বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

নতুন সম্ভাবনা উপকূলে খাঁচায় মাছ চাষ

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

নতুন সম্ভাবনা উপকূলে খাঁচায় মাছ চাষ

বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনা ও পটুয়াখালী উপকূলীয় এলাকায় ‘খাঁচায় মাছ চাষ’র জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়ছে। এ পদ্ধতি মৎস্য চাষের নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে দিচ্ছে। নদীপ্রধান উপকূলীয় অঞ্চলে বিস্তৃত রয়েছে বলেশ্বর, বিষখালী, পায়রা, বুড়িশ্বর, আন্ধার-মানিক, আগুনমুখো নদীসহ প্রচুর ছোটবড় জলাশয়, প্রায় হাজার খানেক ছোটবড় খাল। এ অঞ্চলের বেশীরভাগ অধিবাসী জীবিকা নির্ভর করে মৎস্য সম্পর্কিত নানা পেশায়। গড়ে উঠেছে বৃহৎ মৎস্য শিল্প। জেলে-চাষিদের মাঝে সমাদৃত এই পদ্ধতিটি হতে পারে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বপ্নপূরণের চাবি-কাঠি।
বরগুনা ও পটুয়াখালীর প্রতিটি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর ‘খাঁচায় মাছ চাষ প্রকল্প’ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই স্থানীয় পদ্ধতিতে খাঁচা তৈরি করে নিজ উদ্যোগেও প্রকল্প পরিচালনা করছেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে অনেক বেকার যুবক এমনকি গৃহিনীরাও।
সম্প্রতি বরগুনার আমুয়া খালে এধরনের একটি মাছ চাষ প্রকল্প নজর কেড়েছে এলাকাবাসীর। স্থানীয় মৎসচাষী গোলাম মোর্শেদ স্বপন ৪০টি খাঁচা নিয়ে গড়ে তুলেছেন মুক্ত জলাশয়ে খাঁচায় মাছ চাষের প্রকল্প। গোলাম মোর্শেদ স্বপন জানান, খোলা জলাশয়ে মাছ চাষের এই পদ্ধতিতে ২০০ বর্গফুটের প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ১৬ হাজার টাকা। ১০ বছর টেকসই প্রতিটি খাঁচায় ১০ হাজার তেলাপিয়া মাছ, চার মাস মেয়াদে বছরে তিনবার চাষ করা যায়। খাঁচা প্রতি চার মাসে ২৫০ কেজি মাছ উৎপাদন করতে মোট খরচ হয় ১৭ হাজার টাকা। প্রথম বার ১০ হাজার টাকা লাভের পাশাপাশি পরবর্তী প্রতিবার ২৫ হাজার টাকারও বেশি লাভ থাকে এই মাছ চাষ পদ্ধতিতে। শুধুমাত্র তেলাপিয়া নয় নদী ও পুকুরের সকল প্রজাতির মাছ চাষ করা যায় এ ধরনের নেটের ভিতরে।
মৎস্য বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা আলফাজ উদ্দীন শেখ জানান, পুকুরের তুলনায় খাঁচায় মাছ চাষ করলে একদিকে যেমন খাবার সাশ্রয় হয় তেমন মাছের বৃদ্ধিও হয় প্রায় দেড়গুণ। প্রকৃতিক পানির সরবরাহ এবং স্রোতের কারণে মাছের রোগ ব্যাধিও প্রায় হয়না বললেই চলে। ফলে চাষিদের যেমন বাড়তি সার ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়না তেমনি মাছের মৃত্যু ঝুঁকিও থাকে খুব কম।
বরগুনার আমতলীর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আধুনিক সফল মৎস্যচাষি জিএম দেলোয়ার হোসেন জানান, সরকারি তরফ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতা পেলে এই মাছ চাষ পদ্ধতি দূর করতে পারে এলাকাবাসীর দারিদ্র। নদীতে মাছের ডিম দেবার মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরে লক্ষাধিক জেলে। জেলেদেরকে এই খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতির আওতায় আনলে একদিকে যেমন জেলেদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হবে অন্যদিকে রক্ষা পাবে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা মাছ নিধন।
সোনালীনিউজ/এমআইটি

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩