলার কাঁটা হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রতি অর্থবছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ থোক আকারে অননুমোদিত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদার বিপরীতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদনের জন্য ওই ধরনের বরাদ্দ রাখে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা বা বিভাগ থোক থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য কমিশনে পাঠায়। তারপর তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। চলতি অর্থবছরে এডিপিতে ৫৪ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে অননুমোদিত প্রকল্পে থোক হিসেবে ৪ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তার মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা এখনো কোনো প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দিতে পারেনি। অর্থাৎ এ পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃতই রয়েছে। ১৮ মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ অবশিষ্ট ৩৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদা থাকার পরও নতুন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ মিলছে না। ফলে নিয়মানুযায়ী অর্থায়নের নিশ্চয়তা না থাকায় কমিশন অনেক মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগের নতুন প্রকল্প নিয়মিত ফেরত পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছর পর্যন্ত খাতভিত্তিক থোক বরাদ্দ দেয়া হতো। তখন যেকোনো সময় চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে পারত কমিশন। তবে ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ দেয়া শুরু করা হয়। তাতে করে এক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অব্যবহৃত থাকলেও তা অন্য মন্ত্রণালয়কে দেয়ার কমিশনের সুযোগ নেই। বর্তমানে নতুন প্রকল্প না থাকায় থোক থেকে বরাদ্দ খরচ করতে পারছে না এমন মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ১৮টি। তার মধ্যে গৃহায়ন ও গর্ণপূর্তের জন্য ৭৬৫ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৪১৬ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগে ৩৬২ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগে ২৮০ কোটি টাকা, ডাক ও টেলিযোগাযোগে ২১৭ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ২৩৯ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণে ১৪২ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ৮৭ কোটি টাকা, জনপ্রশাসনে ৯৫ কোটি এবং পানিসম্পদের জন্য ৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে অর্থবছরের প্রথমার্ধ পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ওসব অর্থ ব্যবহার করতে পারছে না। পাশাপাশি বরাদ্দ না থাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাকি ৩৬টির মধ্যে বেশিরভাগ মন্ত্রণালয়।
সূত্র আরো জানায়, এমটিবিএফের আওতায় বাজেট প্রস্তুতের আগে পরিকল্পনা কমিশনে খাতভিত্তিক থোক বরাদ্দ রাখা হতো। বর্তমানে অননুমোদিত প্রকল্পের থোক বরাদ্দ মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দেয়া হচ্ছে। তাতে একই খাতভুক্ত এক মন্ত্রণালয়ের থোক থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে চাহিদা থাকার পরও বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয় না। সেজন্য অননুমোদিত প্রকল্পের জন্য থোক বরাদ্দের পদ্ধতি বা নীতিতে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। এজন্য আগের মতো খাতভিত্তিক বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তাতে চাহিদা মাফিক বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পে অর্থ দেয়া সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে থোক বরাদ্দ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সাবেক সদস্য আরাস্তু খান বলেন, মূলত অর্থায়ন সংকট মোকাবেলায় অর্থ মন্ত্রণালয় থোক ব্যবস্থা চালু করে। তবে তা ঠিকভাবে অনুসরণ না করায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। থোকের অর্থ নির্দিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ না দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে রাখলে চাহিদা মাফিক বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হবে। তাতে উন্নয়ন কার্যক্রমে আরো গতি ফিরে আসবে।
অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক থোক বরাদ্দের কারণে নতুন অননুমোদিত প্রকল্প গ্রহণে সমস্যা তৈরি হওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। সেটি ভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। যেসব প্রকল্পে অর্থ সংকট রয়েছে সেগুলোতে আপৎকালীন থোক খাত থেকে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সংশোধিত এডিপিতে থোক বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করা হলে আর এ সমস্যা থাকবে না।

 

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩