শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

দমন করতে হবে শক্ত হাতে

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

দমন করতে হবে শক্ত হাতে

বাংলাদেশে একের পর এক শিক্ষক, সাহিত্যিক, প্রকাশক, ব্লগার বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি হত্যাকান্ডের পর বিদেশি ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা আল-কায়েদার পক্ষ থেকে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়েছে। আবার এসব ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠছে। এ দুটি সংস্থার সঙ্গে দেশের কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাদের ষড়যন্ত্র পাকানোর সচিত্র খবরও আসছে গণমাধ্যমে। ফলে জঙ্গিবাদ ও গুপ্তহত্যা সম্পর্কিত বাংলাদেশ পরিস্থিতি ক্রমেই এক জটিল রূপ ধারণ করছে।

এই অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত হয় যে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ওপরই নির্ভর করতে হবে। এই সরকার অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে তা দেশকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তেমনি আঞ্চলিক নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেবে। সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশ সফরকে ‘ফলপ্রসূ’ উল্লেখ করে নিশা বিসওয়াল লিখেছেন, ‘খুনি ও সন্ত্রাসীরা মৌলিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে অবমূল্যায়ন করার পাশাপাশি ভয়ের বীজ বপন করতে চায় এবং তাদের ঠেকানো আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য।’

আমাদের ভাবতে অবাক লাগে, ইসলামের নামে রাজনীতি করা কিছু দল কিভাবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে, যারা প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনি মুসলমানদের হত্যা করছে। আসলে তারা ইসলামের কথা বলে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকেই শুধু কাজে লাগাতে চায়। একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ইসরায়েলভিত্তিক একটি অনলাইন পত্রিকা ‘জেরুজালেমডটকম’ দেশটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদিকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘শিগগিরই বাংলাদেশের দরজা ইসরায়েলিদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সরকারকে উৎখাত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ সেই মেন্দির সঙ্গে নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের এক বড় নেতার বৈঠকে মিলিত হওয়ার ছবিও ছাপা হয়েছে সহযোগী দৈনিকটিতে। শাবাশ, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি! ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আরো কত অপচেষ্টাই না করা হবে!

মীরজাফরও এমনটাই করেছিল একসময়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু শুধু মুখে বললেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নতুন করে কোনো ‘কাশিমবাজার কুঠি’ যাতে সৃষ্টি হতে না পারে কিংবা কেউ যাতে আর একটিও গুপ্তহত্যা চালাতে না পারে তার ব্যবস্থা করাটাও সরকারের দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার শক্ত হাতে এসব অপচেষ্টা দমন করবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নিতে হবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩