বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

দেশের বাইরে সিংগাপুরে জড়ো হচ্ছিল উগ্রবাদী জঙ্গীরা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

দেশের বাইরে সিংগাপুরে জড়ো হচ্ছিল উগ্রবাদী জঙ্গীরা

এবার আর দেশে নয়। দেশের বাইরে সিংগাপুরে জড়ো হচ্ছিল উগ্রবাদী জঙ্গীরা। বাংলাদেশেকে ইসলামী দেশ তথা একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছিল তারা। সন্দেহভাজন এসব ব্যক্তির মূল পরিকল্পনা ছিল সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া। সিংগাপুরে আটককৃতদের বয়স ২৬ থেকে ৩৪ বছর। নিজেদের দলকে তারা ‘ইসলামিক স্টেট ইন বাংলাদেশ’ (আইএসবি) নামে অবিহিত করেছিল। একসময়  মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দেয়ার ইচ্ছা ছিল তাদের। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সফর করা কঠিন মনে হওয়ায়, তারা বাংলাদেশে ফিরে সহিংস কায়দায় সরকার উৎখাতের চিন্তা করে। বাংলাদেশে আইএসের শাখা প্রতিষ্ঠা ও একে মূল আইএসের স্বঘোষিত খিলাফতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করে তারা। গত এপ্রিল মাসে তাদের আটক করা হয়। সিঙ্গাপুরে আইএসএ আইনের আওতায় এই প্রথমবারের মতো বিদেশি শ্রমিকদের কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আটক করা হলো।

জানা গেছে, সিংগাপুরে গত বছরের শেষের দিকে ২৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের একটি গোপন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে আটক করা হয় । তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বইপত্র পাওয়া গিয়েছিল। তাদেরকেও আইএসএ’র আওতায় আটক করা হয় এবং দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা এ মাসের জানুয়ারিতে প্রথম প্রকাশ করা হয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, সর্বশেষ আটককৃত ৮ জন দেশে ফিরে হামলা চালানোর জন্য সম্ভাব্য টার্গেটও ঠিক করে রেখেছিল। নিজেদের সুবিধামতো সময়ে হামলা চালানোর ইচ্ছা ছিল তাদের। তাদের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বানানোর কায়দাসংবলিত বইপত্র ছিল। বাংলাদেশে হামলা চালাতে অস্ত্র কেনার জন্য তারা অর্থও সংগ্রহ করে। তাদের কাছ থেকে অর্থও উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পরিমাণ জানানো হয়নি। তাঁদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং সরকারি ও সেনা কর্মকর্তাদের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। এসব কর্মকর্তাকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এমনকি তাঁদের কাছে যেসব অস্ত্র পাওয়া গেছে, সেসবের সঙ্গে আইএস ও আল-কায়েদা সদস্যদের ব্যবহৃত অস্ত্রের মিল রয়েছে। এ দলটির নেতা মিজানুর রহমান (৩১)। তিনি নির্মাণ খাতের এস-পাস হোল্ডার বা মাঝারি মানের দক্ষ শ্রমিক।  

গত মার্চের দিকে আইএসবি নামে গোপন সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তিনি আরও ৭ জন সদস্য জোগাড় করেন। এদের সবারই ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। তারা স্থানীয় নির্মাণ সাইট ও নৌ-শিল্পে কাজ করেন। এদের নাম হলো- লিয়াকত আলী মামুন (২৯), ইব্রাহিম সোহাগ (২৭), রুবেল মিয়া (২৬), দৌলত জামান (৩৪), শরিফুল ইসলাম (২৭), জাবেদ কায়সার ওরফে হাজী নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩০), সোহেল হাওলাদার ওরফে ইসমাইল হাওলাদার (২৯)। মিজানুরের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত এ নথিতে বাংলাদেশ সরকার ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের তালিকা ছিল, যাদের টার্গেট করা হতে পারে। এ তালিকায় ‘মিডিয়ার লোকজন’ ও ‘অবিশ্বাসীরা’ও ছিল। তার কাছে অস্ত্র ও বোমা তৈরির নথিপত্রও পাওয়া গেছে। বিপুল সংখ্যায় আইএস ও আল কায়েদার মৌলবাদী বইপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত নথিপত্রের একটির শিরোনাম ছিল ‘উই নিড ফর জিহাদ ফাইট’ (জিহাদ লড়াইয়ের জন্য আমাদের প্রয়োজন)। এসব বইপত্র ব্যবহার করে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে আইএসবি সদস্য সংগ্রহ করতো সে।

সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, ১৩ জনকে আটক করে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পাঁচজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আর আটজনকে সিঙ্গাপুরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ কোনোভাবেই জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না। এ ব্যাপারে সিঙ্গাপুরকে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, এর আগে সন্দেহভাজন ২৭ বাংলাদেশি জঙ্গিকে আটক করেছিল সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। এবারের ১৩ জনকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে এ পর্যন্ত মোট ৪০ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি জঙ্গিকে আটক করা হয়। সারা বিশে^ আইএসের নামে উগ্রবাদীরা যখন ধর্মের নামে জিহাদ ঘোষণা করেছে, তখন সিংগাপুরে বাংলাদেশী জঙ্গী-সন্ত্রাসীরা নতুন করে সংগঠন তৈরি ওতার বিস্তৃতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।

একদিকে স্বাধীনতা বিরোধীরা যেকোন উপায়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, আইএসের বাংলাদেশী সংগঠন গঠনের  চেষ্টা চলে সিংগাপুরে। সিংগাপুরে অতি সহজেই যাওয়া যায় বলে সেখান থেকে নতুন করে বাংলাদেশকে অস্থির করার উদ্যোগ নেয় সন্ত্রাসীরা। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করা যাওয়ায় বলা যায় বিপদ তেমন নেই। সবাইকে এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।  

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩