শনিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫

নতুন করে মাঠে নামছে যেসব রাজনৈতিক জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ৩০ জুলাই ২০১৮, সোমবার ০৬:৪২ পিএম

নতুন করে মাঠে নামছে যেসব রাজনৈতিক জোট

ঢাকা: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার সংলাপের আহ্বান করা হলেও এতোদিন এ বিষয়ে কোনো সুখবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে সমঝোতার একটি ইঙ্গিত লক্ষ্য করা গেছে। ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যে দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ জট খুলবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আজই ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে কঠিন সম্পর্কেরও বরফ গলে’।

তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সুযোগ ও সময় নেই। টেলিফোনে কথা হতে পারে। ফোনে যোগাযোগ করেও অনেক কঠিন সম্পর্কের বরফ গলে। বিশ্লেষকরা আওয়ামী লীগের এই অন্যতম নীতিনির্ধারকের বক্তব্যকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। কিন্তু দুই বিপরীতমুখী রাজনৈদিক দল ও জোটের মধ্যে যে একটি শীতল হওয়া বয়ে চলার ইঙ্গিত এই বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে তা সকলেই স্বীকার করবেন। 

এদিকে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী দু’মাস পর যেকোনো সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ডিসেম্বরেই ভোটগ্রহণের কথা পরিকল্পনায় রেখে এ তফসিল ঘোষণার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে ইসি। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ছোট-বড় সব ধরনের রাজনৈতিক দলই সামর্থ্যর আলোকে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। বিশেষ করে ছোট দলগুলো জোট-মহাজোটে নিজেদের শামিল করার চিন্তাও করছে। সরকার না বিরোধী জোট? কোথায় সম্পৃক্ত হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যেতে পারে সেই হিসাব-নিকাশও শুরু করেছে। ছোট-বড় সব দলই নিজেদের প্রস্তুত করছে সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও জোটভিত্তিক আন্দোলন ও নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা করছে। সে কারণে তারাও নিজেদের মতো করে এক ব্যানারের নিচে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে এ ধরনের বেশকিছু কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে। 

বিশ্লেষকরা এধরনের তৎপরতাকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে নানা ধরনের মেরুকরণ হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া সেই মেরুকরণের একটি কার্যকর দিক। এদিকে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ২০ দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে যেতে পারে বলে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মাঠে খবর বের হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। 

অন্যদিকে বাম জোট গঠনের পরপরই ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকলেও তারা প্রায় এক যুগ ধরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে মাঠে রয়েছে। কয়েক মাস আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্তৃক সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। 

প্রবীণ রাজনীতিবিদরা মির্জা ফখরুলের এই আহ্বানকে ইতিবাচক রাজনীতির হাতিয়ার বলে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্যের পথে হাঁটা শুরু করেছেন। দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, বি. চৌধুরী, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা একই প্লাটফর্মে মিলিত হয়েছেন। তারাও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে যেতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন। 

প্রবীণ এই নেতারা মনে করেন, জাতির ঘাড়ে চেপে বসা সরকারকে সরাতে হলে একক কোনো দলের পক্ষে সম্ভব নয়, সেই জন্য সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যেতে হবে। নির্দলীয় ও একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। প্রবীণ রাজনীতিকরা মনে করেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে খুলনা ও গাজীপুর মার্কা নির্বাচন হবে। সেই কারণে এ ধরনের পাতানো কোনো নির্বাচন দেয়ার সুযোগ আওয়ামী লীগকে দেয়া যাবে না। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে যার যার সাধ্যমতো মাঠে ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে হবে। এর কোনো বিকল্প দেখছেন না প্রবীণ রাজনীতিকরা। 

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে যুক্তফন্ট্র গঠিত হয়েছে। আটটি বাম দলের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। ব্যানার ও নামসর্বস্ব দল ঘোষণা দিয়ে ১৪ দলীয় জোটের সভায় হাজির হচ্ছে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। স্বঘোষিত গৃহপালিত জাতীয় পার্টিও নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছে। এরশাদও নির্বাচনের আগে তার দলের গুরুত্ব বাড়াতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। দৌড়ঝাঁপ করছেন বিদেশেও। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ এখনই এরশাদকে হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। কারণ শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আওয়ামী লীগ। সে কারণে জাতীয় পার্টি সরকার কর্তৃক নানা আশ্বাসের বৃত্তে আটকে আছে।    

যুক্তফ্রন্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠক
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গত ২০ জুলাই যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।  রাতে গুলশানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নানের বাসায় এই বৈঠক হয়। বৈঠকে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে ব্যাপারে কেউ আনুষ্ঠানিক কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় ঐক্য নিয়ে আলোচনা করতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে ঘোষণা আসতে পারে বলেও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ ওই বৈঠকে অংশ নেন বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাসদের আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার মাহী বি. চৌধুরী প্রমুখ। ২০ জুলাইয়ের ওই বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে কিছু না জানানোয় সূত্রের বরাত দিয়ে পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে যুক্তফন্ট জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে না মর্মে তথ্য দেয়া হয়। এরপর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন মাহী বি. চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান মান্না। তারা ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্তফ্রন্টের অবস্থান স্পষ্ট করেন। 

বাম গণতান্ত্রিক জোটের আত্মপ্রকাশ
২০ জুলাই যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দুদিন আগে আটটি বাম দলের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু করে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’। ১৮ জুলাই রাজধানীর পল্টনস্থ মুক্তিভবন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বাংলাদেশেরে সমাজতন্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশেরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন দল নিয়ে গঠিত হয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ।

জোটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন, জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এই সরকারকে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশনে সংস্কার আনতে বাধ্য করা হবে। আমাদের জোট ভোটসর্বস্ব জোট নয়, আমরা প্রয়োজনে ভোটে যাবো, প্রয়োজনে ভোট বয়কট করবো।’ তিনি বলেন, ‘এই সরকারের হাত থেকে আমরা দেশকে বাঁচাতে চাই। আমরা নির্বাচনে যাবো কিনা, তা বলার সময় এখানো আসেনি। আপাতত একটা কথা বলতে চাই, আমরা ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার জন্য জোট করছি না।’

এই জোটে অন্য কোনো বাম দলের আসার সুযোগ আছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘যারা পাকা বাম অর্থাৎ ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে আছে, তাদের স্থান আমাদের এখানে নেই। এদের কেউ যদি নিজেদের ভুল বুঝতে পারে, তাহলে আমরা ভেবে দেখবো। তবে আমাদের জোটে আমরা ফুলস্টপ দেইনি। এই জোটে সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ আছে।’

১৪ দলে ভিড়তে চান নাজমুল হুদা
আরো ৯টি দল ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ১৮ জুলাই বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করে ৯টি দল। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন। তবে এসব দল ব্যানার ও নামসর্বস্ব বলে জানা গেছে। এদের নিজস্ব সাংগঠনিক কোনো ভিত্তি ও জনসম্পৃক্ততা নেই। বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার চেষ্টার পর কোথাও সুযোগ না পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাইছেন। তাঁর সঙ্গে আরো যে কয়েকটি দলের কথা বলা হচ্ছেÑ রাজনৈতিক মাঠে এসব দলের কোনো অস্তিত্ব নেই। নির্বাচন কমিশনে এই সব দলের কোনো নিবন্ধন বা তালিকাও নেই। এমনকি এসব দলের পূর্ণাঙ্গ কোনো কমিটিও নেই বলে জানা গেছে। 

জাতীয় ঐক্য খুব শিগগির
জাতীয় ঐক্য নিয়ে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে একথা বলেন তিনি। তবে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখনও আসেনি বলে মনে করছেন যুক্তফ্রন্ট নেতারা।

ঐক্য চান বি. চৌধুরী
যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী শক্তি আর সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই সমস্ত রাজনৈতিক দলকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুক্তফ্রন্টের এই আহ্বান অত্যন্ত আন্তরিক। ২০ জুলাই এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।  বি. চৌধুরী বলেন, যুক্তফ্রন্ট সৃষ্টি হয়েছে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি সকল গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনি। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। খুলনা এবং গাজীপুরের মতো নির্বাচন হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। তিনি নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন গঠন, ১০০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।

বিএনপিকে সমর্থন করা হবে না, এমন আলোচনা হয়নি
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, চলমান পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনের আগে অবশ্যই সংসদ বাতিল করতে হবে। নির্বাচনে কোনো পক্ষপাত করতে পারবে না এমন একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, সে জন্যই একটা নির্দলীয় সরকার হতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার হতে হবে। আমরা এই বক্তব্যের ভিত্তিতেই সরকারের বাইরে থাকা সব দল নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের জন্য চেষ্টা করছি। যে ঐক্য হবে রাজনৈতিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে। ২০ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তফ্রন্টের বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিএনপিকে কোনো সমর্থন করা হবে না এ ধরনের কোনো আলোচনা যুক্তফ্রন্টের বৈঠকে হয়নি জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বৈঠকে এ ধরনের কোনো আলোচনাই হয়নি। অথচ এই সংবাদ কয়েকটি চ্যানেলে প্রচার করা হয়েছে, যা আমাদের সামগ্রিক রাজনীতি ও আন্দোলনকে ড্যামেজ করে দিতে পারে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপির ঐক্যের কথা আমরা যে রকম করে ভাবছি, তার সঙ্গে মিলছে। মিলছে এই অর্থে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হলে তারা একা পারবেন না। এ জন্য বৃহত্তর ঐক্য চাইছে। আমরাও মনে করি, আমরা যারা চাইছি তারাও এই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে একা পারব না। এখানে ঐক্যের একটা পয়েন্ট আছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ১২ জন এমপি নিয়ে যদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, তাহলে আমরা তো ৫০-৬০ আসনে জিততে পারি, আমাদেরও প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। আমরা বলি না যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী করতে হবে। কিন্তু নিশ্চিত করতে হবে যে, আমরা ক্ষমতায় ভারসাম্য আনব। এটা নিয়ে আমরা ভাবছি। প্রক্রিয়াগতভাবে কী কী হতে পারে।

ভারসাম্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য
বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী বলেছেন, আমরা ভারসাম্যপূর্ণ সরকার চাই। এটা নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যাতে এককভাবে ক্ষমতায় না যায়। ১৫০টি আসনে নির্বাচন করতে হবে এমন কোনো কথা কাউকে বলিনি। ২০ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহী বি. চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। এ অবস্থায় ঐক্যের ঘোষণা কবে আসতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে মাহী বি. চৌধুরী বলেন, সময় দিয়ে আসলে কোনো ঐক্য হয় না। ঐক্য একটা প্রক্রিয়ার বিষয়। এই ঐক্য প্রক্রিয়াটা চলবে। আমরা সবাই ঐক্যের ব্যাপারে ইতিবাচক। একটা জায়গায় আমরা একমত হয়েছি, ভারসাম্যের ভিত্তিতে ঐক্য হতে হবে। ঐক্যটা হবে বৃহত্তর। 

সোনালীনিউজ/জেএ