রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭, ১২ চৈত্র ১৪২৩

দাওয়াত প্রদানে মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

দাওয়াত প্রদানে মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য

ড.মু.বিলাল হুসাইন, সোনালীনিউজ

ঢাকা : ইসলামী দাওয়াত মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে এক অফুরন্ত নেয়ামত। এ জন্য ইসলামে দাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। যে কারণে অসংখ্য নবী-রসূল এ পৃথিবীতে আগমন করেছেন। ‘দাওয়াহ’ আরবী শব্দ। যার শাব্দিক অর্থ  আহবান করা, ডাকা। পরিভাষায় সকল মানব সমাজকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রমকে ইসলামে দাওয়াত হিসেবে গণ্য করা হয়। এ দাওয়াত মানুষকে অশান্তি থেকে শান্তির দিকে, অকল্যাণ থেকে কল্যাণের দিকে, সংকীর্ণতা থেকে উদারতার দিকে, জাহান্নাম থেকে জান্নাতের দিকে এবং পশ্চাদপদতা থেকে প্রগতির দিকে ধাবিত করে। আল্লাহর সাথে মানব জাতির সম্পর্ক দৃঢ় করতে দাওয়াত সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ইসলামী দাওয়াতের কর্মসূচি মানুষের জন্য কল্যানকর। মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির মধ্য থেকে কিছু লোককে বাছাই করে দাওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। পৃথিবীর প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম (আ.) এ দাওয়াতের কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরবর্তী সময়ে হযরত নূহ, হুদ, সালিহ, ইয়াকুব, ও ইউসুফ (আ.) থেকে হযরত ঈসা (আ.) পর্যন্ত অসংখ্য নবী-রাসূলের মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত রাখেন। তাঁরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আশা বাণীগুলো সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দিতেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় হাবীবকে প্রেরণ করেছিলেন সকল জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য। ফলে মহানবী (স.) এর দাওয়াত ছিল সার্বজনীন। পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণ বিশেষ কোন গোত্র, গোষ্ঠী বা অঞ্চলের অধিবাসীকে দাওয়াত দিয়েছেন। ফলে তাদের দাওয়াত সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। মহানবী (স.) সকল জাতি, গোষ্ঠীর কাছে আল্লাহ প্রদত্ত দাওয়াত দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা এজন্যই তাকে ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন- ”আপনি বলুন, হে মানবম-লী ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল”। (সূরা আল-আ’রাফ : ১৫৮)। তাঁর অবর্তমানে দাওয়াতের এ গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয় মুসলিম উম্মাহর প্রতি। যারা কেয়ামত পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। রিসালাতের এই দায়িত্বের কারণেই মুসলিম উম্মাহকে ‘সর্বোত্তম জাতি’ বলা হয়েছে। মুসলমানরা যদি এই দায়িত্ব পালনে নিবৃত থাকে তাহলে অন্য জাতির সাথে পার্থক্য করা যাবে না। অন্য জাতির মধ্যে না আছে কোন বিশেষ সৌন্দর্য, আর না আছে বিশেষ মর্যাদা লাভের কোন কারণ। আল্লাহ তায়ালারও দেখার প্রয়োজন নেই যে, তারা দুনিয়াতে সসম্মানে বসবাস করছে, না অপমানিত অবস্থায় জীবন যাপন করছে। বরং এই দায়িত্ব ভুলে যাবার কারণে পূর্বে অন্য জাতির ন্যায় আল্লাহর অভিশাপে পতিত হবে। ইসলামী দাওয়াত সমাজ সুন্দরের অন্যতম হাতিয়ার। সমাজের সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার, পাপচার, মারামারি, দূনীতি, ব্যক্তি চরিত্র নষ্ট সহ সকল অপরাধ নির্মূলে ইসলামী দাওয়াত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে। কেননা এ দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হলো সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ। সেহেতু ব্যক্তি সকল প্রকার অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে। পাপাচারযুক্ত এ সমাজে ইসলামী দাওয়াতই মানব সমাজের কাছে আশার আলো প্রজ্জলিত করতে পারে। মুসলিম উম্মাহ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এটাই স্বভাবিক। কেননা মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নির্ভর করে এ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনার ওপর। সকল অন্যায় অত্যাচারের যাতাকল থেকে বিশ্ব মানবতাকে মুক্ত করে একটি সুখী সমৃদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব এ উম্মতেরই। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠতম উম্মত। মানুষের কল্যাণার্থেই তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে।’ (আলে ইমরান:১১০)(সংকলিত)

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭, ১২ চৈত্র ১৪২৩