মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

দুই যুগ পর ইডেনে খেলবে বাংলাদেশ!

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ১১:৩৭ এএম

দুই যুগ পর ইডেনে খেলবে বাংলাদেশ!

সোনালীনিউজ ডেস্ক : ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথমবারের মত ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যান ইডেনে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের সেই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭১ রানে হেরেছিল টাইগাররা, তবে সান্ত্বনা ছিল আতাহার আলী খানের ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ৯৫ বলে ৭৮ রান করে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেই ম্যাচের পর ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ইডেন গার্ডেন্সে খেলার সুযোগ পায়নি আর বাংলাদেশ। এবার সে সুযোগ আসছে সাকিবদের সামনে।

টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরুলে সুপার টেনে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ, আর তাহলে ১৬ মার্চের প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

টোয়েন্টি২০ ছাড়াও বাংলাদেশের সামনে টেস্ট খেলারও সম্ভাবনা রয়েছে এ মাঠে। টেস্ট ক্রিকেটে আবির্ভাবের পর ভারতের মাটিতে কোন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। আগামী বছরের আগস্টে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইডেনে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি খেলবে- বিসিবিকে ভারতীয় বোর্ড এমন সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতার প্রভাবশালী বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

যদি তা বাস্তব হয়, তাহলে ভারতের মটিতে প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, আর তাও একই ভাষাভাষীর শহরে! এর আগে ২০১৪ সালে ইডেন গার্ডেন্সের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে সৌরভ গাঙ্গুলীর আমন্ত্রণে বিসিবি আমন্ত্রনমূলক টুর্নামেন্টে দল পাঠিয়েছিল। কিন্তু ওই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচও ইডেনে হয়নি।

পরে জগমোহন ডালমিয়ার আমলে সিএবি-বিসিবি’র বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে এখনও ওই চুক্তিতে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের তরুণ ক্রিকেটাররা করছে সফর বিনিময়। কিন্তু ১৯৯০ সাল থেকে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল মাত্র ৮টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে ভারতে, আর সেখানে ইডেনে তারা খেলার সুযোগ পেয়েছে মাত্র একটি ম্যাচ, সেই ৩১ ডিসেম্বর।

একই ভাষাভাষীর সমর্থকদের সামনে খেলার ২৫ বছর ১০৬ দিন অতিক্রম হয়েছে, আরেকবার সে মাঠে খেলার সম্ভাবনা দেখা যাওয়ায় আবেগাপ্লুত সেই ম্যাচের ম্যাচসেরা আতাহার আলী খান। তিনি আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেছেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে সবার স্বপ্ন থাকে লর্ডস, মেলবোর্ন এবং ইডেন গার্ডেন্সে খেলার। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ম্যান অব দ্য ম্যাচ আমি এবং তা ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে। এখনও আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই স্মৃতি। বিশাল স্টেডিয়াম, প্রচুর দর্শক, দলকে সবার সমর্থন, হেরেও পেয়েছি সবার হাততালি। এটা কি ভোলা যায়? এখনও কলকাতায় গেলে, ওই ইনিংসের কথা মনে পড়ে।’

টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরুনোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে বাংলাদেশ সত্যিই ইয়ার অব দ্য টাইগার্স। তাই ফর্মের ধারাবাহিকতা রেখে ইডেনে বাংলাদেশকে দেখা যাবে, এমনটাই আশা করছি।’

সুপার টেনে উঠলে এই পর্বে চারটি ম্যাচের দু’টি বাংলাদেশ খেলবে ইডেনে। ১৬ মার্চ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, ২৬ মার্চ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ৬৬ হাজার আসনবিশিষ্ট ইডেন গার্ডেন্সে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেলে সেই ম্যাচে দর্শক সমর্থন পুরোটাই পাবে বাংলাদেশ, এ ধারণা আতাহার আলীর। তিনি বলেন, ‘যতটা জানি, সাকিব, মাশরাফি, তামিম, মুশফিকুরদের যথেষ্ট ভালবাসে কলকাতার ক্রিকেট ফ্যানরা। যেহেতু দীর্ঘ ২৫ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয় দল খেলবে ওখানে, তাই একই ভাষাভাষী ক্রিকেট ফ্যানদের সমর্থন তাই পুরোটাই পাবে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান বলেই ইডেন গার্ডেনে খেলতে নেমে নিজেদের ভেন্যুই মনে করবে বাংলাদেশ।’

সুপার টেনে উঠলে মহান স্বাধীনতা দিবসে (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ দল অবতীর্ণ হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ৪৫তম স্বাধীনতা দিবসটি উদ্‌যাপনেও ইডেন গার্ডেন্সে উজ্জীবিত বাংলাদেশকে দেখবে বিশ্ব, এ স্বপ্নের কথাও জানিয়েছেন আতাহার আলী।

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩