বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪

দেহের সুস্থতায় কিসমিস

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

দেহের সুস্থতায় কিসমিস

সোনালীনিউজ ডেস্ক

মিষ্টি জাতীয় খাবারে বহুল ব্যবহৃত অন্যতম একটি উপাদান হল কিসমিস। অনেকে পানের স্বাদ বাড়াতে সুপারির সাথেও এই ড্রাই ফ্রুটসটি খেয়ে থাকেন। তাছাড়া এমনিতে কিসমিস তেমন একটা খাওয়া হয় না। আবার অনেকের ধারণা শুধু কিসমিস খেলে দাতের ক্ষতি হয়। যদিও এটি নিতান্তই একটি ভুল ধারণা। কারণ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কিসমিস অত্যন্ত উপকারী।

কিসমিস মিষ্টি জাতীয় উপাদান, এতে চিনি রয়েছে বলে অনেকে ভাবেন কিসমিস দাতের জন্য বেশ ক্ষতিকর। কিন্তু অনেকে জানেন না চিনির পাশাপাশি কিসমিসে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড, যা মুখের ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দান করে এবং ক্যাভিটি প্রতিরোধে কাজ করে থাকে।

কিসমিসে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম, যা আমাদের পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডের ফলে অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি করে তা দূর করতে সহায়তা করে থাকে। বোরন মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমাদের মনোযোগ বৃদ্ধিতে কার্যকরী উপাদান এই বোরন।

আপনি জানেন কি মস্তিষ্কের এই কার্যকরী উপাদানটি পেতে পারেন কিসমিস খেলে। মাত্র ১০০ গ্রাম কিসমিস থেকে প্রায় ২.২ মিলিগ্রাম বোরন পাওয়া সম্ভব। তাই প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করুন। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম বেশ কার্যকরী। কিসমিসে রয়েছে পটাশিয়াম যা উচ্চ রক্তচাপ এর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করে উচ্চ রক্তচাপ এর সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে।

আমরা অনেকেই কোলেস্টোরলের সমস্যায় ভুগে থাকি। যাদের এ সমস্যা আছে তারা প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ কিসমিসে আছে স্যলুবল ফাইবার যা খারাপ কোলেস্টোরল দূর করে কোলেস্টোরলের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে থাকে। প্রায় ৪ গ্রাম স্যলুবল ফাইবার পাওয়া যায় এক কাপ কিসমিসে। প্রতিদিন কিসমিস খাওয়ার অভ্যাসে সম্ভব বার্ধক্যজনিত চোখের সমস্যার সমাধান।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেলন ম্যাকুলার ডিগ্রেডেশন প্রতিরোধ করে চোখের সুরক্ষায় কাজ করে থাকে কিসমিস। কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচাইতে বেশি কার্যকরী ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। আমাদের পরিচিত কিসমিস ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, মাত্র এক টেবিল চামচ কিসমিসে রয়েছে প্রায় এক গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও কিসমিসে রয়েছে টারটারিক অ্যাসিড যা হজমের সমস্যা দূর করে পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষা করে থাকে।

আয়রনের অভাবের কারণে রক্ত স্বল্পতার সমস্যা শুরু হয়ে থাকে। আমাদের দেহের জন্য দরকারি আয়রন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে কিসমিসে। প্রায় ৬ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে মাত্র এক কাপ কিসমিসে। যা আমাদের দেহের প্রায় ১৭% আয়রন এর ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। তাই প্রতিদিন অল্প করে কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস করুণ।

সোনালীনিউজ/এন