শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

দ্বিতীয় দফা মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের সময় ও ব্যয় ব

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

দ্বিতীয় দফা মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের সময় ও ব্যয় ব

বিশেষ প্রতিনিধি

দ্বিতীয় দফায় সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি পেল ‘মগবাজার-মৌচাক’ ফ্লাইওভার প্রকল্পের। এ প্রকল্পে প্রায় ৪৪৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এতে করে প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির দেড় বছর মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির সংশোধনী অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পসহ ৪ হাজার ৮৩০ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ টি নতুন ও ৩টি সংশোধিতসহ মোট ১০ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে একনেক বৈঠকে । প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৬০৩ কোটি ৩৮ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ৭৭৬ কোটি ১৭ লাখ ও সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৪১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

তিনি বলেন, ‘মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটির ব্যয় ও সময় বৃদ্ধির ফলে ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা থেকে এখন মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অন্যদিকে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ মেয়াদে শেষ থাকলেও এখন সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে জুন ২০১৭ সাল পর্যন্ত ।

ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মগবাজার–মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটি এখন তেজগাঁও-পান্থপথ লিংক রোড এফডিসি গেইটের পরিবর্তে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। এতে করে নতুনভাবে ৪৫০ মিটার এলাকা সংযোজন করা হচ্ছে। এ কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, নতুন করে ৪৫০ মিটার বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ ফ্লাইওভার দীর্ঘ হবে ৮.৭০ কিলোমিটার। এ ছাড়া সম্প্রতি ভূমিকম্পের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ও প্রতিবেশি দেশসমূহে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প হওয়ার কারণে বুয়েটের পরামর্শ মোতাবেক ফ্লাইওভারে পট বিয়ারিং ও এসটিইউ (শক ট্রান্সমিশন ইউনিট) সংযোজন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, টেলিফোন লাইন ও অপটিক্যাল ফাইবার অক্ষুণ্ন রাখতে গিয়ে পাইলিং দীর্ঘ ১ হাজার ৯১৫ মিটার বেড়ে গেছে।

প্রতিটি পাইল ও ফাউন্ডেশনের নকশা পৃথক পৃথকভাবে করায় প্রকল্পের পাইল সংখ্যাও বাড়ছে। এ ছাড়া পাইলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, পাইল ক্যাপ এবং সাইজ বাড়ায় ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভূ-গর্ভস্থ ইউটিলিটি পরিসেবা অক্ষুণ্ন রেখে প্রতিটি ফাউন্ডেশনের নকশা করা হয়েছে।

প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কাযক্রম হচ্ছে, প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, ৩ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭০ বর্গমিটার অবকাঠামো নির্মাণসহ দুইটি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা হবে। এ ছাড়া ৪০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ, তিনটি ল্যাপটপ ও একটি কম্পিউটার কেনা হবে।

ঢাকা শহরের যানজট সমস্যা দূর করার জন্য ৩৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে মগবাজার–মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্পটি ২০১১ সালে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রথমে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১৩। এর পরে প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত  বৃদ্ধি করা হয়। ব্যয় বৃদ্ধি ৭৭২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩