বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

দেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শুমারি হচ্ছে

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম

দেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শুমারি হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রথমবারের মতো দেশে রোহিঙ্গা শুমারির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কারণ প্রতিদিনই প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এদেশে অনুপ্রবেশ করছে। তবে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা এদেশে বসবাস করছে সরকারিভাবে তার কোনো হিসাব নেই। তবে বেসরকারি হিসাবে প্রতিদিন এদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা ৮-১০ জন। মূলত মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা ও বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক সুবিধা নিতেই রোহিঙ্গারা এদেশে আসছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিশ্চিত হতেই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শুমারি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কখনোই বড় পরিসরে শুমারি করা হয়নি। তবে অতীতে বিভিন্ন সময় ক্যাম্প বা এলাকাভিত্তিক ক্ষুদ্র আঙ্গিকে রোহিঙ্গা শুমারি করা হয়েছে। তবে এবার দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে অবস্থিত অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক শুমারি শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ইতিমধ্যে শুমারির প্রাথমিক কাজও শেষ করা হয়েছে। এখন মোট ৪৯টি প্রশ্ন নিয়ে মাঠ জরিপ শুরু হবে। বর্তমানে দেশের কক্সবাজার জেরার কুতুপালং ও নয়াপাড়ায় অবস্থিত দুটি শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ৩৩ হাজার নিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক বাস করছে। চলতি জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আগামী মার্চে জরিপের ফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে। জরিপকৃতদের শরণার্থী মর্যাদা প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা শুমারিতে রোহিঙ্গাদের সাহায্যের উৎস, পেশা, কাজ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তাসহ মোট ৪৯টি প্রশ্ন নির্বাচন করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রশ্নের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা শুমারি করা হবে। বর্তমানে মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গা ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক সুযোগ নিতে প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। তবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন ওসব শরণার্থীর একটি ডাটাবেজ প্রণয়ন ও নিয়মিত হালনাগাদ করে থাকে। 
রোহিঙ্গা শুমারি প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান ব্যুরো চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের যুগ্ম-পরিচালক মো. এমদাদুল হক জানান, প্রথমবারের মতো দেশের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও পটুয়াখালী জেলায় এ শুমারি পরিচালিত হবে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, উখিয়া, কক্সাবাজার, মহেশখালীতে শুমারির প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ ফিল্ড টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে।

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩